Home / জাতীয় / খালেদার ডাকে সাড়া দেননি মেয়র মনজুর
খালেদার ডাকে সাড়া দেননি মেয়র মনজুর

খালেদার ডাকে সাড়া দেননি মেয়র মনজুর

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দেননি তারই উপদেষ্টা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম মনজুর আলম। বাধা বিপত্তির মধ্যেও অসংখ্য নেতাকর্মী ঢাকায় গেলেও চট্টগ্রামে রয়ে গেছেন মেয়র। এনিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ আছে।

গত মঙ্গলবার খালেদা জিয়া ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করার আহবান জানিয়ে ২৯ ডিসেম্বর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে আজ রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার কথা। এই কর্মসূচিতে খালেদা জিয়া উপস্থিত থেকে গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন বলে শনিবার দলের ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ জানান।

সিটি করপোরেশন সুত্র জানায়, রোববার সকাল সাড়ে দশটার দিকে নিজ বাসভবন থেকে নগর ভবনে পৌঁছান মেয়র এম মনজুর আলম।

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মেয়র এম মনজুর আলম বলেন,‘আমি অফিস করছি। ঢাকায় যাইনি।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের ডাকে দলীয় কর্মসূচিতে কেন অংশ নেননি জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

২০১০ সালে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন এম মনজুর আলম। এর আগে ১৯৯৪ সাল থেকে তিন দফায় টানা ১৭ বছর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সেসময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকা মনজুর।

কাউন্সিলর থাকাকালে তৎকালিন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেন মনজুর আলম। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে ‘গুরু-শিষ্য’ হিসেবেও পরিচিতি এ দুইজন। তার উপর আস্থা রেখে মহিউদ্দিন চৌধুরী তাকে ৩২ বার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বও দেন।

২০০৭ সালে বহুল আলোচিত ওয়ান ইলেভেনের পর মহিউদ্দিনকে কারাগারে নেওয়া হয়। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাধে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পান এম মনজুর আলম। প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনকালে এম মনজুর আলমের বিভিন্ন কর্মকান্ডে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে দূরুত্ব তৈরি হয়। এরপর মনজু বিএনপি’র সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেন।

২০১০ সালের ১৭ জুন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র সমর্থন নিয়ে রাজনৈতিক গুরু মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে ৯৫ হাজার ৫২৮ ভোটে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন মনজুর আলম।

২০১২ সালের ৪ জুলাই মেয়র এম মনজুর আলমকে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা করা হয়। বিএনপি’র সমর্থনে মেয়র নির্বাচিত এবং দলীয় পদবী পাওয়ার পরও বিএনপি’র রাজনৈতিক কোন কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে এ পর্যন্ত কোন সক্রিয় ভূমিকা দেখা যায়নি মেয়রের।

এনিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে গত ২৮ অক্টোবর ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৬০ ঘণ্টার হরতালের প্রথম দিনে নিজের এলাকা নগরীর কাট্টলীর কর্নেলহাটে মিছিল-সমাবেশ করেন মেয়র মনজুর আলম। প্রথম দফার অবরোধেও দু’য়েকবার তিনি মিছিল সমাবেশে অংশ নেন।

কিন্তু এরপর ১৮ দলীয় জোটের আরো কমপক্ষে চার দফা অবরোধ পালিত হলেও নগরীর প্রবেশ পথ সিটি গেইট থেকে দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবন পর্যন্ত এলাকায় কোন কর্মসূচিতে একবারও দেখা যায়নি মেয়রকে।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার খালেদা জিয়া ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করার আহবান জানিয়ে ২৯ ডিসেম্বর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এ কর্মূসচিতে চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ১৫ হাজার নেতাকর্মী অংশ নিয়েছে বলে নগর বিএনপি দাবি করেছে। এ কর্মসূচিতেও অংশ নেননি মেয়র।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ