Home / মুক্তমত / যে কারণে বাদ পড়লেন দীপু মণি

যে কারণে বাদ পড়লেন দীপু মণি

দশম জাতীয় সংসদের নতুন মন্ত্রিসভায় বাদ পড়া প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের মধ্যে অন্যতম সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপু মণি। অবৈধ সম্পদ, বিতর্কিত আচরণ এবং নানান রাজনৈতিক মারপ্যাচের কারণে কয়েকজন মন্ত্রী এবার বাদ পড়েছেন। কিন্তু দীপু মণি কেন বাদ পড়েছেন তা নিয়ে আলোচনা এবং কৌতুহলের শেষ নেই। যদিও আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতা আগে থেকেই বলে আসছিলেন যে, বিতর্কিতদের নতুন মন্ত্রিসভায় রাখা হবে না।

সম্প্রতি ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা ‘হাসিনার নয়া মন্ত্রিসভার শপথ, বাদ দীপু মণি’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশ করেছেন। তাতে প্রাধান্য পেয়েছে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মণির বাদ পড়ার প্রসঙ্গ।

আনন্দবাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তিস্তার জলবণ্টন ও স্থলসীমান্ত চুক্তি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে যাওয়া এবং ‘বেশি কথা বলা’ কাল হয়েছে দীপু মনির।

খবরের শুরুতেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে, আগের পাঁচ বছর দীপু মণি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও ভারতের সঙ্গে তিস্তার জলবণ্টন ও স্থলসীমান্ত চুক্তি করে ওঠা যায়নি। সে জন্যই কি এবার শেখ হাসিনার নতুন মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়লেন দীপু মণি?

বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্রের খবরের কথা উল্লখ করে আনন্দবাজার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দীপু মণির বিরুদ্ধে তাঁর দলীয় সতীর্থরাই ‘বেশি কথা বলা’র অভিযোগ করতেন। ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হাসিনার উপদেষ্টারাও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর খুশি ছিলেন না। তিস্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য দীপু মণি কলকাতায় এসে মহাকরণে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেখানে তিনি বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অনেকের ধারণা, এই ঘটনার পর থেকেই তিস্তা চুক্তি ও স্থলসীমা চুক্তি নিয়ে বিরোধিতায় অনড় অবস্থান নেন মমতা। ফলে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ ঢাকা সফরে গিয়ে হাসিনাকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসার পরেও অতি গুরুত্বপূর্ণ এই দুই চুক্তি বাস্তবায়ন করা যায়নি। মমতার সঙ্গে বাদানুবাদকে দীপু মণির সবচেয়ে বড় ‘কূটনৈতিক হঠকারিতা’ বলে মনে করা হয়, যার খেসারত দিতে হয়েছে দেশ ও সরকারকে। নির্বাচনী অন্তর্বর্তী সরকারেই দীপু মণিকে ছেঁটে দিয়েছিলেন হাসিনা। নতুন মন্ত্রিসভা থেকেও বাদ পড়তে হল তাঁকে।

গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর ‘ইউনূসের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে সরকার’-এ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে সরকারের যে দ্বন্দ্ব, সে জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়ী করার কথাও বাইরে শোনা যায়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁর স্বামী তৌফিক নেওয়াজ এক সময় ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে কাজ করতেন। একটি অধ্যাদেশের দুর্বলতা নিয়ে ড. ইউনূসের সঙ্গে কথা বলার পর তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল।

এছাড়া সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিনা কারণে বিদেশ ভ্রমনের অভিযোগ বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে এসেছে। যা নিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সন্মুখিন হতে হয়েছে বিব্রত দীপু মণিকে।

নবনির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা না হলেও সংসদ সদস্য হিসেবে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তিনি। অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন টেলিভিশন টকশো’তে এবং সামাজিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে। তবে ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুডবুকে থাকা দীপু মণিকে ভবিষ্যতে কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ