Home / রাজনীতি / সোনার বাংলা শশ্মানে পরিনত হচ্ছে: কর্নেল অলি

সোনার বাংলা শশ্মানে পরিনত হচ্ছে: কর্নেল অলি

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল অলি আহমদ, বীর বিক্রম (অবঃ), এম.পি এক বিবৃতিতে বলেছেন, বিগত কয়েকমাস যাবত প্রত্যকটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারন মানুষ আতঙ্ক ও মৃত্যুপূরিতে বসবাস করছে। সোনার বাংলা আজ শশ্মানে পরিনত হচ্ছে। ভয় প্রদর্শন করে মানুষের মন জয় করা সম্ভব নয়। প্রতিবন্ধকতা যত বড় তা অতিক্রম করার গৌরবও তত বড়, দেশকে রক্ষা করুন। বর্তমান প্রতিবন্ধকতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সরকারকে বা অন্য কাউকে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। এই অসহনীয় অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার এক মাত্র পন্থা হচ্ছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত করা। এই মুহুর্তে প্রয়োজন দেশের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনে নিজের পদ পদবির কথা চিন্তা না করে এগিয়ে আসা।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দ্যেশে তিনি বলেন, এই মুহুর্তে দল এবং নিজের কথা চিন্তা না করে, দেশের অবস্থা অনুধাবন করুন। অনেকে আমরা স্বাধীনতার কথা বলে মনিুষকে বিভ্রানত্ম করি । কিন্তু প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতার সম্ভাবনা গুলি শুষ্ঠ ভাবে কাজে লাগায়ই না। আমাদের মনে রাখতে হবে, ইতিপুর্বেও বহু রাজনৈতিক নেতা চূড়ান্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্ঠা করেছেন। কিন্তু তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। আমরা অনেক রক্ত দিয়েছি আর নয়। তাবেদারদেরকে দিয়ে আর যাই হোক না কেন, দেশ পরিচালনা সম্ভব নয়। সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে অপশাসনের বিরম্নদ্ধে শান্তিপূর্ণ ভাবে রাসত্মায় দাঁড়াতে হবে। মার্চ ফর ডেমোক্রেসি সফল করতে হবে।

oli-ahmed-300_34654কর্নেল অলি বলেন, দেশকে বাচাঁতে এক দলীয় নির্বাচন বন্ধ করুন। দেশ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। অনেকে চায় না বাংলাদেশ একটি শক্তি-শালী দেশ হিসেবে গড়ে উঠুক। এদেশে সমস্যা সৃষ্টি করে, তারা ফায়দা লুটতে চায়। রাজনীতিবীদদের অনেকেই ঐ দেশ গুলির এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এখন নিজের ছায়ার সঙ্গে নির্বাচনী যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির কোনো প্রার্থী এই প্রহসনের নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন নি। কারন সকল দলের প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নাই। রাজনৈতিক পরিবেশ নাই। সর্বপরি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হচ্ছে সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রীত একটি নির্বাচন। দেশ-বিদেশে এ ধরনের নির্বাচন কারো কাছ থেকে গ্রহন যোগ্যতা পাবে না। এই নির্বাচনে অংশ গ্রহন আত্মহত্যার শামিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের তোয়াক্কা করছে না। জনগনের মনে প্রশ্ন বর্তমান আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কাদের নিয়ে গঠিত হয়েছে? এদের প্রায় অনেকে ১৯৭৪ সালের রক্ষীবাহিনী ও লাল বাহিনীর ভূমিকায় অবর্তীর্ণ হয়েছে।

কর্নেল অলি বলেন, যে নির্বাচনে বিরোধী দলের কোনো প্রতিদন্ধি নাই, সুতরাং জনমনে প্রশ্ন জাগে, তাহলে এত টাকা খরচ করে সশস্র বাহিনীকে মাঠে নামানোর কারন কি? আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, সশস্র বাহিনীর ভয় দেখিয়ে যৌথ বাহিনী দিয়ে সরকার বিরোধীদের গ্রেফতার করা ও নিধন করা। ইতিমধ্যে ৬০ হাজারের বেশি বিরোধী দলের নেতা কর্মী ও সমর্থকদের জেলে নিক্ষেপ করা হয়েছে। লক্ষাধীক বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরম্নদ্ধে মামলা হয়েছে। তার পরও কি ক্ষমতায় টিকে থাকার কোনো নিশ্চয়তা আছে? দেশের জনগনকে কষ্ট না দিয়ে অবশষ্টি ১৪৬ টি আসন নিজেদের মধ্যে মহিলা আসনের ন্যায় বন্টন করে নিলে, নির্বাচনের আর কোনো প্রয়োজন হতো না। জাতিকে অহেতুক স্বপ্ন দেখানো বন্ধ করে, বাসত্মবতায় ফিরে আসুন। নিজেদের মধ্যে আর বিভক্তি নয়, জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য পদক্ষেপ গ্রহন করুন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ