Home / আইন / হয়রানি ছাড়া ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আহ্বান প্রধান বিচারপতির

হয়রানি ছাড়া ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আহ্বান প্রধান বিচারপতির

বিচারপ্রার্থী জনগণকে স্বল্প সময়ে কোনোরূপ হয়রানি ব্যতিরেকে ন্যায় বিচার প্রদান নিশ্চিত করতে জজ ও ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন।

শুক্রবার বিকেল ৩টায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা জজ ও সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।

এসময় প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘স্বল্প সময়ে স্বল্প ব্যয়ে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করার মহান দায়িত্ব তোমাদের উপর অর্পণ করা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই তোমাদের এ দায়িত্ব প্রতিপালনের ক্ষেত্রে কোনোরূপ পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শন করা সমীচীন হবে না।’

সমাজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে মামলা মোকদ্দমার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এ বিপুল সংখ্যক মোকদ্দমা নিস্পত্তির অপেক্ষায় থাকে বিচার প্রার্থী জনগণ। তোমরা মনে রাখবে বিচার কার্যে অহেতুক দীর্ঘসূত্রিতা বিচারপ্রার্থী জনগণের মনে বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে বিরূপ ধারণার জন্ম দেয়। বিচার বিভাগ সম্পর্কে এরূপ বিরূপ ধারণা তোমাদের জন্য কোনোরূপ সুফল বয়ে আনবে না।’

তথ্য প্রযুক্তির উন্নত ব্যবহারের ফলে জনগণ তাদের অধিকার সম্পর্কে আগের তুলনায় ‍অনেক বেশি সচেতন মন্তব্য প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এর ফলে (জনগণ সচেতন হওয়ায়) জনগণ সরকারের অন্য প্রতিষ্ঠানের ন্যায়বিচার বিভাগ সম্পর্কে সমালোচনা হতেও পিছু হটে না। বিচার বিভাগকে এরূপ সমালোচনার ঊর্ধ্বে আসীন করার জন্য তোমাদের নিয়মনিষ্ঠ, সৎ, মানবিক মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও পরিশীলিত আচরণের অধিকারী হতে হবে।’

বিচার বিভাগের সুসংবাদ তাকে আনন্দিত করে এবং দুঃসংবাদ তাকে ব্যথিত করে মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগের সম্মানের সহিত আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই বিচার বিভাগের সম্মানহানি হয় এমন কাজ হতে তোমরা বিরত থাকবে।’

জামিন ও অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে দ্রুত এবং এজলাসে অবস্থানকালীন সময়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করতে হয় ‌উল্লেখ করে বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘এরূপ সিদ্ধান্ত প্রদানে বিলম্ব হলে বিচারপ্রার্থী জনগণ সহ সংশ্লিষ্টদের মনে সন্দেহের জন্ম দেয়।’

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার এ কে এম শামসুল ইসলামের সঞ্চালনায় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত এ সভায় বিচার বিভাগীয় ২শ’ ৫০ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।