Home / মুক্তমত / সাংস্কৃতিক আগ্রাসনরোধে হেফাজত

সাংস্কৃতিক আগ্রাসনরোধে হেফাজত

তানভীর কামাল : সংস্কৃতিকে যদি আখ্যায়িত করা হয় একটি সমাজের দর্পণরূপে-মোটেও অত্যুক্তি হবে না তাতে। কোন সমাজের ব্যবহারে সমৃদ্ধি ও পরিমার্জিত চিন্তাধারা এবং রুচিবোধে উন্নতি বা পরিশীলতা- মোটকথা একটি সমাজের অধিবাসী প্রতিটি মানুষের মনুষ্যত্বের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছ এই সংস্কৃতির। এজন্য বরাবরের মতোই আধিপত্যবাদী কায়েমী শক্তি, পশ্চিমা বিশ্ব ও তার দোসররা বেছে নিয়েছে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের পথ। বরং বলা যায়, উম্মাহ বিরোধী সর্বব্যাপী এ চতুর্মুখী ষড়যন্ত্রের এই সময়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে সাংস্কৃতিক লড়াইকে। কে না জানে, সাংস্কৃতিক অন্তঃস্বরশূন্যতা ও পরমুখাপেক্ষিতার মাধ্যমেই সূচিত হয় কোন জাতির চূড়ান্ত পরাজয়ের পথ পরিক্রমা।
চোখ মেলে তাকালেই দেখতে পাই, টুপি রুমালকে দু’দিন আগেও মোল্লার কাপড় বলে অভিহিত করত তাদেরকেই এখন দেখি এগুলো পরে গর্ব করতে। কারণ আমীর খান, সালমান খানেরাও যে আজকাল এগুলো পড়তে শুরু করেছে! তবু ভালো, এবার আসি ভিন্ন পেক্ষাপটে। ক’দিন পরপরই দেখি নতুনত্বের প্রবণতা। কিছু বলার ছিল না, যদি এর নেপথ্য কারণটা কেবল অন্ধ অনুকরণেই সীমাবদ্ধ না হতো! এই দেখি টাইট জিন্স, তো এই দেখি অক্টোপাসের মতো ১শ’ লেজওয়ালা প্যান্ট, এই দেখি হাঁটুতে ছেঁড়া তো ঐ দেখি গোড়ালিতে কাটা, এই দেখি বেল্ট দিয়ে ইন করে ফিটিং চলা, তো ঐ দেখি প্রায় খুলে যায় যায় মত প্যান্ট পড়ার প্রবণতা। এসব অন্ধ অনুকরণ বৈ আর কিই-বা কৃতিত্বের দাবি রাখে?
আর হেয়ার কাটিং নিয়ে বোধ হয় কিছু না বলাই ভালো। মাথা মু-ানোর অপরাধে মাদ্রাসার পিচ্চি-পিচ্চি ছেলেপুলেকেও মশকরা করতে ছাড়ে না যারা, সেই তাদেরকেই দেখি রোনাল্ডোর দোহাই দিয়ে বেল মাথা নিয়ে বুক ফুলিয়ে হেঁটে যেতে। মুরগা কাটিং, ঘোড়া কাটিং, রক কাটিং, বব কাটিং কত কাটিংয়ের চুলরে বাহার! তখন কোন সমস্যা না, কারণ এগুলো যে আসে মেসি নেইমারদের কাছ থেকে! এই কদিন আগেও দেখতাম সামনের চুল লম্বা রাখার প্রবণতা; এখন দেখি সেটাই চলে গেছে পেছনে। লেয়ার কাটিং না কী যেন বলে! যাকগে, সে অনেক কথা।
এ সর্ম্পকে আমার পরম প্রিয় উস্তাদ আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (দা.ব.)- এর কৌতূচ্ছলে বলা একটা উক্তি দিয়েই ইতি টানছি। এ প্রসঙ্গের হুজুর বলেন, দাঁড়িয়ে পেশাব করা, বাঁ হাতে খাওয়া ও নিষিদ্ধ সব পোকা মাকড় তার জুস খাওয়ার যে অন্ধ অনুকরণ শুরু হয়েছে বর্তমানে, সেদিকে লক্ষ করে বলতেই হয়- ইউরোপীয়ানরা বোধহয় এহসানই করেছে আমাদের ওপর। না হয়, ওরা যদি নোংরা কিছু খাওয়া শুরু করত, তবে আমাদের দেশের এইসব লোক ব্যস্ত হয়ে পড়ত তার ফজিলত বয়ানে। দেখা যেত ভিটামিন এ, বি, সি, ডি কত্ত কিছু যে পাওয়া যাচ্ছে তাতে! পাঠক, আমি শঙ্কিত বোধ করছি। কারণ, ইতোমধ্যেই রিফিয়ারিং পেশাব খাওয়া শুরু হয়ে গেছে বিজ্ঞানীদের মাঝে।
ফিরে আসি মূলকথায়। বিশ্বজুড়ে নাস্তিক মুরতাদের ভিত কাঁপিয়ে দেয়া অরাজনৈতিক ঈমানী আন্দেলনের প্রথিকৃৎ হেফাজতে ইসলাম নিয়ে যদি প্রশ্ন তুলি এই মুহূর্তে এবং যদি জানতে চাই কী করেছে হেফাজত? উত্তরে অনেকে অনেক কথাই বলবে। তবে আমি ভাবছি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। হেফাজতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও ফলপ্রসূ দিক হচ্ছে এই সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মোকাবেলা। হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (দা.বা.)-কে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন হেফাজত না থাকলে পুরো দেশটাই আজ শাহবাগে পরিণত হতো।
হ্যাঁ, এই একটি মাত্র বাক্য দিয়েই হেফাজতের ভূমিকা মূল্যায়ন করা সম্ভব। গত মাসের ৫ তারিখে (নভেম্বর) ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান পর্দা নিয়ে কটাক্ষ্য করে শাহবাগী নাস্তিকগুরু আসিফ মহিউদ্দীন একটা স্ট্যাটাস দেয় ফেসবুকে। যেখানে পর্দা পরিহার করে হিন্দুয়ানী ভাইফোঁটা সংস্কৃতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সে বলে, শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের সফলতা যতটা না রাজনৈতিক; তারচেয়ে অনেক বেশি সাংস্কৃতিক। অদূর ভবিষ্যতে যা আস্তে আস্তে প্রকাশ পাবে! পাঠক, কিছু বুঝলেন কি?
সে যাকগে, ঘুমন্ত মুসলমানদের জাগিয়ে দেয়ার সুমহান দায়িত্ব পালন করছে হেফাজত। এখনই যদি সচেতন হওয়া না যায় এ ব্যাপারে; গ্রহণ করা না যায় সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, তবে তা কেবল আফসোসই বয়ে আনবে ভবিষ্যতে।
– লেখক : শিক্ষার্থী, দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ