Home / জাতীয় / ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচির আড়ালে নাশকতার ছক
‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচির আড়ালে নাশকতার ছক

‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচির আড়ালে নাশকতার ছক

‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচির নামে রাজধানীতে নাশকতার ছক এঁকেছে বিএনপি-জামায়াত জোট। ছকের অংশ হিসেবে সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রশিক্ষিত ক্যাডারদের এরই মধ্যে রাজধানীতে আনা হয়েছে। রাজধানীর কোন পয়েন্টে কিভাবে কোন কায়দায় তাণ্ডব চালানো হবে, তারও প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন কর্মসূচির সমন্বয়করা

গোয়েন্দাসূত্র ও বিএনপি-জামায়াতসূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল থেকে এ ক্যাডাররা কাঁচা বাঁশ ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামবে। প্রথমে চোরাগোপ্তা হামলা, পরে সময়-সুযোগ বুঝে সরকারি স্থাপনায় হামলা চালাবে। এরপর টার্গেট হবে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

তবে এই চক্রের সব ধরনের নাশকতা মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। রাজধানীর বাইরে থেকেও পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স ঢাকায় আনা হয়েছে।

তবে কতো সংখ্যক সদস্য ঢাকায় আনা হয়েছে তা কৌশলগত কারণে জানাতে রাজি হননি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।

ঢাকা মেট্রেপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী কমিশনার আবু ইউসুফ জানান, নাশকতা ঠেকাতে সব ধরনের প্রস্ততি রয়েছে পুলিশের। যেকোনো ধরনের তাণ্ডব ঠেকাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও প্রবেশপথে মোতায়েন করা থাকবে। পোশাকধারী পুলিশ-ৠাব সদস্যদের পাশাপাশি শাদা পোশাকে গোয়েন্দারাও তৎপর থাকবেন।

তবে কতো সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হবে জানাতে চাইলে কৌশলগত কারণে তা-ও বলতে রাজি হননি এই কর্মকর্তা।

অন্যদিকে শুত্রুবার ডিএমপির মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম ১৮ দলীয় জোটকে গণজমায়েতের অনুমতি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের জানান, সারাদেশে যারা রাজনৈতিক কর্মসূচির ব্যানারে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করছে তাদেরকে ঢাকায় ডেকে এনে সেই তাণ্ডব রাজধানীতে চালাতে চায় বিএনপি-জামায়াত।

অন্যদিকে রাজশাহীতে বিএনপি জামায়াতের হামলায় নিহত পুলিশ সদস্য সিদ্ধার্থ চন্দ্র রায়ের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার সাংবাদিকদের জানান, পুলিশের ওপর হামলা করে যারা রাষ্ট্রের কাঠামো দুর্বল করতে চায় তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।

রোববারের গণজমায়েতকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি সম্পর্কে ৠাবের মিডিয়া উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, গণজমায়েতকে কেন্দ্র করে রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত ৠাব সদস্যরাও মাঠে থাকবেন। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফোর্স মাঠে থাকবে।

জামায়াত-শিবির সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাস ধরে সারাদেশে নাশকতার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত ছিল, তাদেরকে ঢাকায় আনা হয়েছে। উদ্দেশ্য, রাজধানীতে তাণ্ডবে তাদেরকে ব্যবহার করা।

শিবিরসূত্র আরো জানায়, রাজধানীর বাইরে থেকে আসা এসব ক্যাডারদের সঙ্গে রাজধানীর প্রশিক্ষিত ক্যাডাররা সমন্বয় করবে। রোববার সকাল ৬টার পর থেকে তারা রাজপথে অবস্থান করবে।

যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের পরের দিন গত ১৩ ডিসেম্বর রাজধানীর মতিঝিল, রামপুরা, মালিবাগ ও কমলাপুরসহ কয়েকটি জায়গায় তাণ্ডব চালায় জামায়াত-শিবির চত্রু। রোববার একই কায়দায় মাঠে নামার প্রস্ততি রয়েছে তাদের।

শিবিরের দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, পুলিশ যেভাবে মিছিল দেখামাত্র গুলি করে, তাতে আমাদের কৌশলী হওয়া ছাড়া উপায় নেই।

তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের ফোন ট্র্যাকিং করে অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার কারণে যথাস্থানে আমরা কোনো মিছিল করতে পারি না।

অন্য আরেকটি সূত্র জানায়, রোববার রাজধানীতে বড় কিছু করতে হবে, এমন নির্দেশনা থেকে কিছু কর্মীকে কিছু সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করতে বলা হয়েছে ফোনে। এছাড়া পুলিশ ও মিডিয়া জানবে এক জায়গায় আর মিছিল করবো অন্য জায়গায়।

মহানগর শিবিরের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রোববার রাজধানী ফাঁকা থাকবে। সুতরাং, কোনো ঘটনা ঘটার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে পুলিশ হাজির হয়ে যাবে। তাই এবার যা করতে হবে, কয়েক মিনিটের মধ্যে করতে হবে, বেশি সময় নেওয়া হবে না। এ নির্দেশনা কর্মীদের দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দাসূত্র বলছে, জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে তাণ্ডব চালাবে। সেটা সম্ভব না হলে তারা নিজেরাই রাজপথে নামবে বলে প্রস্তুতি নিয়েছে।

জানা গেছে, কাদের মোল্লার ফাঁসির পর রাজধানীতে বড় ধরনের নাশকতা করার পরিকল্পনা করেছিল জামায়াত-শিবির। কিন্তু মতিঝিলসহ কয়েকটি জায়গা ছাড়া বড় কিছু করতে ব্যর্থ হয় তারা। এরপর থেকে সুযোগ খুঁজছিল তাণ্ডব চালানোর। এবার বিএনপির ডাকে এই কর্মসূচিকে ঘিরে সকল ধরনের প্রস্ততি সেরে ফেলেছে দলটি। ১৮ দলের এই ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিকে সুযোগ হিসেবে নিতে চায় জামায়াত-শিবির।

জানা গেছে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ঢাকা অভিমুখে রোববারের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’কে সফল করতে সারাদেশের ক্যাডারদের শনিবারের মধ্যে ঢাকায় আসার নির্দেশ দিয়েছিল শিবির। নির্দেশ মোতাবেক শুক্রবারের মধ্যে অধিকাংশ কর্মী ঢাকায় প্রবেশ করেছে বলেও দাবি করছে শিবির।

শিবিরের নেতাদের আরও দাবি, এর আগেও ১৮ দলের ঢাকার মহাসমাবেশে সরকার নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করেছিল। এবারও সে রকম একটি পরিস্থিতি সরকার তৈরি করবে এমন আশঙ্কা থেকেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে ঢাকার আশেপাশের জেলাগুলোর কর্মীদের শনিবার রাত পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তারপর রাজধানীতে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি মতিঝিলের মতো অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দুই থেকে আড়াই লাখ লোকের সমাগম ঘটাতে চায় জামায়াত-শিবির। ঢাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদেরও মাঠে নামানো হচ্ছে।

জামায়াত-শিবিরের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, ১৮ দলের মার্চ ফর ডেমোক্রেসি সফল করতে গত সপ্তাহে রাজধানীতে দফায় দফায় যৌথ প্রস্তুতি সভাও করেছে তারা। ঢাকা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল, সহকারী সেক্রেটারি সেলিম উদ্দিন, শিবিরের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বারসহ জামায়াত-শিবিরের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা এসব সভায় উপস্থিত ছিলেন। যৌথসভাগুলোতে ২৯ ডিসেম্বরের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচি সফল করতে সব ধরনের করণীয় ঠিক করা হয়।

যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে নেতাকর্মীদের হাতে বাঁশের লাঠি সম্বলিত জাতীয় পতাকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এগুলো ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশদ্বার ও আশপাশের জেলা থেকে সরবরাহ করা হবে বলেও সূত্রে জানা গেছে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ