Home / জেলার খবর / তৃণমূলে কর্মীরা মার খাচ্ছেন, নেতারা ঢাকায়

তৃণমূলে কর্মীরা মার খাচ্ছেন, নেতারা ঢাকায়

দেশের বিভিন্ন স্থানে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা যখন প্রতিপক্ষের হাতে মার খাচ্ছে, নেতারা তখন ঢাকায়। দলীয় এমপি-মন্ত্রী এমনকি কেন্দ্রীয় নেতাদের খবর নেই নিজ নিজ এলাকার। বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য, সন্ত্রাস প্রতিরোধে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের পাশে নেই তারা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৩০ জন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন, জামায়াত-শিবিরের নাশকতা প্রতিরোধে তাদেরও নেই কার্যকর ভূমিকা। নানা অজুহাতে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় থাকাই যেন তাদের কৌশল। কাদের মোল্লার ফাঁসি পরবর্তী জামায়াতের সহিংসতা এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের চলমান আন্দোলন কর্মসূচিতে হামলার শিকার হচ্ছেন তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ রাজধানীতে সামাল দিলেও তৃণমূলে মার খাচ্ছে ৬৪টি বছরের পুরনো এ দলটির নেতা-কর্মীরা। দলের কঠিন সময়েও পাশে পাচ্ছে না দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও এমপিদের। নির্বাচনের আগে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তৃণমূল আওয়ামী লীগ এ দুরবস্থার যখন কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশে চাচ্ছেন তখন তারা অবস্থান করছে ঢাকায়। যখন কেন্দ্রীয় নেতারা তৃণমূলের পাশে থেকে তাদের সাহস জোগাবেন তখন আখের গোছাতে ও পিঠ বাঁচাতেই এলাকায় অবস্থান করছেন না তারা। বিজয় দিবসের দিনেও গতকাল এলাকায় যাননি অনেক নেতা। তবে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি থাকায় তারা এলাকায় যাননি বলেও দাবি করেন। গত কয়েকদিনে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবিলা করতে গিয়ে জীবন দিতে হয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগের কয়েকজন নেতাকে।

সাতক্ষীরা, খুলনা, সিলেট, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, বগুড়া, নড়াইল, ঝিনাইদহ, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, গাইবান্ধায় পুলিশের গাড়ি এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অথচ এসব জেলায় বেশির ভাগ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও অনেক কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও আওয়ামী লীগের। তবুও এখানে বিরোধী দলের হরতাল-অবরোধে অনেকের হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে, কুপিয়ে-পিটিয়েও মারা হচ্ছে অনেককে। আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত খুলনা বিভাগের নড়াইলসহ বেশ কয়েকটি জেলায়ও নেই কোনো প্রতিরোধ। সাতক্ষীরা হয়ে উঠেছে সহিংসতার অভয়ারণ্য। সিলেট শহর ও হবিগঞ্জেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দাঁড়াচ্ছে না। নীলফামারী, সিরাজগঞ্জ, লালমনিরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোরের লালপুরসহ কিছু অংশে, পাবনার ঈশ্বরদী, রংপুরের মিঠাপুকুর, বগুড়া, গাইবান্ধায় তাণ্ডব নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নীলফামারীজুড়ে থাকে আতঙ্ক। সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নুরের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ওইদিন নিহত হয়েছেন পাঁচজন। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে দেশি অস্ত্র নিয়ে মিছিল করে অবরোধে বিচ্ছিন্ন থাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক সাতক্ষীরা জেলায় বাড়ি। তিনি নিজ জেলাতে ঢুকতে পারছেন না। ক্ষমতার পাঁচ বছরে তিনি তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করেননি। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাদ রেখে জামায়াত-শিবিরকে চাকরি দেওয়ারও অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। এখন দলের দুর্দিনে এলাকায় নেই তিনি। দলের নেতা-কর্মীরা একের পর এক নিহত হচ্ছে জামায়াত-শিবিরের হামলায়। তিনি এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন।

চাঁদপুর-১ আসনে ভোটের আগেই নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। এ জেলায় জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব থাকলেও তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। নেতা-কর্মীদের পাশে নেই তিনি।

জয়পুরহাটে জামায়াত-শিবির তাণ্ডব অব্যাহত রেখেছে। এ জেলায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। তিনি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক। এবার জয়পুরহাট-২ আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপিও নির্বাচিত হয়েছেন। তাকেও কাছে পাচ্ছেন না এলাকার নেতা-কর্মীরা। তবে তিনি কেন্দ্রীয় কর্মসূচি থাকায় ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। গতকাল রাতে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি বলেন, গত কয়েকদিন আগে এলাকা থেকে এসেছি। আগামী শুক্রবার আবার যাবেন বলে জানান তিনি। গাইবান্ধা জেলাতেই জামায়াত-শিবির তাণ্ডব করেই চলেছে। সেখানেও প্রতিরোধ গড়ে তোলার মতো নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কেউ নেই। এ জেলায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া। তিনি গাইবান্ধা-৫ আসন থেকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনিও এলাকায় নাই। এমনকি গতকাল বিজয় দিবসেও এলাকায় যাননি। তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জামায়াত-বিএনপি সহিংসতা চালালেও আমাদের দিক নিদের্শনা ও নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কেউ নেই। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় অনেকেই পার পেয়েছেন। যে কারণেই তারা এখন এলাকায় নেই।

রাজশাহী-১ আসনের এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক শিল্পপ্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী। তিনিও দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বাইরে। এ জেলায় জামায়াত-শিবিরের অভয়ারণ্য হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম ও লক্ষ্মীপুরে জামায়াত-শিবির তাণ্ডব চালালেও প্রতিরোধ করতে পারছেন সেখানকার আওয়ামী লীগ। কয়েকদিন আগে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জামায়াত-শিবির সহিংসতা চালালেও তা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে সেখানকার নেতারা। অথচ এ জেলায় রয়েছে দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা। তাদেরও অনেকেই এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ