Home / জাতীয় / ‘একজন নাশকতাকারীও সাভার হয়ে ঢাকা ঢুকতে পারবে না’
‘একজন নাশকতাকারীও সাভার হয়ে ঢাকা ঢুকতে পারবে না’

‘একজন নাশকতাকারীও সাভার হয়ে ঢাকা ঢুকতে পারবে না’

সাভার অঞ্চলের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা-আরিচা হাইওয়ের ওপর কড়া প্রহরা বসিয়েছেন ডা. এনামুর রহমান। সাভারে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এই চিকিৎসক-রাজনীতিক বলেন, “দেশে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তাদের প্রতিহত না করতে পারলে দেশের মূল্যবান সম্পদ বাঁচানো যাবে না। অতএব ঢাকায় ‘রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে যে নাশকতার প্লট তৈরি’ করা হচ্ছে তা যে কোনো উপায়ে ঠেকিয়ে দিতে হবে।”

শনিবার দুপুরে সাভারে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় রাস্তায় আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সক্রিয় রয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও। তারা ঢাকামুখী গাড়িগুলো থামিয়ে সন্দেহভাজনদের আটকে দিচ্ছেন। এনামুর রহমান বলেন, সাভারে আওয়ামী লীগকে কখনোই এতটা সক্রিয় হতে দেখিনি।

আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ডাঃ মো. এনামুর রহমান। তিনি সাভারে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সত্ত্বাধিকারী।
বাংলানিউজের সঙ্গে এনামুর রহমানের কথা হয় তার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কনফারেন্স হলে। সেখানে তিনি তার রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পাশাপাশি, সাভারকে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক জোনে পরিণত করার লক্ষে স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথা জানান।

গত এপ্রিলে সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজার আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে এরই মধ্যে অনেকের কাছেই সুপরিচিত এনামুর রহমান। হঠাৎ করেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রাপ্তি ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে এনামুর রহমান বাংলানিউজকে জানান তার রাজনৈতিক অতীতের কথা।

এনামুর জানান, রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি ১৯৬৮ সালে ছাত্রাবস্থায়। সেবছর পাঠ্যক্রমে যুক্ত হয় ‘দেশ ও কৃষ্টি’ নামে একটি বই। যে বইটি ছিলো বাংলাদেশি ও বাঙালির চিরায়ত কৃষ্টির বিরোধী। বইয়ের অনেক লেখাই ছিলো এ অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্যের পরিপন্থি। সেই বইয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন কিশোর ছাত্র এনামুর রহমান।

এরপর ৬৯ এর গণ অভ্যূত্থানেও ছিলেন রাজপথে সক্রিয়।

এনামুর রহমান বলেন, বয়সে ছোট বলে তখন মুক্তিযুদ্ধে যেতে পারিনি, সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নিতে পারিনি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে ছিলাম সক্রিয় কর্মী। এনামুর জানান, রাজাকার আল-বদরদের যেসব চিঠি মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ধরা পড়তো সেগুলোর পাঠোদ্ধার ছিলো তার দায়িত্ব। এসব চিঠি উর্দুতে লেখা থাকতো। এবং তিনি উর্দু লিখতে ও পড়তে জানতেন।

মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনাকে ধারণ করেই জীবনের পথ চলেছেন। যুদ্ধের পর নিজের লেখা-পড়া শেষ করেছেন। চিকিৎসা-শাস্ত্রে ডিগ্রি নিয়ে চিকিৎসক হয়েছেন। হাসপাতাল গড়েছেন। এর মধ্যে আর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা রাখেননি।

কিন্তু এবারের নির্বাচনের ছয় মাস আগে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাকে ডেকে সাভারের এই আসনে নির্বাচন করার প্রস্তাব দেন।

“মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের একজন মানুষ হিসেবে জাতির পিতার কন্যার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করতে আমার কোনো দ্বিধা ছিলো না। এতটুকু ভাবতেও হয়নি,” বলেন এনামুর রহমান।

এনামুর রহমান জানান, সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও দেশ ও দেশের মানুষকে নিয়ে তার ভাবনা বরাবরই রয়েছে। যখনই সুযোগ পেয়েছেন সরকারকে মানুষের উন্নয়নের পক্ষে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছেন। পুলিশের বেতন বাড়িয়ে তাদের কাজে আগ্রহী করে তোলা, চিকিৎসার মানোন্নয়নে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, ছাত্রলীগকে কার্যকর করে তুলতে সত্যিকারের ছাত্রদের এই রাজনীতির নেতৃত্বে নিয়ে আসার বিভিন্ন ফোরামেই বলেছেন তিনি।

এনামুর রহমান বলেন, আজ দেশে যে অবস্থা শুরু হয়েছে। দেশজুড়ে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র যেভাবে নাশকতা শুরু করেছে তা প্রতিহত করতে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকেই আবার সোচ্চার হতে হবে। আর সেই কারণেই মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নিয়েই আমরা এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। এক্ষেত্রে সাভারের বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খান, চন্দন কুমার সাহা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা কমান্ডার আইনউদ্দিনসহ আরও অনেকেই তার সঙ্গে রয়েছেন বলে জানান এনামুর রহমান।

তিনি বলেন, প্রগতি ও উন্নতিকে ধ্বংস করতে যারা কাজ করছে তাদের প্রতিহত করতে বঙ্গবন্ধু কন্যার হাতকে শক্তিশালী করতেই আজ আমরা মাঠে নেমেছি।

দলের মনোনয়ন পাওয়ার পরের দিন থেকেই মাঠে আছেন এ কথা জানিয়ে ড. এনামুর রহমান বলেন, যে আস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আমাকে সুযোগ দিয়েছেন আমি তার আস্থার প্রতি যথার্থ সম্মান দেখাতে চাই।
সাভার দিয়ে কোনো নাশকতাকারী ঢাকায় ঢুকতে পারবে না, এমন কথা দৃঢ়তার সঙ্গে জানান এনামুর রহমান। তিনি বলেন, নদী পথে ব্রিজের নিচে টহল বসানো হয়েছে। সাভারের প্রতিটি আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী সক্রিয় রয়েছে। আইন-শৃংখলাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, নেতা-কর্মীরা সক্রিয় হওয়াতে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী বাড়তি মনোবল নিয়ে কাজ করতে পারছে।

এমপি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর কাজের চাপ অনেক বেড়ে গেছে, বিষয়টি কেমন উপভোগ করছেন? এমন প্রশ্নে এনামুর রহমান বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন সুসম্পন্ন হলে নির্বাচনের গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশিত হলেই এ নিয়ে কথা বলবো।

তবে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রকে দেশে আরও বেশি নিষ্ক্রিয় করে তুলতে বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে ধীরে ধীরে যেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান এনামুর রহমান।

সাভার অর্থনৈতিকভাবে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। সরকার যাতে এই অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে আরও বেশি বরাদ্দ রাখে ও উদ্যোগ নেয় সে লক্ষ্যেও কাজ করবেন বলে জানান এনামুর রহমান।

সাভারে শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বল্প ও নিয়ন্ত্রিত খরচে বসবাসের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি। এজন্য সরকারের কাছে খাস জমিতে আরও বেশি করে ডরমিটরি বানিয়ে শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা করার কথা বলেন তিনি।

সাভারে যাতে রানাপ্লাজার মতো এমন ট্রাজিক ঘটনা আর না ঘটে সে লক্ষ্যে সব সময় সজাগ থাকবেন বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সাভারের আমিনবাজার থেকে নয়াবাজার পর্যন্ত আট লেনের মহাসড়কে ফুটপাতে যেসব দোকান বসেছে সেগুলোর হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে সরিয়ে নেওয়া হবে। আর তাতে সাভারের এই সড়ক থাকবে সম্পূর্ণ যানজটমুক্ত, প্রত্যাশা এনামুর রহমানের।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি কেমন লাগছে? এমন প্রশ্নে এনামুর রহমান বলেন, ভোটাভুটির মাধ্যমেই নির্বাচিত হতে চেয়েছিলাম। নির্বাচনের পূর্ণ প্রস্তুতিই ছিলো। ভোটার তালিকা সংগ্রহ করে, কেন্দ্র অনুযায়ী কর্মী নিয়োগ এমনকি পোলিং এজেন্ট নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছিলো।

সাভারের এই আসনে জাতীয় পার্টির আবুল কালাম আজাম প্রার্থীতা প্রত্যাহার করায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন ডাঃ এনামুর রহমান। তবে এই আসনে বিএনপি নির্বাচনে এলে ডাঃ দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিনের সঙ্গে তার জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো বলেই মনে করেন তিনি।

চিকিৎসা ও ব্যবসা পেশার পর রাজনীতিতে জড়ানো ও এমপি হওয়ার অনুভূতি কি? এমন প্রশ্নে ডাঃ এনামুর রহমান বলেন, “শপথ নেওয়া হয়নি তাই অনুভূতি এখনো সেভাবে নাড়া দিচ্ছে না।”

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ