Home / জাতীয় / মধ্যমেয়াদী নয়, দীর্ঘমেয়াদী সংকটে দেশ
মধ্যমেয়াদী নয়, দীর্ঘমেয়াদী সংকটে দেশ

মধ্যমেয়াদী নয়, দীর্ঘমেয়াদী সংকটে দেশ

আগামী ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সমাধান দিতে পারবে না। এটা আবার নতুন সংঘাতের দিকে নিয়ে যাবে। সংকট সমাধানের জন্য আরেকটা প্যাকেজ তৈরি করতে হবে। দেশ মধ্যমেয়াদী নয়, দীর্ঘমেয়াদী সংকটে।

শনিবার সকালে গুলশান-২ এ হোটেল লেকশো-তে শুরু হওয়া ‘সংকটে বাংলাদেশ নাগরিক ভাবনা’-শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।

অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে ও ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ’ (সিপিডি), আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

অনুষ্ঠানে গণতন্ত্রের অভিযাত্রার নাম করে ৫ মের পুনরাবৃত্তি করবেন না বলে বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং নির্বাচনকালীন সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

মেনন বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু, তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতির সংস্কারের দাবি আজকের নয়, ২০০৮ সাল থেকে। এটা ১৪ দলের দাবি ছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকেই আজকের এই সংকট শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের এ দেশকে জঙ্গিবাদী-তালেবানি রাষ্ট্রে পরিণত করা হচ্ছে কিনা এটাই সংকট।

এ পর্যন্ত প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে তিনবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে দুইবার জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর সঙ্গে ও একবার বিএনপি-আওয়ামী লীগের আলোচনা হয়েছে।

বিএনপি তারানকোর সঙ্গে বৈঠকে বলেছে, আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং পাশাপাশি আলোচনা চলবে। ‘বিচার মানেই তালগাছটা আমার’ এমন হতে পারে না।

নির্বাচন স্থগিত করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ব্যাপারটা এমন না। যদি শেখ হাসিনা চলেও যান, তারপরও বিএনপি নির্বাচনে আসবে না। তারা প্রতিবারই আলোচনার সময় আল্টিমেটাম দিয়ে সরে গেছে।

এ সময় ১৮ দলকে উদ্দেশ করে রাশেদ খান মেনন বলেন, আপনারা ট্রেনের ফিসপ্লেট তুলে ফেলবেন, গাছ কাটবেন, বাসে আগুন দিয়ে মানুষ মারবেন আর আমরা তা বসে বসে দেখবো; এটা আশা করতে পারেন না।

আমরা মিশরের মতো কোনো অগণতান্ত্রিক হস্তক্ষেপে যাচ্ছি কিনা, সেটা সন্দেহ হচ্ছে।

তিনি বলেন, ৯০ দিন মেয়াদের মধ্যে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনে যেতে পারি কিনা এবং তখন বিএনপি আসবে কিনা তা নিশ্চিত করা গেলে এটা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে সেটা আইনগত ভিত্তি পাবে কিনা আমি জানি না। এখানে আইনজ্ঞরা আছেন, তারাই ভালো বলতে পারবেন।

অপরদিকে, আগামী ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বাতিল অথবা স্থগিত করতে হবে। এ বিষয়ে আজকের সভার অনেকেই একমত পোষণ করেছেন বলে দাবি করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের উদ্যোগে যে তিনটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, ওইসব বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন স্থগিত করার কথা বলা হয়েছিল। অন্য বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৯ ডিসেম্বর। আওয়ামী লীগের যদি সদিচ্ছা থাকতো, তাহলে নির্বাচন স্থগিত করা যেতো।

নির্বাচন স্থগিত ও সংলাপে বসে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পন্থা বের করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ ধরনের নাগরিক আলোচনা ও মতামত কোনো পক্ষই গ্রহণ করবে না বলে আলোচকদের বক্তব্যের বিষয়ে শমসের মবিন বলেন, আপনারা চাইলে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। আপনাদের মতামত তুলে ধরতে পারেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতার কাছে যেতে পুলিশ আপনাদের বাধা দিতে পারে। কারণ, বর্তমানে বিরোধীদলীয় নেতা অবরুদ্ধ।

৫ জানুয়ারির নির্বাচন হলে তা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের জন্য অবমাননাকর হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ব্যবসায়ী তপন চৌধুরী বলেন, দেশ মধ্যমেয়াদী নয় বরং দীর্ঘমেয়াদী সংকটে। দেশ স্বাধীন না হলে আমরা এখানে থাকতাম না। কিন্তু দেশ এখনও দুই ভাগে, দুই মেরুতে বিভক্ত।

তিনি বলেন, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোতে কোনো গণতন্ত্র নেই। প্রধান দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে কারো কথা বলার সাহস নেই। তারা দুইজন যদি একবার দেশের কথা চিন্তা করেন, দেশ পরিবর্তিত হবেই। এই দেশ ও স্বাধীনতা কেউ এসে দিয়ে যায়নি।

এ সময় তিনি এক পত্রিকায় উল্লিখিত সংবাদের বরাত দিয়ে বলেন, পত্রিকায় লিখেছে, দেশ মধ্যমেয়াদী সংকটে। কিন্তু দেশ মধ্যমেয়াদী নয়, দেশ দীর্ঘমেয়াদী সংকটে।

এদেশে যাদের কোনো অবদান নেই, তারাই দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে।

এ সময় ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র (এফবিসিসিআই) সাবেক প্রেসিডেন্ট আনিসুল হক বলেন, সমাধানের কোনো রাস্তা দেখছি না। এখানে একটিও নতুন কথা শুনছি না। রাজনীতিবিদ যারা আছেন, তারা বিব্রত হন না। যে স্বৈরশাসককে ক্ষমতা থেকে নামিয়েছিলেন, তার পেছনে ২০ বছর ধরে ঘুরছেন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। আমরা ক্লিবলিঙ্গ হয়ে গেছি, আমাদের বলার সাহস নেই।

কৃষি, পোল্ট্রিসহ অন্যান্য খাত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ থেকে উত্তরণের কোনো পথ নেই বলে হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, আমরা বিক্ষুব্ধ, উদ্বিগ্ন, হতাশ।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা কিছু কিছু স্থানে যা দেখেছি, এখনো দেশের সর্বত্র সেই অবস্থা!

তিনি বলেন, নির্বাচনে দিলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় না। এর আগে ও পরে গণতন্ত্র থাকতে হবে।

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, নির্বাচন ৫ জানুয়ারি হচ্ছে না। কারণ, সংবিধান অনুযায়ী জনগণ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। নির্বাচনে জনগণের রায়ের প্রতিফলন হচ্ছে না। সংবিধানের মূল্যবোধও কল্পনার বিরুদ্ধে।

এ সময় তিনি ব্যারিস্টার রফিক-উল হককে উদ্দেশ করে তার কাছে জানতে চান, আইন মোতাবেক আদালতের এ বিষয়ে কিছু করার আছে কিনা।

মাহফুজ আনাম আরো বলেন, ১৫৪ আসনের সংসদ সদস্য এরই মধ্যে নির্বাচিত হয়েই গেছেন। বাকি ১৪৬ আসনে তথাকথিত প্রতিযোগিতা হবে। এ জন্য নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। এটা আওয়ামী লীগের জন্য একটি কলঙ্কময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে।

নবম সংসদ এখনো বহাল আছে। সরকারি দল ও বিরোধী দল সংসদে গিয়ে একটি নির্বাচনকালীন সরকারের ভাবনা তৈরি করতে পারে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতিকে প্রধান করে এটি করা যেতে পারে। কারণ, তিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।

মাহফুজ আনাম বলেন, নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। তাই এটি পুনর্গঠন করতে হবে। নির্বাচন হলে প্রাণহানি, নাশকতা ও সহিংসতা হবেই।

তাই, নির্বাচন যেন না হয়, সে জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান থাকতে পারেন না। একজন ব্যক্তির ইচ্ছায় প্রশাসন চলতে পারে না। আর নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠিত করতে হবে। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসীদের যেন নমিনেশন দেওয়া না হয়, সে জন্য চাপ সৃষ্টি করতে হবে। জামায়াত-শিবিরকে সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে।

দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, দেশ তো এভাবে চলতে পারে না। এ নির্বাচন হওয়া উচিত হবে না।

নির্বাচন করাও সঠিক হবে না বলে তিনি প্রস্তাব করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য পরবর্তী যে ৯০ দিন সময় হাতে রয়েছে, সে সময়ের মধ্যে নির্বাচন করা যেতে পারে।

অধ্যাপক পিয়াস করিম বলেন, আমরা হতাশায় আকণ্ঠ ডুবে আছি। কেউ আমাদের কথা শুনছে না। প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা কারো কথাই শুনছেন না।

সিপিবির উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আহসান খান বলেন, দেশে এক ধরনের লুটেরা শ্রেণী গড়ে উঠেছে। তারা ক্ষমতাকে ব্যবহার করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবটুকুই সন্ত্রাস-সহিংসতা ও নাশকতা। এটা একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি। জামায়াত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে নেমেছে। এর সুবিধা পেতে পারে আওয়ামী লীগ। আবার এ বিষয়টি দেখিয়ে বিদেশি সমর্থনও পেতে পারে। স্বাধীনতাবিরোধী এ শক্তিকে দমন করা দরকার। তাদের নিষিদ্ধ করা দরকার।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, সংকটের সমাধান আমাদেরই করতে হবে। বাইরের কারো মাধ্যমে এর সমাধান করা যাবে না। দুই নেত্রীকে একসঙ্গে বসতে হবে। কথা বলতে হবে।

২৯ তারিখে বিএনপির সমাবেশকে সামনে রেখে সরকার সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এমন করলে সংকটের সমাধান হবে কীভাবে!

দুই নেত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি আবারও বলেন, সংকট সমাধানে আপনারা একসঙ্গে বসুন, আলোচনা করুন। দেশের স্বার্থ বড় করে দেখুন।

এ সময় সঞ্চালক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যকে নির্বাচন নিয়ে বলতে অনুরোধ করলে তিনি বলেন, এখন নির্বাচন বাতিল নয়, পেছানো যেতে পারে। ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে লাভ নেই। সবাই মিলে বসে এর সমাধান করতে হবে।

সৈয়দ আবুল মুকসুদ বলেন, দেশ যে একটি গভীর সংকটে রয়েছে, তা একটি শিশুও বোঝে। ’৭১-এর পর আর কখনো এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি। নাগরিক সমাজকে এক সঙ্গে করে কিছু মতামত নিয়ে সেগুলো রাজনীতিকদের কাছে সুপারিশ আকারে পাঠালে সমাধান হতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, সংকটের কেন্দ্রবিন্দু গণতন্ত্র। গণতন্ত্র কিন্তু মৌলিক পরিহার্য নয়। ১৫৪ জন নির্বাচিত হয়ে গেল। ৫ কোটি লোক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলো না। সবচেয়ে বড় সংকট সহিংসতার সংকট।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংঘাত সহিংসতায় অগণতান্ত্রিক শক্তি লাভবান হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা অন্ধকার জগতে বাস করছি। আমাদের নেতারা দেখছেন না, শুনছেন না। তারা ঝুঁকি সৃষ্টি করছেন দেশের মানুষের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, এমনকী নিজেদের জন্যও।

তিনি বলেন, তারা অসুস্থ রাজনীতি করছেন। দেশ ও জগণের প্রত্যাশা ও স্বাধীনতার স্বপ্ন ধূলিসাৎ করছেন। সবাই দেশের স্বার্থ ধূলিসাৎ করে ক্ষমতায় থাকতে চান। কিন্তু, দেশবাসী শান্তি চায়, পরিত্রাণ চায়। এই সংঘাত সহিংসতায় লাভবান হচ্ছে অগণতান্ত্রিক শক্তি।

এসময় ড. ইফতেখারুজ্জামান দুই নেত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, অভিন্ন লক্ষ্যে না হোক, অভিন্ন ঝুঁকির কারণে হলেও এক লক্ষ্যে পৌঁছান।

বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ করে বলেন, রক্তক্ষয়ী সম্ভাবনার আহ্বান পরিহার করুন। নির্বাচন প্রতিহত করার চেয়ে অনেক বেশি হয়ে গেছে। তার চেয়ে ভোটের দিন প্রতীকী অনশন করুন।

এসময় তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে জাতীয় স্বার্থে নির্বাচন বাতিল করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সিপিডির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস থেকে একমত হতে পারছে না কেউ। আর একমত না হলে চলমান সংকটের সমাধান হবে না। আন্তরিকভাবে আপনারা আলোচনা করুন; না হলে অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে। কেবল সংসদ নির্বাচনই নয়, সংকটের একটা স্থায়ী সমাধানও করতে হবে।

তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। সম্পদ, গাছপালা নিধন হচ্ছে। শিক্ষা জীবন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। খেটে খাওয়া মানুষদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।

এ সময় অধ্যাপক আবু সাঈদ বলেন, দেখে মনে হয় না, দেশ বলে কিছু আছে। জনগণ বলে কিছু আছে। দেশে শুধু দুটি স্বৈরতন্ত্রের স্বার্থ আছে। আমাদের কান্না-আর্তনাদ নিয়ে কোনো চিন্তা নেই কারো।

সুশীল সমাজ অনেক চেষ্টা করেছে, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। ব্যবসায়ীরা আবেদন-নিবেদন করেও কোনো ফল পায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কিন্তু মানুষের স্বাধীনতা অর্জন করতে পারিনি। কোনো দেশে ‘ইলেক্টেড পার্লামেন্ট’ রেখে ইলেকশন হয় না।

পঞ্চদশ সংশোধনীর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী থাকলে এক দলীয় নির্বাচন হবেই। নির্বাচন প্রত্যাহার করতেই হবে, এটা নির্বাচন নয়।

এসময় তিনি পঞ্চদশ সংশোধনীকে ‘স্বৈরতন্ত্রের নামান্তর’ বলেও উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে রাজনীতিতে আসতে। না হলে ‘নান্টু-পিন্টুরাই’ রাজনীতিতে থেকে যাবে।

এ সময় সঞ্চালক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য তাকে এখনো সংসদ সদস্য কিনা প্রশ্ন করলে উত্তরে তিনি বলেন, আই অ্যাম কনফিউজড।

পার্থ বলেন, আমরা প্রতি পাঁচ বছর পর পর নির্বাচন কমিশনে একটি হলফনামা দেই। হলফনামার সঙ্গে আমরা কোনো অঙ্গীকারনামা দেই না।

তিনি সিপিডিকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনাদের আন্দোলনের মাধ্যমে যেভাবে হলফনামা এসেছে, সে রকম আরেকটি আন্দোলন করে অঙ্গীকারনামাও নিয়ে আসেন।

অঙ্গীকারনামা হবে যে, সংসদ সদস্যরা ভিওআইপি, মৎস্য ব্যবসা ও রেডিও-টিভি লাইসেন্স নিতে পারবেন না।

তিনি বলেন, আগে দেখেছি, সংসদ সদস্যরা বেবিট্যাক্সিতে করে সংসদে আসতেন। এখন দেখি, তারা দামি গাড়িতে আসেন। এটা কীভাবে সম্ভব?

নাগরিকদের কথা আমলে নেওয়ার বিষয়ে পার্থ বলেন, যেখানে জন কেরি, ড. ইউনূস পাত্তা পান না, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বলা হচ্ছে- ‘মাইন্ড ইউর বিজনেস’। এখন সিপিডিকে বলছে, আপনারা কী করবেন!

এ বিষয়ে তিনি বলেন, তরুণদের রাজনীতিতে আসার জন্য সিপিডিকে রাস্তা তৈরি করে দিতে হবে। তারা রাজনীতিতে না আসলে এ পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, সাবেক তত্ত্ববধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, হোসেন জিল্লুর রহমান, স্থপতি মোবেশ্বর হোসেন, পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা বেলার নির্বাহী আইনজীবী রিজওয়ানা হাসান, অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ