Home / রাজনীতি / জিরো টলারেন্সে সরকার

জিরো টলারেন্সে সরকার

২৯ ডিসেম্বরকে ঘিরে রাজধানী ঢাকায় জিরো টলারেন্সে থাকবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। নগরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। ঢাকাকে ঘিরে দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৩০ সহস্রাধিক সদস্য। এ ছাড়া নামানো হবে বিজিবিকে। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাড়ির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কাউকে সেখানে প্রবেশ বা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। বাসভবনের সামনে থেকে সাবেক এমপি সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের এমন অবস্থান বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়েও। অবশ্য পুলিশ বলছে, বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্যই বাড়তি পুলিশের এই অবস্থান। বিএনপির পক্ষ থেকে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক গতকাল পুলিশের কাছে আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি। তবে সভা-সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টিই ভাবছে পুলিশ। পুলিশ কমিশনার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের গতকাল বলেছেন, ২৯ ডিসেম্বর নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করার সময় আসেনি।
তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো মনে করছে, ওইদিন বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে রাজধানীতে। গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, হেফাজত যেভাবে মতিঝিলে তাণ্ডব দেখিয়েছিল, তার চেয়েও ভয়াবহ সহিংস পরিকল্পনা রয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর। এ কারণে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে রাজধানী ঘিরে। সমাবেশ করতে না পারায় হেফাজতে ইসলামও ২৯ ডিসেম্বরকে টার্গেট করেছে। ঢাকা অভিযাত্রাকে সামনে রেখে তারা ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র জানায়, পুলিশ কর্মকর্তারা ২৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচিকে আখেরি আন্দোলন হিসেবেই ভাবছেন। তারা মনে করছেন, শেষ আন্দোলনে ১৮ দলের নেতা-কর্মীরা অল আউট মাঠে থাকার চেষ্টা করবেন। সহিংসতার ব্যাপকতাও বাড়বে। এসব কারণে বিশেষ গুরুত্ব পাওয়া এ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশ নানা পরিকল্পনা নিয়েছে। ২৯ ডিসেম্বরের তিন দিন আগেই রাজধানীর পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রবেশপথে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসিয়ে বিশেষ চেকপোস্ট চালু হচ্ছে। পুলিশের সূত্রগুলো বলছে, নাশকতাসহ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পুলিশের জলকামান, গ্যাসকামান, আর্মড ভেহিক্যাল, পেপার স্প্রেসহ সব ধরনের অত্যাধুনিক সরঞ্জামসহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে কয়েক প্লাটুন পুলিশ। যে কোনো পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিটের মধ্যে প্রস্তুত রাখা পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে।
সূত্র জানায়, হেফাজতে ইসলামের নেতা ও তাদের মাদ্রাসাগুলোর দিকে দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। ঢাকার বাইরের সহিংসপ্রবণ জেলাগুলোয় চলছে বিশেষ নজরদারি। ওইসব অঞ্চলে যৌথ বাহিনীর অভিযান শক্তিশালী করা হয়েছে। সূত্র জানায়, কর্মসূচির দিন রাজধানীতে যেন কোনোভাবেই আন্দোলনকারীরা প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য প্রবেশপথের আগেই তিন স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকার প্রবেশপথসংলগ্ন জেলাগুলোর প্রতি পুলিশের নজরদারি থাকবে সবচেয়ে বেশি। আবাসিক হোটেলগুলো আজকালের মধ্যেই বোর্ডারশূন্য করা হবে। অতীত আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকেই পুলিশ এমন কৌশল নিয়েছে। সূত্র জানায়, নাশকতার আশঙ্কায় বঙ্গভবন, সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট, সচিবালয়, গুলশান-বারিধারার কূটনৈতিক জোন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আবাসিক এলাকা, সংসদ ভবন, জেলখানা, রমনা জাজেস কমপ্লেক্স, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ওয়াসাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় পুলিশ-র‌্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাবলয়। আজ থেকে নেওয়া সারা দেশের এ নিরাপত্তাব্যবস্থা পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। এ ছাড়া নাশকতা মামলার আসামিদের তালিকা নিয়ে পুলিশের অভিযান চলছেই। ঢাকায় বহিরাগতদের প্রতিও পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাজপথে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসিয়ে চলছে তল্লাশি।
অনুমতির আবেদন ও চেয়ারপারসনের বাসভবনে অতিরিক্ত পুলিশ
রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ির আশপাশে মঙ্গলবার রাত থেকেই পুলিশি পাহারা বাড়ানো হয়েছে। রাতে বাংলামোটরে পুলিশবাহী গাড়িতে পেট্রলবোমা হামলায় এক কনস্টেবলের মৃত্যুর পর গভীর রাতে গুলশানের ৮৬ নম্বর সড়কে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাড়ি ‘ফিরোজা’র সামনে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গতকাল দিনভর পুলিশের কড়াকড়িতে কেউ খালেদা জিয়ার বাসভবনে প্রবেশ করতে পারেননি। সাধারণের চলাচলও সীমিত করা হয়েছে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক চেয়ারপারসনের বাসভবনের সামনে গেলে পুলিশের তাড়া খেয়ে সরে পড়েন। একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে গুলশানের দলীয় কার্যালয়ে। দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন সাবেক এমপি সাখাওয়াত হোসেন বকুল। গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে মিন্টো রোডে তাদের দফতরে নিয়ে গেছে। এ ছাড়া বিএনপি নেতা ড. আসাদুজ্জামান রিপনের গাড়ির চাবি নিয়ে গেছে পুলিশ। কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি চেয়ারপারসনের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর ও সাবেক আইজি আবদুল কাইয়ুমকে। খালেদা জিয়ার বাসভবনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের বিষয়ে গতকাল পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ বলেন, পুলিশের কাজ নগরবাসীকে নিরাপত্তা দেওয়া। সামর্থ্য অনুযায়ী পুলিশ সে চেষ্টাই করছে। কোনো হুমকির কারণে খালেদা জিয়ার বাড়ির নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে কি না-জানতে চাইলে বেনজীর বলেন, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশের কর্তব্য।
গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার নূরুল আলম জানান, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তার বাসায় আগের চেয়ে দ্বিগুণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূলত বিরোধীদলীয় নেতার নিরাপত্তার জন্যই এ ব্যবস্থা। সেখানে সাধারণ পোশাকেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি। গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মামলার আসামি পেলে পুলিশ অবশ্যই গ্রেফতার করবে। এদিকে ২৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচি সম্পর্কে জানিয়ে সরকারের ‘সহযোগিতা’ চেয়ে গতকাল সকালে মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে একটি চিঠি পৌঁছে দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ২৯ ডিসেম্বর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে ‘গণতন্ত্র অভিযাত্রা’ কর্মসূচি হবে। এতে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকবেন। আমরা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে এ কর্মসূচি সফল করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছি। সেদিন সমাবেশে মাইক ব্যবহারের জন্যও অনুমতি চাওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে। সরকারের ‘সহযোগিতা’ চেয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছেও আলাদা চিঠি দেওয়া হচ্ছে বলে ফারুক জানান।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ