Home / রাজনীতি / জাতীয় পার্টি এখন কার?

জাতীয় পার্টি এখন কার?

গত পাঁচ বছরের আওয়ামী লীগের মিত্র জাতীয় পার্টি এখন কার? গতকাল পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি অন্য কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যাননি। আমরা তার নেতৃত্বেই আছি। যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন তিনিই পার্টির চেয়ারম্যান। পার্টি চেয়ারম্যান নির্বাচনে না যাওয়ার যে সিদ্ধান্তে অনড় আছেন, আমরা তার সঙ্গে আছি। এ সময় জাপা মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন এরশাদের ছোট ভাই জি এম কাদের ও প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ। জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদকে চিকিৎসার জন্য গত রাতে র‌্যাব সিএমএইচে নেওয়ার পর থেকে তিনি সেখানে আছেন। র‌্যাব তাকে ‘নিরাপত্তা’ দিচ্ছে।
অন্যদিকে এরশাদের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে যাওয়ার জন্য বেগম রওশন এরশাদের গুলশানের বাসায় গতকালও হয়েছে দফায় দফায় বৈঠক। বৈঠক থেকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন আহমদ বাবলু, সারা দেশের প্রার্থীদের নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতায় থেকেছেন ব্যস্ত। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। এ বৈঠকে সন্ধ্যার পর যোগ দেন আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ ও গওহর রিজভী। জানা গেছে, জাতীয় পার্টি এখন মনস্তাত্তি্কভাবে বিভক্ত। রওশন সমর্থিত সূত্র মতে, জাতীয় পার্টিতে ভাঙাগড়া এলেও আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন বাবলু এরশাদকে ছেড়ে যাননি। সব সময় সুখে-দুঃখে বিশ্বস্ত সহকর্মী হিসেবে এরশাদের পাশে থেকেছেন। রওশন এরশাদও স্বামীর অকল্যাণ হবে এমন কোনো পদক্ষেপ নেননি। যখন যা করেছেন এরশাদের কল্যাণের জন্যই করেছেন। পার্টির অনেকেই মনে করেন, রওশন-আনিস-বাবলু-চুন্নুর অবস্থানও এরশাদের কল্যাণেই। অন্যদিকে পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার দলের নেতা-কর্মীদের সুসংগঠিত করে দল পরিচালনায় বার বার এরশাদের প্রতি আনুগত্যের পরিচয় দিয়েছেন। ভাই জি এম কাদেরও এরশাদের বাইরে কিছু ভাবেন না। জাতীয় পার্টিতে যা চলছে তা দুই কুল রক্ষায় সমঝোতা নাটক বলে মনে করছেন অনেকে। তারা মনে করছেন, খুব শীঘ্রই জাতীয় পার্টির চলমান ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটবে। রওশন-আনিস-বাবলু যেমন জাতীয় পার্টির বিভক্তি চান না, তেমনি চান না রুহুল আমিন হাওলাদার, জি এম কাদেরও। এরশাদের প্রতি আনুগত্য সবার। যারা সমঝোতায় সংসদ সদস্য হচ্ছেন তারাও যেমন এরশাদের প্রতি আনুগত্য, যারা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন তারা এরশাদের মাঠের যোদ্ধা। জানতে চাইলে পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, জাতীয় পার্টি একটি বড় দল। বহু নেতৃত্বের সমন্বয়ে এ দলের ব্যাপকতা। এখানে মতপার্থক্য কিছু থাকলেও চূড়ান্ত বিবেচনায় পার্টির চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত সব নেতা মেনে নেবেন। কারণ পার্টির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বের প্রতি সব নেতার রয়েছে অগাধ বিশ্বাস ও আনুগত্য। তিনি বলেন, পার্টির চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না তাদের বিরুদ্ধে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশিদ, গোলাম কিবরিয়া টিপু, অধ্যাপক দেলোয়ার হেসেন খান, আহসান হাবিব লিংকন, মীর আবদুস সবুর আসুদ প্রমুখ। রওশন এরশাদ, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন বাবলু, সালমা ইসলাম, রিন্টু আনোয়ারসহ অনেকেই শেষ দিনেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। এদিকে বেগম রওশন এরশাদের সঙ্গে গতকাল প্রথমে সাক্ষাৎ করতে যান প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। এর পর নির্বাচনকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মুজিবুল হক সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার পরই পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সাক্ষাৎ করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী রওশন এরশাদের সঙ্গে। তাদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাসভবনে যাওয়ার আগে মজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের জানান, ম্যাডাম প্রেসিডিয়ামের সিনিয়র সদস্য। পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করতে এখানে এসেছি। জানা যায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে বিরাজ করছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। জাপার নির্বাচনী প্রতীক লাঙ্গল কাউকে বরাদ্দ না দিতে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টায় আটক হন এরশাদ। গতকাল এরশাদ এক বার্তায় জানিয়েছেন, তিনি অসুস্থ নন। তাকে গ্রেফতারের জন্য আটক রাখা হয়েছে। এদিকে এরশাদের নির্দেশ অনুযায়ী গতকালের মধ্যে পার্টির সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের কথা থাকলে রওশন এরশাদের নেতৃত্বে একটি বড় অংশ প্রত্যাহার করেনি। তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জানা গেছে, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে অবস্থানরত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে তার ভাই জি এম কাদের সাক্ষাৎ করেছেন। পরে তিনি জানান, এরশাদ দেশবাসীর উদ্দেশে দুটি বার্তা দিয়েছেন। এক. নিবাচন বর্জনে তার অনড় অবস্থান। দুই. প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্দেশ।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ