Home / মুক্তমত / ইসলামের বারোটা বাজানো মূর্খদের ঠেকাবে কে?

ইসলামের বারোটা বাজানো মূর্খদের ঠেকাবে কে?

লিমা আকন্দঃ আজকাল ইন্টারনেটের বদৌলতে প্রতিদিন বিভিন্ন রকমের সংবাদ ও লেখা পড়ার সৌভাগ্য হচ্ছে। এর মাঝে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য হল ধর্ম নিয়ে লেখাগুলো। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। একে ভালোবেসে সঠিক ভাবে আত্মস্থ্ করতে পারলে অন্য কোন কিছুরই আর প্রয়োজন পরে না। ঠিক বিপরিত ভাবে এর ভুল ব্যাখ্যা ও প্ররোচনা একে পঙ্গু করে দিয়ে প্রতিক্রিয়াশীলতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন। পৃথিবীর সকল মুসলিম রাস্ট্র গুলোর দিকে একবার তাকিয়ে দেখুন। এরা কি করে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ-বিগ্রহ, ভোগ-বিলাশ আর বিভিন্ন রকমের অপরাধের সাথে জড়িত রাখছে নিজেদের। এর কারন হিসেবে অনেকেই আন্তর্জাতিক কূটনীতি বা রাজনীতিকে দায়ী করবেন জানি। কিন্তু আমি ঐ প্রসঙ্গে আসছি না। আমার মাথাব্যাথা হচ্ছে, ধর্মকে আমরা কতোটা জেনে, বুঝে আত্মস্থ করে তারই আলোকে কিছু দিনের জীবনের রোজনামচা লিখছি।

ইদানিং একদল বিশিস্ট অনুবাদকের আর্বিভাব হয়েছে যারা স্বইচ্ছায় অনুবাদের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন ভাষা হতে সংগৃহিত গল্প, কবিতা, নাটক, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও সংগীতের অনুবাদ করে তাকে ইসলাম বিরোধী বলে চালানোর অপচেস্টা চালাচ্ছে প্রতিনিয়ত। অনুবাদক দেশ কাল পাত্রের ভেদ ভুলে গিয়ে অনুবাদ করছে word by word. যার ফলশ্রুতি হিসেবে এর অর্থ ও তাৎপর্যের পরিবতর্ন হয়ে যাচ্ছে পূর্ণাঙ্গ রুপে। অনুবাদক কিছুতেই মনে রাখতে পারছে না যে,শিল্প ও সাহিত্যের অনুবাদের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার জন্য,শব্দার্থের চেয়ে তার ভাবার্থ বোঝা অনেক বেশী জরুরী। সেদিন হঠাৎ করেই চোখে পড়লো একটি লেখা। যাতে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় হিন্দি গানের বাছাইকৃত কয়েকটি লাইনের ভুল অনুবাদ করে, কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে তার ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং একে শিরক হিসেবে আখ্যায়িত করে সকলকে এর থেকে দুরে থাকার আহবান জানানো হয়েছে। একজন শিল্পকলা ও সংগীত প্রেমী হিসেবে ঐ সকল অনুবাদকদের কাছে আমার অনুরোধ আপনারা দয়া করে কোন কিছু লেখা বা বলার আগে নিজেদের জ্ঞানের পরিধিকে বিস্তৃত করে তারপর অন্যকে ছবক দেবার চেস্টা করুন। এতে ভুলের কমতি বৈ বৃদ্ধি হবেনা।

আসছি আমাদের দেশের রেডিও, টেলিভিশন ও সিনেমায় প্রচারিত প্রতিদিনকার অনুষ্ঠানমালা প্রসঙ্গে। এতে প্রতিনিয়ত দেখানো হচ্ছে পরিবারের অত্যন্ত বয়োজেস্ট চরিত্রটি (নারী পুরুষ নির্বিশেষে) ধর্ম পালনের সাথে সাথে পরনিন্দা, পরচর্চা, নারী নির্যাতন, অন্যায়-অত্যাচার করেই সীমাবদ্ধ থাকছেনা তৈরী করছে অবৈধ সম্পদের পাহাড়। আমরা মুগ্ধ হয়ে দেখছি এসব,আর ভেবে তৃপ্ত হচ্ছি অতন্ত বাস্তবসম্মত হয়েছে বলে। কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছেন, ইসলামের বারোটার জায়গায় যে এর বাষোট্টিটা বাজিয়ে ফেলছেন আপনারা এ সকল দেখে এবং দেখিয়ে।

এবার আসছি পর্দার নাম করে আজকাল কিছু সংখ্যক মহিলাদের ফ্যাশনের বহিঃপ্রকাশ নিয়ে। হঠাৎ করেই ইদানিং হিযাবী মহিলাদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে সর্বত্র। একজন মুসলিম রমনী হিসেবে নিজে পর্দা করছি না বলে লজ্জিত এবং এর প্রসারতায় পুলোকিত! কিন্তু পর্দার নাম করে আসলে কি হচ্ছে? শাড়ি,জামা কাপড়ের সাথে ম্যাচ করে এক টুকরো কাপড় দিয়ে শুধু মাত্র মাথার চুলকে আবৃত করে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রসাধনির মাধ্যমে সাজসজ্জার করে চেহারার সৌন্দর্যকে দ্বীগুন-তিনগুন করে প্রর্দশন করা হচ্ছে। শুধু এখানেই শেষ নয়, কেউ কেউ আবার ইচ্ছানুসারে স্থান কাল পাত্রের ভেদ অনুযায়ী খুলেও ফেলছে এই সামান্য পর্দা নামক আবরনটিকে। আমার প্রশ্ন হলো, ধর্মের ঠিক কোন দিকটি এর মাধ্যমে আপনারা প্র্যাকটিস ও প্রচার করছেন? একজন নারী হিসেবে সকল নারীদের উদ্দেশ্য করে বলছি, আমরা মায়ের জাত। আমাদেরকেই সন্তান ধারন, জন্মদান ও লালন-পালনের মাধ্যমে এদেরকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হয়। সেই আমরাই যদি ভন্ডামী, ভুল শিক্ষা ও অপঃপ্রচারের মাধ্যমে ধর্মের এই হাল করি তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিসেবে আমাদের সন্তানরা কি শিক্ষাগ্রহন করবে আমাদের কাছ থেকে?

দেশে বিদেশে উচ্চবিত্তদের একটি বিশেষ অংশ নিজেস্ব উপায়ে পালন করে ধর্মীয় কর্মকান্ড। এরা নিয়মিত নামাজ পড়ে, প্রয়োজনে মসজিদেও যায়। যাকাত প্রদান, ওমরাহ, হজ্জ কোন কিছুই এদের তালিকার বাইরে নয়। তথাপি, অন্যায়, অবিচার, হারাম রুজি, মিথ্যাচার ছাড়াও নিযমিত মদ্যপান এবং casino তে গিয়ে জুয়া খেলে যোগাচ্ছেন নিজেদের বিনোদনের খোরাক। সমাজে এদের অবস্থান, প্রভাব ও প্রতিপত্তির কারনে এরা প্রত্যেকেই আমাদের কাছে শ্রদ্ধা ও সন্মানের পাত্র। এক্ষেত্রে কোথায় আমার সেই ধর্মীয় ঝান্ডা উত্তোলনকারী প্রতিবাদী ভাই ও বোনেরা? আপনাদের আওয়াজ, প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যাতো এখানে প্রতিধবনিত হচ্ছেনা!

আমাদের দেশে সমস্যার কোন শেষ নেই। তাই ধর্মের নাম ভাংগিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে হিংসা আর ধ্বংস যজ্ঞের অগ্নিশিখায় যারা খড় কুটোর যোগান দিচ্ছেন বা দেবার প্রচেস্টা চালাচ্ছেন, তারা দয়া করে নিজেদের স্বার্থেই এর থেকে বিরত থাকুন। যেকোন ধর্মকে বুঝতে হলে প্রথমে নিজের ভেতরে ভালবাসা, সৃজনশীলতা, উদারতা ও ক্ষমাশীল দৃস্টিভঙ্গীর দরকার।

নবীজী(সঃ) আর তাঁর চলার পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখা সেই বুড়ির কাহিনী আমরা সকলেই কমবেশী জানি। কিন্তু সেটার সত্যিকরের মমার্থ বুঝে তার প্রয়োগের কোন চেস্টা কখনো করেছি কি? আসুন না, সকলে মিলে মনুষ্যত্বের দাবীতে, দেশ ও জাতির প্রয়োজনে মহানবীর সেই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে আর একবার দেশটাকে নতুন করে গড়ে তোলার চেস্টা করে দেখি।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ