Home / আন্তর্জাতিক / ক্ষমা চাওয়া উচিত, বললেন পাকিস্তানের বিশিষ্ট নাগরিকরা
ক্ষমা চাওয়া উচিত, বললেন পাকিস্তানের বিশিষ্ট নাগরিকরা

ক্ষমা চাওয়া উচিত, বললেন পাকিস্তানের বিশিষ্ট নাগরিকরা

একাত্তরে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ড এবং জুলুম বৈষম্যের জন্য পাকিস্তানকে বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। পাকিস্তানের বিশিষ্ট নাগরিকরা এ কথা বলেছেন।

শুক্রবার পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান ফ্রি মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের (সাফমা) এক আলোচনা সভায় তারা এমন মন্তব্য করেন। সভার বরাত দিয়ে দেশটির প্রভাবশালী ইংরেজি পত্রিকা ‘দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’ এ কথা জানিয়েছে।

‘ঢাকার পতন : আমাদের উচিত এই অন্যায়ের জন্য বাঙালিদের কাছে ক্ষমা চাওয়া’ শিরোনামের ওই আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে আলোচকেরা ‘৭১-এর ভূমিকা নিয়ে স্পষ্টভাবে পাকিস্তানকেই দায়ী করেছেন।

সাফমা’র সাংবাদিক খালিদ চৌধুরী বলেন, “১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তৎকালীনপূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের ওপর পশ্চিম পাকিস্তান যে নির্যাতন ও বৈষম্যেরখগড় চালিয়েছিল তা খুবই অমানবিক।”

তিনি মনে করেন, বিশ্বের খুব কম দেশই ধর্মের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর ঠিক এ কারণে বাংলাদেশ যে নির্মম বৈষম্যের শিকার হয়েছে, তার জন্য পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত।

সাফমার মহাসচিব ইমতিয়াজ আলম একাত্তরে যুদ্ধকালীন সময়ে পাক সেনারা যে আইন বহির্ভূত অন্যায় ও অবৈধ কাজ করেছে, সে বিষয়ে পাকিস্তান কর্তৃক বিচার বিভাগীয় তদন্ত বিষয়ক হামুদুর রহমান কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, “হামুদুর রহমান কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করা উচিত এবং পাঠ্যভুক্ত করে জানানো উচিত।”

বাংলাদেশিরা পাকিস্তানের অন্যায় বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পূর্ব পাকিস্তানের একজন বাঙালিও সে সময় মুখ্যসচিব ছিলেন না।”

জামায়াতে ইসলামির সমালোচনা করে ইমতিয়াজ আলম আরও বলেন, “জামায়াতে ইসলামী ছিল ইয়াহিয়া খানের দোসর। বাঙালিদের ওপর সামরিক অভিযানের জন্য তারাই দায়ী।”

তিনি বলেন, “এটা অত্যন্ত দুঃখজনক, পাকিস্তান ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি। পশ্চিম পাকিস্তানি জনগণের হাতে বাংলাদেশিরা যে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তার জন্য আমাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।”

এদিকে সাফমার ওই আলোচনায় কনফারেন্স কলের মাধ্যমে অংশ নেন বাংলাদেশি সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ।

রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রধান ইমরান খানের বক্তব্যে বিব্রত বাংলাদেশ। পাকিস্তানের প্রতি অনুগত থাকায় কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে বলে ইমরান খান যে মন্তব্য করেছেন, তার জন্য তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। এমনটাই দাবি বাংলাদেশের।”

পাকিস্তানের আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির (এএনপি) কেন্দ্রীয় মহাসচিব ইহসানউয়িনি বলেন, সেসময় সেনাবাহিনী ও বুর্জুয়ারাতৎকালীন পাকিস্তানে একনায়কতন্ত্র চেয়েছিল। কিন্তু বাঙালিদের দাবি ছিল গণতন্ত্র।

একাত্তরে বাংলাদেশে সেনা অভিযানের দায়দায়িত্ব পাকিস্তানের উল্লেখ করে তিনি বলেন, “১৯৭০-এ বাঙালিদের ওপর সেনা অভিযানের দায় তৎকালীন পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতাদেরই।

পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে মিল খুবই সামান্য। কিন্তুদেশভাগের জন্য পূর্ব পাকিস্তানকে দায়ী করা হয়। এটি কোনোমতেই ঠিক নয়।”

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ