Home / রাজনীতি / নাটক করার জন্যই আওয়ামী লীগ সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে: বিএনপি

নাটক করার জন্যই আওয়ামী লীগ সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে: বিএনপি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, নাটক করার জন্যই আওয়ামী লীগ সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এই প্রহসন সবাই বোঝেন। আজ শনিবার সন্ধ্যায় গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ‘নির্বাচন একটা খেলা নাকি’ এমন প্রশ্ন রেখে নজরুল ইসলাম বলেন, জনগণের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পরিবেশ তৈরি করতে হবে। প্রহসনের নির্বাচনে গণতন্ত্র নস্যাত্ হয়েছে। এ সময় তিনি বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৪২ জন নির্বাচিত হয়ে গেছে। এ যেন বিজয়ের মহাউত্সব!

সরকারের উদ্দেশে নজরুল ইসলাম বলেন, এখনও সময় আছে, নির্বাচন, গণতন্ত্র এবং দেশ ও দেশের মানুষকে নিয়ে খেলা বন্ধ করুন। বন্ধ করুন চলমান এই নির্বাচনী নাটক। সকলের অংশগ্রহণে অবাধ, নিরপেক্ষ ও অর্থবহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়ে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। হয়তো জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের বদলে দেশে এখন চলছে স্বৈরতন্ত্র। আর এই স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কেবলমাত্র এক ব্যক্তির ইচ্ছা অনিচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে এক প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ করছে। জনগণ, বিরোধী রাজনৈতিক দল, বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ, সুশীল সমাজ কারোর মতামতকেই আমলে নিচ্ছে না সরকার ও নির্বাচন কমিশন এমন অভিযোগ করে নজরুল ইসলাম বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য, শান্তিপূর্ণ এবং সকলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ নির্বাচন কমিশন অনুভব করেনি বলেই একতরফা নির্বাচনী তফশীল ঘোষণা করে জনমতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে। রাজনৈতিক সমঝোতার আগেই তফশীল ঘোষণার কারণে সারাদেশে প্রতিরোধ এবং প্রতিবাদের আগুন জ্বলছে। এজন্য বর্তমান সরকার এবং সরকারের আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশনই একশো ভাগ দায়ী।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় দেখানো হচ্ছে— ইতিমধ্যেই ১৪২ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সরকারি জোটের প্রায় সব নেতাই বিজয়ী হয়ে গেছেন। জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য মহাজোট থেকে গড়িয়ে যাদেরকে বিরোধীদল বানানোর চেষ্টা হয়েছিল- সেই জাতীয় পার্টি প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন বর্জন করার পরেও তাদের কোন কোন নেতা বিজয়ী হয়ে গেছেন। যারা ইতোপূর্বে জামানত হারিয়েছেন—তারাও বিজয়ী হয়েছেন। এ যেন বিজয়ের মহোত্সব। এদেশের জনগণ কখনও এমন অবিশ্বাস্য ঘটনা দেখেনি অভিযোগ করে বলেন, বিশ্বের এমন ঘটনা বিরল। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহ নির্বাচনী প্রহসন বর্জন করার ফলে প্রকৃত পক্ষে নির্বাচনের নামে যা হচ্ছে—তা আর যাই হোক-নির্বাচন নয়। এখনও যারা বিজয়ী হননি—তাদেরও দুঃশ্চিন্তার কিছু নেই। সবারই বিজয় সুনিশ্চিত। কারণ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ শুধু তার দলের এবং জোটের জন্য আসন বরাদ্দ করেনি—তথাকথিত বিরোধী দল জাতীয় পার্টির জন্যও সীট বরাদ্দ করে দিয়েছে। বিশ্বের কোথাও সরকারি দল সম্ভাব্য বিরোধী দলের জন্য আসন বরাদ্দ করে বলে আমাদের জানা নেই। এমন হাস্যকর ঘটনা গণতন্ত্র এবং নির্বাচনের জন্য শুধু মর্মান্তিক নয়— আত্মবিধ্বংসী। ক্ষমতাসীন সরকারের জন্যও অনিবার্যভাবে এটা আত্মবিধ্বংসী হতে বাধ্য। তিনি বলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গণদাবিতে ১৮ দলীয় জোটের আন্দোলনকে উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে আওয়ামী সরকারের পদলেহী উচ্ছিষ্টভোগী তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবি এবং ফরমায়েসী লেখক জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াতে যে অপচেষ্টা চালা”েছন তাদের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র ধিক্কার, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানা”িছ। পাশাপাশি গণদাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এই ধরণের অপকর্ম থেকে বিরত থাকার আহবান জানাচ্ছি। কারণ কালো মেঘ দিয়ে সূর্যের আলোকে যেমন রাতে রুপান্তরিত করা যায়না ঠিক তেমনি সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢাকবার চেষ্টাও অনিবার্যভাবেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। যত দ্রুত তারা এই সত্য মানবেন-ততই তাদের এবং দেশ ও দশের জন্য মঙ্গল। তিনি বলেন, দক্ষ ও সুশিক্ষিত র্যাব বাহিনীকে গত পাঁচ বছরে বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার নগ্নভাবে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হত্যা, গুম, অপহরণ ও নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তাদেরকে স্বাধীনতাত্তোর আওয়ামী সরকারের রক্ষী বাহিনীর মতো কলঙ্কিত ও ভীতিকর বাহিনীতে রুপান্তরিত করার মাধ্যমে র্যাব এর সুনাম ও মর্যাদাকে দেশ এবং বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো র্যাবের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য গভীর উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা প্রকাশ করেছে। জনতার গণদাবিকে পাশ কাটিয়ে সকল দেশি-বিদেশি গণতান্ত্রিক দেশ ও শক্তির পরামর্শকে তাচ্ছিল্য করে বর্তমান ক্ষমতালোভী বধির সরকার একতরফা নির্বাচনের যে হাস্যকর নাটক মঞ্চায়ন করছে এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদকে তার বাসভবন থেকে অসুস্থতার কথা বলে র্যাব-এর গাড়িতে করে যেভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাতে দেশের মানুষ যুগপত্ ক্রদ্ধ ও ক্ষুব্ধ। অযোগ্যতা ও অপশাসনের মাধ্যমে এই সরকার শুধু দেশ ও গণতন্ত্রকে খাদের কিনারে নেয়নি দেশের জনগণকেও হতাশ ও শঙ্কিত করেছে। এর দ্রুত অবসান এখন সময়ের দাবি।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ