Home / জাতীয় / কী ঘটবে ২৯ ডিসেম্বর?
কী ঘটবে ২৯ ডিসেম্বর?

কী ঘটবে ২৯ ডিসেম্বর?

রোববার ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ করে সরকার ও বিরোধী দল মুখোমুখি অবস্থানে। নয়াপল্টনে গণজমায়েতের অনুমতি চেয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আবেদন করলে অনুমতি দেয়া হয়নি। শুক্রবার ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন আশঙ্কায় বিরোধী দলের কর্মসূচির অনুমতি দেয়া হবে না। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ১৮ দলের নেতারা প্রকাশ্যেই ঘোষণা দেন যে কোনো মূল্যে রোববারের গণজমায়েত হবেই। ঢাকা অভিমুখে গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় যেখানে বাধা দেয়া হবে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলারও হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
এদিকে অনুমতি না দেয়ার পাশাপাশি বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীরা যাতে ঢাকায় আসতে না পারে সেজন্যও পথে পথে নানা বাধার সৃষ্টি করছে সরকার। মার্চ ফর ডেমোক্রেসি সফল করতে বৃহস্পতিবার থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপক সংখ্যক নেতাকর্মীর ঢাকায় আসার প্রস্তুতি দেখে ক্ষমতাসীন দলের টনক নড়তে শুরু করে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসতে বাধা দেয়া না হলেও শুক্রবার থেকে নেতাকর্মীদের নানাভাবে ঢাকা আসতে বাধার সৃষ্টি করা হয়। ইতিমধ্যে সারা দেশ থেকে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সারা দেশে চলছে গণগ্রেফতার। সরকার ও বিরোধী দলের এমন মুখোমুখি অবস্থানের কারণে সাধারণ মানুষ খুবই উদ্বিগ্ন। সরকার ও বিরোধী দল তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে ওইদিন সারা দেশে ভয়াবহ সহিংসতা ও ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কাও করছেন অনেকে।
১৮ দলীয় জোটের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ দেশব্যাপী ধরপাকড় শুরু হয়েছে। নগরীর কমলাপুর স্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এবং গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে আগত যাত্রীদের ব্যাপকভাবে তল্লাশী করছে পুলিশ। বোর্ডারদের যাচাই-বাছাই করে হোটেলে থাকার অনুমতি দেয়ার জন্য ঢাকার সব হোটেল কর্তৃপক্ষকে অলিখিত নোটিস দেয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। যানবাহন থামিয়ে বাসে উঠে সন্দেহভাজন যাত্রীদের তল্লাশী শুরু করেছে পুলিশ। এ অবস্থায় রোববার ঢাকায় কী পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, তাই নিয়ে জনমনে এখন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। সবার মনে একটাই প্রশ্ন কী ঘটবে ২৯ ডিসেম্বর?
এদিকে বিএনপি যে কোনো মূল্যে নয়াপল্টনেই সমাবেশ করতে অনড় অবস্থান নিয়েছে। সারা দেশ থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা এরই মধ্যে বাস, লঞ্চ, নৌকা, ট্রেন, ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন উপায়ে ঢাকা আসতে শুরু করেছেন। তবে মহাসড়কের পথে পথে পুলিশ অবস্থান নিয়ে তাদের যানবাহনে তল্লাশি ও সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করছে। পুলিশের এমন বাধাবিপত্তি পেরিয়ে যারা ঢাকায় ঢুকতে পারছেন, তারা অবস্থান নিচ্ছেন আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও দলীয় নেতা-কর্মীদের বাসাবাড়িতে। রোববার এ সমাবেশে জামায়াত আলাদাভাবে ভোরেই যোগ দেবে। পল্টনে বড় ধরনের মিছিল নিয়ে অথবা আলাদাভাবে নানা কৌশলে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে ১৮-দলীয় জোট নেতাদের। তবে শেষ পর্যন্ত সমাবেশ করতে না পারলে বিকল্প ব্যবস্থারও চিন্তাভাবনা চলছে। বেগম জিয়া নিজেই সংবাদ সম্মেলন করে ১ জানুয়ারি থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত অসহযোগ কিংবা গণকারফিউ কর্মসূচি ঘোষণা দিতে পারেন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ