Home / জাতীয় / কী ঘটতে যাচ্ছে আজ

কী ঘটতে যাচ্ছে আজ

উত্তেজনা আর অজানা আশঙ্কার ২৯ ডিসেম্বর আজ। পুলিশের নিষেধাজ্ঞা মানবে না বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আজ রাজধানীর নয়াপল্টনে সমাবেশ করার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে তারা। ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ নামের এ কর্মসূচি সফল করতে পথের বাধা পেরিয়ে জোটের নেতা-কর্মীরা সারা দেশ থেকে দলে দলে ঢাকায় আসছেন। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে নয়াপল্টনের সমাবেশে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জোটের পক্ষ থেকে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা ভাঙলেই পুলিশ হবে কঠোর। আর এ জন্য সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে রয়েছে পুলিশ। এদিকে গতকাল সন্ধ্যার পর পরই গুলশানে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবন অবরুদ্ধ করে রাখে পুলিশ। রাত ৮টায় গুলশান কার্যালয়ে যেতে চাইলেও বাসভবন থেকে বেরোতে পারেননি তিনি। বাসভবনের সামনে দুই পাশে ব্যারিকেড বসিয়ে সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিএনপি দাবি করেছে, খালেদা জিয়াকে বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
এদিকে কর্মসূচি সামনে রেখে গতকাল রাতভর রাজধানীতে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালায় পুলিশ। নয়াপল্টনের আজকের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কঠোর নিরাপত্তাবলয় তৈরি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ঢাকামুখী প্রবেশপথগুলোয় বসানো হয়েছে অস্থায়ী ক্যাম্প। সারা দেশ থেকে ঢাকাকে শুধু বিচ্ছিন্ন করা হয়নি, নগরীতেও গণপরিবহন বন্ধ রাখায় জনদুর্ভোগ চরমে। চলছে যৌথবাহিনীর অভিযান, পুলিশের তল্লাশি ও গণগ্রেফতার। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা রয়েছে রাজধানীতে ব্যাপক নাশকতার। পুলিশ অনুমতি না দিলেও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আজকের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ সফল করার ঘোষণা দিয়েছে ১৮-দলীয় জোট। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া আজ রাজপথে নামবেন। নেতা-কর্মীরাও যে কোনো মূল্যে রাজপথে বেরিয়ে আসবেন। লাঠির মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে ঘোষিত সমাবেশে যোগ দিতে প্রস্তুত তারা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও আজকের ঢাকার সমাবেশ প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। এতে জনমনে আশঙ্কার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে সরকার ও বিরোধী দল মুখোমুখি। কর্মসূচি নিয়ে ১৮ দল ও পুলিশের এমন মুখোমুখি অবস্থানে সারা দেশে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দেশজুড়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা- কী ঘটতে যাচ্ছে আজ? রাজপথে কি ফের রক্তাক্ত সহিংসতা ঘটতে যাচ্ছে? নাকি শেষ পর্যন্ত কিছুই ঘটবে না? প্রশ্ন আর প্রশ্ন উৎকণ্ঠিত মানুষের মুখে মুখে। জানা গেছে, পুলিশ সদর দফতরে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে গতকাল। পুলিশের কথা, অনুমতি না দেওয়ায় আজকের সমাবেশ অবৈধ। সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। পুলিশের সাঁজোয়া যান, জলকামান, গ্যাসকামান, আর্মড ভেহিক্যালসহ সব ধরনের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে। মাঠে রয়েছে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর ৩৫ হাজারের বেশি সশস্ত্র সদস্য। রাজধানীর চারপাশ ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তাবলয়। পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার গতকাল এ বিষয়ে বলেছেন, নাশকতাকারীদের বিষয়ে পুলিশ থাকবে আপসহীন।গতকাল ডিএমপি সদর দফতরেও দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে পদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে। বৈঠক সূত্র জানায়, নাশকতা রোধে পুলিশ থাকবে আজ জিরো টলারেন্সে। হামলার শিকার হলে পুলিশকে পাল্টা জবাব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একসঙ্গে দুই বা তার অধিক লোক চলাচল করলেই তাদের জেরা করবে পুলিশ। আর সন্দেহ হলেই গ্রেফতার। ঢাকামুখী প্রবেশপথগুলোয় অস্থায়ী ক্যাম্প বসানো হয়েছে। সন্দেহ হলেই কাউকে ঢাকায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ঢাকামুখী ট্রেন, বাস ও লঞ্চেও চলছে গণতল্লাশি। সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।
১৮ দলের কর্মকৌশল : গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া আজকের সমাবেশে যোগ দেবেন। যে কোনো মূল্যে আমরা সমাবেশ করবই। এর আগে জোট নেতারা কর্মসূচি বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের কর্মসূচিতে বাধা দিলে প্রতিরোধ করা হবে। বিএনপি-জামায়াতের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে নেতা-কর্মীরা জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে নয়াপল্টনের উদ্দেশে আসবেন। হাতে হাতে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি লাঠিও থাকবে। বিএনপির কেন্দ্র থেকে পাঠানো নির্দেশনায় রয়েছে, যার যার জেলার নেতারা একটি স্থানে জড়ো হয়ে সেখান থেকে নয়াপল্টনের উদ্দেশে মার্চ করবেন। যেখানে বাধা দেওয়া হবে, সেখানে তারা বসে যাবেন। প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে তাদের।
সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে গতকালও বিভিন্নভাবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ একাধিক নেতা নিজেদের মধ্যে গোপন বৈঠক করেছেন। প্রকাশ্যে তারা আসতে না পারায় কাজের সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলে বৈঠকে নেতারা বলেন। বৈঠক থেকে জেলা নেতাদের মোবাইল ফোনে নির্দেশ দেওয়া হয় যার যার জেলার নেতা-কর্মীদের তত্ত্বাবধান করতে। আনুষঙ্গিক খরচের দায়িত্বে থাকবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচি সফল করতে আজ সকাল ১০টার মধ্যে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সারা দেশ থেকে আসা কর্মীরা নয়াপল্টনে আসার আগে নেতাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়। বেলা আড়াইটায় খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাড়ি থেকে নয়াপল্টনের উদ্দেশে বের হবেন। তাকে বাধা দেওয়া হলে নেতা-কর্মীরা তার বাড়ির দিকে মার্চ করতে পারেন। এ জন্য অবশ্য গতকাল রাতেই গুলশান-২-এর আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
গতকালও দিনভর গুলশানের বাসভবনে নিঃসঙ্গ সময় কাটান খালেদা জিয়া। দলের কোনো নেতাকে তার বাসভবনে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। দিনভর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছুটা কম দেখা গেলেও সন্ধ্যার পর পুলিশ ও র‌্যাবের সংখ্যা বাড়ানো হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, অনুমতি না পেলেও কাল (রবিবার) তারা নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করবেন। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে তাদের কর্মসূচি শুরু হবে। এতে যে কোনো সময় বিএনপি চেয়ারপারসন, ১৮-দলীয় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যোগদান করবেন। আশা করছি, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। জোটের সমাবেশ করতে দেবে সরকার। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, ১৮-দলীয় জোটের এ সমাবেশ হবে শান্তিপূর্ণ। সারা দেশ থেকে জনতা লাল-সবুজের পতাকা হাতে এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সমাবেশ সফল করবে। এখানে কোনো সংঘাত হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। কারণ আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে তাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের লাঠি হাতে নামতে বলেছে। সরকারের তরফ থেকে বিরোধী জোটের কর্মসূচি ঠেকাতে ক্ষমতাসীনরা লাঠি নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের হুঙ্কার ও লাঠি মহড়া দেখে বোঝা যায়, তারা সংঘাত ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। কর্মসূচি সামনে রেখে সডক, রেল ও নৌপথ বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। সারা দেশকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল দিনভর ১৮-দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের দেখা যায়নি। পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সমাবেশ করার ঘোষণা দিলেও কোনো প্রস্তুতিও ছিল না। সরেজমিন সেখানে দিনভর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও গণমাধ্যমের কর্মীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিএনপি জোটের কোনো নেতা-কর্মীকে দেখা যায়নি। র‌্যাব, পুলিশ ছাড়াও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। কার্যালয়ের সামনে জলকামান, প্রিজন ভ্যান, রায়ট কার, সাদা মাইক্রোবাস রাখা হয়। বিজয়নগর মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত কয়েক স্তরে পুলিশকে অবস্থান নিয়ে তল্লাশি চালাতে দেখা যায়। বরাবরের মতোই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল ফটক তালাবদ্ধ ছিল। কয়েকজন অফিস স্টাফ ছাড়া নেতা-কর্মী শূন্য কার্যালয়। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন কর্মসূচি দেবেন খালেদা জিয়া। আজ সমাবেশ করতে পারলে একধরনের কর্মসূচি আর না করতে পারলে আরেক ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে নয়াপল্টনে বেগম জিয়া যোগদান করতে পারলে ভোট পর্যন্ত টানা অবস্থান নেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে। আর নয়াপল্টনে নেতা-কর্মীদের জড়ো হতে না দিলে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জোটের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বেগম জিয়া গুলশানের বাসা থেকে সংবাদ সম্মেলন করে আবারও ৩১ ডিসেম্বর সমাবেশ করার ঘোষণা দিতে পারেন। সমাবেশ করতে না দিলে ১ জানুয়ারি থেকে টানা অসহযোগ ও অনির্দিষ্টকালের জন্য হরতাল কর্মসূচিরও ডাক দিতে পারেন তিনি।
পুলিশের নজিরবিহীন প্রস্তুতি : আজকের কর্মসূচি ঘিরে পুলিশ নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, আজ রাজধানীতে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা। এ কারণে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে রাজধানী ঘিরে। সমাবেশ করতে না পারায় হেফাজতে ইসলাম আজকের কর্মসূচিকে টার্গেট করেছে। ঢাকা অভিযাত্রাকে সামনে রেখে তারা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামী, হেফাজত এবং নিষিদ্ধ উগ্রপন্থি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী ও হিযবুত তাহ্রীরকে নিয়ে চিন্তিত পুলিশ। তাদের ‘নাশকতা’ রোধে অতিরিক্ত তৎপরতা রয়েছে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের।
পুলিশ কর্মকর্তারা বিএনপির আজকের এ কর্মসূচিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছেন। তারা মনে করছেন, শেষ আন্দোলনে ১৮ দলের নেতা-কর্মীরা অলআউট মাঠে থাকার চেষ্টা করবেন। সহিংসতার ব্যাপকতাও বাড়বে। নানা কারণে বিশেষ গুরুত্ব পাওয়া এ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশ নানা পরিকল্পনা নিয়েছে। গতকাল থেকেই পুলিশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে গোটা রাজধানী। সূত্র জানায়, রাজধানীর যেসব স্থানে অবরোধ ও হরতালে নাশকতা হয় সেসব স্থানের মধ্যে যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, শনিরআখড়া, রায়েরবাগ, ধলপুর, খিলগাঁও, শাহজাহানপুর, রামপুরা, বাড্ডা এবং মিরপুরকে ঘিরে থাকছে বিশেষ পরিকল্পনা। এসব এলাকার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ থাকছে। গত রাত থেকেই পুলিশ সদস্যরা সশস্ত্র অবস্থায় রয়েছেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশির পাশাপাশি একসঙ্গে দুই বা তার অধিক লোক দেখামাত্র তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং আটক করার নির্দেশনা থাকবে। কর্তব্যরত অবস্থায় যদি পুলিশ আক্রমণের শিকার হয় তার জন্যও থাকছে কড়া নির্দেশনা। পুলিশ নিজেদের আত্মরক্ষার্থে প্রয়োজনীয় সব কিছু ব্যবহার করতে পারবে। সূত্র জানায়, নাশকতার আশঙ্কায় বঙ্গভবন, সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট, সচিবালয়, গুলশান-বারিধারার কূটনৈতিক জোন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আবাসিক এলাকা, সংসদ ভবন, জেলখানা, রমনা জাজেস কমপ্লেক্স, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ওয়াসাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পুলিশ-র‌্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাবলয়। এ ছাড়া নাশকতা মামলার আসামিদের তালিকা নিয়ে পুলিশের অভিযান চলছেই। ঢাকায় বহিরাগতদের প্রতিও পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাজপথে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসিয়ে চলছে তল্লাশি।
পুলিশপ্রধান হাসান মাহমুদ খন্দকার গতকাল বলেছেন, নাশকতাকারীদের সঙ্গে কোনো আপস নেই। পুলিশ সদস্যদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কর্মসূচিতে নাশকতা ও সহিংস কর্মকাণ্ডের বিষয় মাথায় রেখে পুলিশ তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। জননিরাপত্তার স্বার্থে আইনের মধ্যে থেকে যা যা করণীয় তা-ই করা হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বলেন, যেহেতু ডিএমপি এলাকায় সব ধরনের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেহেতু নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ডিএমপির কয়েকজন ঊধর্্বতন কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অবরোধ ও হরতালে পুলিশের নিরাপত্তার পরিকল্পনা সম্প্রসারিত করা হয়েছে, বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা সদস্য। পোশাকি পুলিশের বাইরে প্রতি থানা এলাকায় সাদা পোশাকে অস্ত্রধারী মোটরসাইকেল টিম থাকবে। এর পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের টিম থাকবে ভ্রাম্যমাণ হিসেবে। শুধু নয়াপল্টনে ডিবির বেশ কয়েকটি টিম অবস্থান নিয়ে থাকবে। আর অন্য টিমগুলো থাকবে ভ্রাম্যমাণ হিসেবে।
বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসায় ‘অবরুদ্ধ’ করে তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল রাতে এক বিবৃতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, রাত ৮টার দিকে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনের চারপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা, জনমানুষের নেত্রীর নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত পুলিশও সরকার অবৈধ ও বেআইনিভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আমরা এহেন কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাচ্ছি।’ একই সঙ্গে অবিলম্বে বিরোধীদলীয় নেতার সার্বিক নিরাপত্তা ও তার স্বাভাবিক চলাচলের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।
দলের সহ-দফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, রাত ৮টার দিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনের চারপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপকসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করে পুরো বাসাটিকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতাকে কার্যালয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি (খালেদা জিয়া) যাতে কার্যালয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য বাসার সামনের সড়কের দুই দিকে পুলিশের গাড়ি এলোপাতাড়িভাবে রেখে দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। আমি সরকারের এহেন ফ্যাসিবাদী আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
মির্জা আব্বাসের বাসায় তল্লাশি : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বাসায় ঢুকে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। তবে বাসায় কাউকে না পেয়ে আসবাবপত্রসহ মূল্যবান সামগ্রী ভাঙচুর করে। একই সঙ্গে আভিযানিক দলের সদস্যদের অশ্লীল ভাষায় চিৎকার-চেঁচামেচি ও ভাঙচুরের শব্দে পাশের বাসাগুলোর বাসিন্দারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
মির্জা আব্বাসের ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু জানান, পুলিশ তালা ভেঙে মির্জা আব্বাসের বাসার ভেতরে প্রবেশ করে আধঘণ্টা রীতিমতো নারকীয় তাণ্ডব চালায়। তারা বাসার আসবাবপত্র লণ্ডভণ্ড করে তালাবদ্ধ বাসায় মির্জা আব্বাসকে খুঁজতে থাকে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ