Home / রাজনীতি / বসন্তের কোকিলরা নিরাপদে

বসন্তের কোকিলরা নিরাপদে

নৈরাজ্য প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েও মাঠে নামেননি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বরং রাজধানী ঢাকাসহ জেলা শহরগুলোতে নিরাপদ দূরত্বে রয়েছেন তারা। সুদিনে সুবিধাভোগী বসন্তের কোকিলরা সটকে পড়লেও বঞ্চিতরা গ্রাম-শহরে মার খাচ্ছে।
জামায়াতের মুক্তাঞ্চল বলে পরিচিত সুন্দরবন লাগোয়া জেলা সাতক্ষীরার ইউনিয়ন পর্যায়ের এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, দলের নেতারা আমাদের বাঘের মুখে রেখে নিজেরা নিরাপদে অবস্থান করছেন। সরকারের পাঁচ বছরে অবহেলিত ওই নেতা আরও জানান, নিজেদের কাছে অর্থ-কড়িও নেই যে গ্রাম থেকে কোনো শহরে পালিয়ে আশ্রয় নেব।
গত ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সংগঠনের ডজনখানেক কেন্দ্রীয় নেতা হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, বিজয় দিবসের পরদিন থেকে মাঠে নামবেন। নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবেন। কিন্তু তাদের ওই ঘোষণা ‘বজ আঁটুনি ফসকা গেরো’ বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
গতকাল জামায়াত-শিবিরের নিয়ন্ত্রিত এলাকার আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানান, কেন্দ্রীয় কোনো নেতা দূরে থাক, এলাকার এমপিরাই তাদের পাশে যাননি। কেন্দ্রীয় নেতাদের মাঠে নামার ঘোষণার আগে বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন আর সহ্য করা হবে না। এখন থেকে পাল্টা আঘাত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দলের নির্যাতিত নেতাকর্মীরা আশাবাদী হলেও তা মিইয়ে গেছে। যৌথবাহিনীর অভিযানের মধ্যেই গতকাল প্রকাশ্যে বেলা আড়াইটায় জামায়াতের ক্যাডাররা কুপিয়ে হত্যা করেছে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিনকে। ওই এলাকার এমপি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আফম রুহুল হক।
গত দু’মাসে সাতক্ষীরায় জামায়াতের হাতে নিহত হয়েছে আওয়ামী লীগের ১৬ জন নেতাকর্মী। লুট হয়েছে ২ হাজারের বেশি বাড়ি। আর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৩শ’ নেতাকর্মীর ঘরবাড়ি। রাতের আঁধার ঘনিয়ে এলেই রামদা, ফলা, গরু জবাই করার ছুরিসহ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে জামায়াত ক্যাডাররা আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকসহ সংখ্যালঘুদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে লুটপাট করছে।
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেবহাটা-কালীগঞ্জ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এমপি অধ্যাপক ডা. আফম রুহুল হক গত চার মাসের মধ্যে সাতক্ষীরায় গিয়েছিলেন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়। ওই এলাকার নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র জমা দিতে তিনি ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে গিয়ে সার্কিট হাউসে ওঠেন। সাতদিন সেখানে অবস্থান করে আবার হেলিকপ্টারে ফিরে আসেন ঢাকায়। সাতক্ষীরা শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে নিজের নির্বাচনী এলাকায়ও যাননি তিনি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয় নিশ্চিত করে এখন অবস্থান করছেন নিরাপদ দূরত্বে।
সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান এবার মনোনয়ন পাননি। মনোবেদনায় এলাকা ছেড়েছেন তিনিও। মোস্তাক আহমেদ রবিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সাতক্ষীরা-২ সদর আসনে। নির্যাতিত নেতাকর্মীদের কোনো খবর রাখেন না তিনিও। সাতক্ষীরা জেলা সদরে অবস্থান করেও নিহত কর্মীদের স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়া দূরে থাক, আহত কর্মীদের হাসপাতালে দেখতেও যাননি-এ অভিযোগ এলাকার কর্মীদের।
তাদের অবস্থা অনেকটা হালছাড়া ও পালছেঁড়া নৌকার মতো দিশেহারা বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থানীয় নেতারা। সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ বলেন, সরকারের পাঁচ বছরে মন্ত্রী রুহুল হক আমাদের সঙ্গে কথাও বলেননি। তিনি ছিলেন জামায়াত-বিএনপি নিয়ে। এখন আমরা যমের মুখে দাঁড়িয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছি। কিন্তু বসন্তের কোকিল রুহুল হকরা নিরাপদে অবস্থান করছেন। তারা এলাকায় আসেন না। নেতাকর্মীদের খোঁজও নেন না।
এদিকে জয়পুরহাটে তওবা পড়িয়ে কয়েকজনক আওয়ামী লীগ ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। একের পর এক জামায়াতি আক্রমণে বিপর্যস্ত জয়পুরহাটের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ স্বপন বিভাগের অন্য জেলা দূরে থাক, নিজের জেলা জয়পুরহাটেই নেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি আওয়ামী লীগ। দলের এমপিরা চুপিসারে কেউ জেলা শহরে, কেউ ঢাকায় অবস্থান করছেন। একই অবস্থা বগুড়ায়ও। নেতারা থাকছেন পালিয়ে আর কর্মীরা রয়েছে তোপের মুখে।
রাজশাহীতেও মাঠে নামেননি কোনো নেতা। কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠে নামার হুঙ্কার দিলেও বাস্তবে তারা নির্ভর করছেন পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ