Home / জাতীয় / ফটো সাংবাদিক আফতাব আহমেদ খুন
ফটো সাংবাদিক আফতাব আহমেদ খুন

ফটো সাংবাদিক আফতাব আহমেদ খুন

স্বাধীনতাযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদকপ্রাপ্ত দৈনিক ইত্তেফাকের প্রবীণ ফটো সাংবাদিক আফতাব আহমেদ খুন হয়েছেন। রামপুরার ওয়াপদা রোডের বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

বুধবার সকালে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নিজ বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয় বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন রামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) কৃপাসিন্ধু বালা। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে র‌্যাব–পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন। তারা ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছেন। বাড়ির ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। গোয়েন্দা পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিট তাদের কাজ করছে।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মারুফ হাসান সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের প্রাথমিক ধারণা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। চুরি, ডাকাতির ঘটনা থেকেও তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।তার বিছানা এলামেলো ছিল। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার বেনজির আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে।

আফতাব আহমেদের মেয়ের জামাই ফারুক আহমেদ বলেন, ৬৩ নম্বর পশ্চিম রামপুরার ৪তলা বাড়ির ৩য় তলায় ‍তিনি একাই থাকতেন। তার ১ ছেলে, ১ মেয়ে। ছেলে মনোয়ার যশোরে থাকেন। মেয়ে আফরোজা আহমেদ আমার স্ত্রী। আমরা গাজীপুরে থাকি। আমার শাশুড়ি ৭ বছর আগে মারা গেছেন। এ বাড়িতে ভাড়াটিয়ারা ছাড়া আর কেউ থাকে না। গাড়িচালক কবির ও কাজের বুয়া নাসিমা শ্বশুরের ফ্ল্যাটে আসা-যাওয়া করতো।

তিনি আরও বলেন, নাসিমা বুধবার সকালে এসে দরজায় নক করেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আশেপাশের লোকজনকে জানায়। তাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা চলে আসি। ঘরের সবকিছু এলোমেলো অবস্থায় দেখা গেছে। চালককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়া তার এক সহকর্মী বলেন, বাংলাদেশের ফটো সাংবাদিকতায় আফতার আহমেদ এক অনন্য নাম। তিনি ঢাকা ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারিও ছিলেন। তার কোনো শত্রু ছিল না। তিনি একজন অমায়িক মানুষ। কারও সঙ্গে রাগ করতেন না। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আন্দোলনের সময় পুরো পাকিস্তান ঘুরে বেড়িয়েছেন। ঘুরে বেড়িয়েছেন সব কটি বধ্যভূমিও।

তার লেখা বেশ কয়েকটি বই রয়েছে বলেও জানা তিনি।

আফতাব আহমেদের গ্রামের বাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর বন্দর গ্রামে। এছাড়া রংপুর শহরের জুময়া পাড়াতেও তার বাড়ি রয়েছে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ