Home / বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি / কেমন হবে ভবিষ্যতের বিমানগুলো?

কেমন হবে ভবিষ্যতের বিমানগুলো?

মানবসভ্যতা একুশ শতকে পা দিতে না দিতেই ছোটবড় সত্তরের বেশি বিমানদূর্ঘটনা দেখেছে। অকালে ঝরে গেছে অনেকগুলো তাজা প্রাণ। সম্প্রতি মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৭৭-২০০ নিখোঁজ হয় ২৩৯ জন যাত্রী নিয়ে, যার মাঝে চীনের স্বনামধন্য ১৯ জন ক্যালিগ্রাফি শিল্পীও ছিলেন। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত দূর্ঘটনা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে আকাশপথকে নিরাপদ রাখতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি দূর করতে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা বাড়াতে, সেই সাথে আকাশপথকে সাধারণের নাগালের মধ্যে আনতে অনেক অনেক কাজ চলছে। আসুন দেখে নেই এমনই কিছু কাজের নমুনা, সেই সাথে জেনে নেই কেমন হতে পারে ভবিষ্যতের বিমান।

পাখায় অবস্থান
কাভারের ছবিটি এই বিমানের উদাহরণ। এখন যেমন বিমানে যাত্রীদের বসার জায়গা আর বিমানের দুটো পাখা একদম আলাদা, ভবিষ্যতের এই বিমানে তেমনটা থাকবে না। তখন পাখার মধ্যেও যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা থাকবে। পাখাটা এভাবে তৈরি করার কারণে কম জ্বালানি ব্যবহার করেই প্লেন চালানো যাবে। অর্থাৎ বিমানের আকারটা এখানে মুখ্য।

সবুজ এভিয়েশন
বিশ্বের মোট নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইডের প্রায় তিন শতাংশ আসে বিমান চলাচল থেকে। ইউরোপীয় কমিশনের কাছে পরিমাণটা অনেক বেশি। তাই ২০৫০ সালের মধ্যে সংখ্যাটা ২৫ শতাংশ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে তারা। এ জন্য প্রয়োজন নতুন ধরণের বিমান। বিশেষজ্ঞরা সেই চেষ্টাই করছেন৷ এই যেমন ছবির প্লেনটি বিদ্যুতের সাহায্যে আকাশে ওড়ে।

জেট ইঞ্জিনের বদলে খোলা ‘রোটর’
আধুনিক জেট ইঞ্জিনের চেয়েও বেশি দক্ষ খোলা ‘রোটর’। জার্মান এভিয়েশন সেন্টারের হিসেব বলছে, রোটর ব্যবহার করে ২০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি ব্যবহার কমানো যায়।

রোটরের সমস্যা
জ্বালানির ব্যবহার কমানো গেলেও রোটরের দুটো সমস্যা আছে। এক, এর ফলে এখনকার বিমানের চেয়ে রোটর সমৃদ্ধ বিমানের গতি ধীর হয়ে যাবে। আর দু’নম্বর সমস্যা হলো, রোটরে শব্দ হয় অনেক।

সৌরশক্তিচালিত বিমান
‘সোলার ইমপালস’ নামের এই বিমানটি নিয়ে ইতিমধ্যে অনেক আলোচনা হয়েছে। কারণ এটা চলে সূর্যের আলোর উপর নির্ভর করে। বিমানটি এখনো পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সমস্যা হলো, প্লেনটি মাত্র ৭০ কিলোমিটার বেগে চলতে পারে। আর কোনো পণ্য বহন করতে পারে না এটি।

‘বাইপ্লেন’-এ ফিরে যাওয়া
বাইপ্লেন মানেই হলো যার দুটো পাখা একটা আরেকটার উপর থাকে। লুফৎহানসার এই বিমানটিও দেখতে অনেকটা সেরকম। প্লেনের এমন ডানা বিমানকে দ্রুতগতি ও সাশ্রয়ীভাবে চলতে সহায়তা করে।

দ্রুতগতির প্লেন
যাঁদের আকাশে বেশি সময় দেয়ার উপায় নেই, যাঁরা দ্রুত এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে চান তাঁদের জন্য জার্মান এভিয়েশন সেন্টারের এই ‘স্পেসলাইনার’ বিমান। রকেট ইঞ্জিনচালিত এই প্লেনের কারণে ইউরোপ থেকে অস্ট্রেলিয়া যেতে মাত্র দেড় ঘণ্টা লাগতে পারে। ২০৫০ সাল নাগাদ সেটা সম্ভব হতে পারে।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ