Home / আইন / জামায়াতের বিরুদ্ধে শিগগিরই মামলা
জামায়াতের বিরুদ্ধে শিগগিরই মামলা

জামায়াতের বিরুদ্ধে শিগগিরই মামলা

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত দল জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে সরকার মামলা করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যরিস্টার তুরিন আফরোজ।

শুক্রবার বিকালে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিতের দাবি’ শীর্ষক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি একথা জানান।

তিনি বলেন, জামায়াতের বিচার আসন্ন। ১৯৭১ সালে জামায়াত যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তার বিচারের জন্য আমরা খুব শিগগিরই মামলা করতে যাচ্ছি।

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, কাদের মোল্লার ফাঁসির পর যারা দেশে-বিদেশে মর্মাহত হয়েছেন তারা আগামী দিনগুলোতে প্রস্তুত থাকুন। আগামীতে যুদ্ধাপরাধীদের যে রায়গুলো হবে, আশা করি সেগুলোও আমাদের পক্ষে আসবে। তাই আপনাদের আরও মর্মাহত হতে হবে। সামনের দিনগুলোতে এই নোংরা আদর্শকে আমাদের হত্যা করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা শুধু কথায় নয়, কাজ করে দেখিয়েছি কীভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হয়। এখন আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবো বলবো না, বলবো বিচার করেছি।

বিক্ষোভ সমাবেশে ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, কাদের মোল্লার ফাঁসির পর পাকিস্তানের সংসদে নিন্দা প্রস্তাব আনা হয়েছে। আমরা তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, ’৭১ এ পাকিস্তান পরাজিত হয়েছিল, আমরা বিজয়ী হয়েছিলাম। আর পরাজিতদের স্থান বিজয়ীদের পায়ের তলে। আমার বিজয়ী হয়েছি, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবো, পাকিস্তানের কিছু বলার নেই।

তিনি বলেন, সরকারকে আমরা বার বার বলেছি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করুন। কিন্তু সরকার তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত রেখেছে। আমরা বলতে চাই, এই সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে হলে পাকিস্তানকে ভিয়েনা কনভেনশন মানতে হবে। তা না হলে সরকারকে আন্তর্জাতিক আদালতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে।

শাহরিয়ার কবির বলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশের সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা হচ্ছে তাদের পণ্য বর্জন করা। যতদিন তারা ক্ষমা না চাইবে ততদিন পর্যন্ত তাদের প্রতি এই ঘৃণা প্রকাশ অব্যাহত রাখতে হবে।

২৯ ডিসেম্বরের বিরোধীদলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ কর্মসূচি কাদের মোল্লার ফাঁসির প্রতিশোধ নিতে ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই, ২৯ ডিসেম্বর ঘৃণা দিবস। আমরা এ কর্মসূচি প্রতিহত করবো।

শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, আমরা পাকিস্তানের পণ্য বর্জন কর্মসূচি পালন করছি। দেশের সাধারণ মানুষের মনোভাব দেখেছি। তারা মনে-প্রাণে পাকিস্তানকে ঘৃণা করে।

তিনি জনান, আগামীকাল (শনিবার) থেকে পাকিস্তানের পণ্য বর্জন কর্মসূচি ঢাকার বাইরে শুরু হবে। প্রতিটি জেলা, উপজেলা, গ্রামে আমরা এ ক্যাম্পেইন চালাবো।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি যদি পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন তাহলে এদেশের সাধারণ মানুষ আগামীতেও আপনার পাশে থাকবে।

যেসব যুদ্ধাপরাধীদের রায় ঝুলে আছে তা অবিলম্বে প্রদান ও কার্যকরের উদ্যোগ গ্রহণে ট্রাইব্যুনালের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, শিক্ষাবিদ এ এন রাশেদা, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এস এম শুভ, জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি শামসুল ইসলাম সুমন, মানবাধিকার কর্মী শিপ্রা বোস, গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী লাকি আক্তার প্রমুখ।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ