Home / রাজনীতি / নেতাকর্মী গুমের ঘটনায় উদ্বিগ্ন বিএনপি

নেতাকর্মী গুমের ঘটনায় উদ্বিগ্ন বিএনপি

আন্দোলনরত ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের গুমের ঘটনায় উদ্বিগ্ন বিএনপি। দলটির অভিযোগ, গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জোটের তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এহসানুল কবিরকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের গভীর রাতে বারিধারার বাসা থেকে র্যাব সদস্যরা তুলে নিয়ে যায় বলে তার স্ত্রী নাসরিন বেগম গতকাল অভিযোগ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, গত ১১ ডিসেম্বর রাত ২টার দিকে মিরপুরে ভাইয়ের বাসা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ঢাকা মেট্রো-৫০৭০ মাইক্রোবাসে (সিলভার কালার) তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সূত্রাপুর থানা ছাত্রদলের সভাপতি সেলিম রেজা পিন্টুকে। তারপর থেকে আর পিন্টুর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে পিন্টুর ভাই হাসনাইন রেজা পল্লবী থানায় একটি জিডি করেছেন। দলটি অভিযোগ করছে, খুন ও গুমের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
গত ২৯ নভেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে থেকে নিখোঁজ নেতাকর্মীরা হচ্ছেন-সূত্রাপুর থানা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সম্রাট, ৭৯নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি খালিদ হাসান সোহেল, ৭৮নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খান, একই ওয়ার্ডের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব ও ৮০নং ওয়ার্ড শ্রমিক দল সভাপতি মিঠু। এর মধ্যে তিনজনকে ১৫ ডিসেম্বর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মুন্সীগঞ্জে পাওয়া গেছে এবং তাদেরকে মুখ খুলতে নিষেধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মহানগর বিএনপি। তারা হলেন ৭৮নং ওয়ার্ড ছাত্রদল সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খান, একই ওয়ার্ডের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব ও ৮০নং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি মিঠু। এর মধ্যে সম্রাট ও সোহেলকে এখনও পাওয়া যায়নি।
এহসানুল কবিরের স্ত্রী নাসরিন বেগম বলেন, সোমবার রাত সাড়ে ১২টায় র্যাবের পোশাক পরা সদস্যরা আমার বাসায় প্রবেশ করে তাকে তুলে নিয়ে গেছে। তার মোবাইল টেলিফোনও নিয়ে গেছে। ‘আমি তাদের জিজ্ঞাসা করি, আপনারা তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন। তখন তারা বলেছে, র্যাব-১ নিয়ে যাচ্ছি। গতকাল আমি খোঁজ করে আমার স্বামীর কোনো সন্ধান পাইনি। তিনি জানান, গুলশান থানায় জিডি করতে গেলেও তারা জিডি গ্রহণ করেনি। এহসানুল কবির দীর্ঘদিন বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ছাড়াও সহ-দফতর সম্পাদক পদে দায়িত্বে ছিলেন। ’৯৬ সালের পর তিনি খালেদা জিয়ার প্রেস সচিবের দায়িত্বও পালন করেন। ১-১১-এর কয়েক বছর আগ থেকে তিনি রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত এক মাসে তাদের জোটের তিন শতাধিক নেতাকর্মী গুম হয়েছে। তাদের অভিযোগ র্যাবকে সরকার রক্ষীবাহিনীর মতো ব্যবহার করছে। বাড়ি বাড়ি তল্লাশির নামে এসব নেতাকে তুলে নিয়ে গেছে সাদা পোশাকের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, র্যাব ও পুলিশ। নেতাকর্মীদের পক্ষে সংশ্লিষ্ট এলাকার নেতাকর্মী থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যরা থানা, পুলিশ ও র্যাবে যোগাযোগ করা হলে বলা হচ্ছে তাদের কাছে নেই। এতে আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা। কেউ কেউ জিডিও করেছেন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, জনমনে প্রশ্ন এসব গুপ্তবাহিনী কার নিয়ন্ত্রণে। এসব ঘটনা বন্ধ ও গুম হওয়া নেতাকর্মীদের সন্ধান দাবি করেন তিনি। নিখোঁজ নেতাকর্মীদের তালিকা চাইলে দলটির দফতর সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করছে বিধায় কৌশলগত কারণে সব তালিকা সরবরাহ করা সম্ভব নয়।
দলটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসিম জানান, নেতাকর্মীদের গুম হওয়ার বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা ছিল বিএনপির। এজন্য তিনি দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। গুম হওয়া নেতাকর্মীদের তালিকা দফতরে ছিল। কিন্তু ডিবি পুলিশ গভীর রাতে রিজভীকে গ্রেফতারের সময় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালালে এবং প্রয়োজনীয় অনেক কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ায় সেসব কাগজপত্র আর পাওয়া যাচ্ছে না।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ