Home / রাজনীতি / শান্তকে শরীরে গুলি বয়ে বেড়াতে হবে আজীবন

শান্তকে শরীরে গুলি বয়ে বেড়াতে হবে আজীবন

ঢাকা বেড়াতে আসাই কাল হল পাঁচ বছরের শিশু শান্তর। পুলিশের ছোড়া গুলি তাকে বয়ে বেড়াতে হবে আজীবন। গুলি বের করতে গেলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। তাই চিকিত্সকরা কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ।
গত শুক্রবার দুপুরে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের সামনে জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবের সময় পুলিশের ছোড়া ছররা গুলিতে শান্তর পিঠ ও মাথা ঝাঁজরা হয়ে যায়। অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করতে চিকিত্সকরা ওষুধ দিয়ে তাকে ঘুম পাড়িয়ে দেন। শান্তর শরীরে ঢোকা বেশিরভাগ গুলিই আর বের করা সম্ভব হবে না বলে চিকিত্সকরা জানান। ঢাকা মেডিক্যালের নিউরো সার্জারি ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. পীযূষ কান্তি মিত্র জানান, শান্তর মাথা, পিঠ ও গলায় অসংখ্য ছররা গুলি বিঁধে রয়েছে। তবে সে আশঙ্কামুক্ত। তার শরীরে যেসব ছররা গুলি রয়েছে তা বের করা যাবে না। এগুলো বের করতে গেলে প্রচুর রক্তক্ষরণের আশঙ্কা রয়েছে। তাই সারাজীবনই শান্তকে এসব গুলি শরীরে বয়ে বেড়াতে হবে।
শান্তর মা আসমা বেগম জানান, রূপগঞ্জের একটি স্কুলে শান্ত তৃতীয় শ্রেণিতে আর শাওন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ছেলেদের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে ফকিরাপুলের চেয়ারম্যান গলিতে বোনের বাসায় দুই সন্তানকে নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরে শান্ত ও শাওন খালার বাসা থেকে খাবার নিয়ে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের সামনে বাবার চায়ের দোকানে যায়। খাওয়া শেষে টিফিন বাক্সটি নিয়ে বাসায় ফেরার পথে জামায়াত-শিবির ও পুলিশের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যায়। এ সময় শাওন দৌড়ে একটি গলিতে ঢুকে পড়ে। কিন্তু শান্ত গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় ওপর প্রায় ১৫ মিনিট পড়ে থাকে। পরে লোকজনের কাছে খবর পেয়ে তাকে খুঁজে পেয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাড়িতে শিশুসন্তান শান্ত ও শাওনকে নিয়ে তিনি বসবাস করেন। তার স্বামী সোবহান আরামবাগের একটি ছাপাখানায় মাত্র পাঁচ হাজার টাকা বেতনে কাজ করতেন। শারীরিক সমস্যা এবং সামান্য বেতনের টাকায় সংসার না চলায় আত্মীয়দের কাছ থেকে আট হাজার টাকা ঋণ করে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের সামনে একটি চায়ের দোকান দেন। শান্তর মামা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, আমরা তো রাজনীতি করি না। আমরা কাজ করে খাই। আমাদের সন্তানরা কেন রাস্তায় বের হলে গুলি খাবে। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় শান্তর পুরো মাথায় ব্যান্ডেজ। জামায় রক্তের দাগ শুকিয়ে গেছে। তার বিছানার পাশে বসে মা আসমা বেগম আর নানি রোকসানা চোখের পানি ফেলছেন। আর কাউকে দেখলেই হাউমাউ করে কেঁদে শান্তর জন্য দোয়া চাচ্ছেন। হাসপাতালের বিছানায় নিস্তেজ শান্ত কোনো কথা বলছে না। স্বজনরা ডাকলেও চোখ মেলছে না। রাতে অসহ্য যন্ত্রণায় চিত্কার করায় ঘুমের ওষুধ দিয়ে তাকে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার আশরাফুজ্জামান বলেন, জামায়াত-শিবির ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি করে। পুলিশের পক্ষ থেকে শান্তকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়া হয়েছিল এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। তবে কাদের গুলিতে শান্ত আহত হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হবে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ