Home / রাজধানী / বক্তব্য প্রত্যাহার করতে খালেদাকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম আশরাফের

বক্তব্য প্রত্যাহার করতে খালেদাকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম আশরাফের

সাতক্ষীরায় যৌথবাহিনীর অভিযান সম্পর্কে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে বলে নাহলে তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আশরাফ। গতকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খালেদা জিয়ার দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন ।

বিএনপির সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে সৈয়দ আশরাফ বলেন, তারেক রহমান বলছেন এই সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়। আবার খালেদা জিয়া বলছেন আলোচনা করতেই হবে। তাঁরা সব সময় মানুষকে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রাখতে অভ্যস্ত।

সাতক্ষীরায় যৌথবাহিনীর অভিযান সম্পর্কে গতকাল সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘আপনারা দেখেছেন কীভাবে মানুষকে নির্যাতন করেছে। আদৌ যৌথবাহিনী ছিল কি-না, সেটা নিয়ে মানুষের মনে সন্দেহ আছে। বাংলাদেশের পুলিশ ও অন্য বাহিনী এতো নিষ্ঠুর হবে, এটা নিয়ে মানুষের সন্দেহ রয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘সাতক্ষীরায় যৌথবাহিনীর অভিযানে ভারতীয় বাহিনী অংশ নিয়েছে। ইনকিলাব এমন সংবাদ ছাপিয়ে তারা আবার ভুল স্বীকার করে সংবাদ ছেপেছে। অথচ বিএনপি চেয়ারপারসন ইনকিলাবের ক্ষমা চাওয়ার বিষয় তুলে ধরেননি। তাঁর বক্তব্য কি কোনো দায়িত্বপূর্ণ নেত্রীর বক্তব্য? কোনো প্রমাণ ছাড়া আরেকটি স্বাধীন দেশের সৈন্য আসবে। তাঁর এ কথাটা কিন্তু ভয়ংকর। তিনি কি যুদ্ধ চান? তাঁর কাছ থেকে এ ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহ বক্তব্য আশা করি না। আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমাদের সেনাবাহিনীই যথেষ্ট। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনি এ বক্তব্য তুলে নেবেন এবং জাতির কাছে ক্ষমতা চাইবেন। কেউ যদি অপপ্রচার চালায়—সরকার তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।’

খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে আশরাফ বলেন, ইনকিলাব যেভাবে ভুল স্বীকার করেছে, ক্ষমা চেয়েছে, আপনিও সেভাবে ক্ষমতা চাইবেন। ইনকিলাব পারলে, আপনি পারবেন না কেন?

আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে গতকাল সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতকে আড়াল করেছেন। কিন্তু আমাদের কাছে প্রমাণ আছে— জামায়াতের নেতৃস্থানীয় নেতারা ছাড়া বিশাল সংখ্যক অস্ত্রধারী শিবির ক্যাডাররা সমাবেশে উপস্থিত ছিল। খালেদা জিয়ার সমাবেশে দেওয়া প্রতিটি শব্দ, বাক্য ছিল মিথ্যায় ভরপুর।’

খালেদা জিয়াকে সন্ত্রাসের প্রধান সেনাপতি উল্লেখ করে আশরাফ বলেন, ‘তাঁদের শাসনামলে যত সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী হামলা হয়েছে এর পেছনে ছিলেন খালেদা জিয়া। সব জায়গায় খালেদা জিয়ার মদদে জঙ্গি হামলা হয়েছে। আমরা আশা করি না, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এমন নির্লজ্জ মিথ্যাচার করবেন। তাঁর দলের ও শিবির ক্যাডারদের সন্ত্রাসে উত্সাহিত করবেন।’

আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির লেজ কে, আর মাথা কে—তা এখন কেউ জানে না। এক দলে তাঁদের দুই মত। দুই হাইকমান্ড। এখন তাঁদের দুই মাথাওয়ালা রাজনীতি।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপিতে বাম যা চায়, ডান তাতে রাজি না; আবার ডান যা চায়, বাম তাতে রাজি না। তাদের দলের কেন্দ্রবিন্দু কোথায় বাংলাদেশের মানুষ তা জানতে চায়।’

বিএনপির সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘তারেক রহমান বলছেন এই সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়। আবার খালেদা জিয়া বলছেন আলোচনা করতেই হবে। তাঁরা সব সময় মানুষকে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রাখতে অভ্যস্ত।’

নির্বাচনের আগে আলোচনায় বসার জন্য খালেদা জিয়াকে টেলিফোনে শেখ হাসিনা যে আমন্ত্রণ জানান তার উল্লেখ করে আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, শেখ হাসিনার আহ্বানে খালেদা জিয়া ইতিবাচক সাড়া দেবেন। আলোচনার পথ সুগম করবেন। অথচ আমন্ত্রণ তিনি গ্রহণ করেননি; সত্যিকার অর্থেই তাঁরা আর কোনো আলোর মুখ দেখছেন না।’

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির জন্মই হয়েছে মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে। খালেদা জিয়া অনর্গল মিথ্যা বলতে পারেন। যতই মিথ্যা বলে সত্যকে আড়াল করতে চান না কেন, তা আর সম্ভব হবে না।’

আশরাফুল ইসলাম বিএনপির উদ্দেশে বলেন, ‘তাঁরা (বিএনপি) নির্বাচন প্রতিহত করতে চেয়েছিল। নির্বাচন প্রতিহত করতে গিয়ে তারা নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে, মানুষের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। গরু, ছাগল ও মুরগি পুড়িয়েছে, গাছ ধ্বংস করেছে।’

তিনি বলেন, ‘গাছ, মাছ, গরু ও ছাগল কী দোষ করল? তারা কি ভোটার ছিল যে তাদের পোড়ালেন। কেন তাদের পোড়ালেন?’

সৈয়দ আশরাফ বিএনপির চেয়ারপারসনের উদ্দেশে বলেন, ‘তাঁর হাতে বাংলাদেশের মানুষ কেউ রেহাই পাবে না। এমনকি সাংবাদিক, গরু-ছাগল কেউ রেহাই পাবে না। আমরা এই ব্যবস্থার অবসান চাই।’

আশরাফ বলেন, ‘কোনো বিশেষ দেশের রাষ্ট্রদূতের ক্ষমতা নাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের। গণতান্ত্রিক বিশ্বের কোনো মুরুব্বির ক্ষমতা নাই সোনার বাটিতে করে ক্ষমতার রসগোল্লা খাইয়ে দেবে। তিনি কূটনীতিক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন। ক্ষমতায় আসতেও ব্যর্থ হয়েছেন। আশা করি, এ শিক্ষা থেকে ভবিষ্যতের শিক্ষাগ্রহণ করবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ