Home / জাতীয় / হলফনামার তথ্য লুকিয়ে ফেলল ইসি

হলফনামার তথ্য লুকিয়ে ফেলল ইসি

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে উধাও হয়ে গেছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামা। ইসির (http://www.ecs.gov.bd/Bangla/) ওয়েবসাইটে গতকাল সকাল থেকে ‘প্রার্থীদের প্রদত্ত ব্যক্তিগত তথ্যাদি’ সংবলিত ট্যাবটিতে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। তবে এ বিষয়ে ইসির কেউই কিছু জানাতে পারছেন না। কর্মকর্তারা মনে করছেন কমিশনকে আড়ালে রেখেই হয়তো সরকার বিটিআরসির মাধ্যমে পাতাটি বন্ধ করতে পারে। ইসির অনির্ধারিত বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পরে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হলফনামার তথ্য প্রচার বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

জানতে চাইলে কমিশনের সিস্টেম ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তাকে ওই ট্যাবে প্রবেশ করে দেখাতে বললে তিনি চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। রফিকুল ইসলাম তখন বলেন, ‘একই সঙ্গে অনেকে সাইটে প্রবেশ করছে, তাই হয়তো দেখা যাচ্ছে না।’ সূত্রমতে, ইসিকে আড়ালে রেখেই হয়তো সরকার বিটিআরসির মাধ্যমে পাতাটিতে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। একজন কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, আমরা এ বিষয়ে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিইনি। এ ছাড়া হলফনামা প্রকাশে আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। সেই মোতাবেক গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (সংশোধিত) ১৩ (২) বি ধারায় আইনি বাধ্যবাধকতাও আছে। প্রসঙ্গত, হলফনামায় নবম সংসদের মন্ত্রী-এমপিদের অধিকাংশেরই অস্বাভাবিক সম্পদের বিবরণ রয়েছে। কয়েক দিন ধরে গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে আওয়ামী লীগের মধ্যেও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র জানায়, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের নেতৃত্বে রবিবার আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে এসে হলফনামা প্রকাশ না করতে আবদার জানায়। সিইসিকে তারা বলেন, ‘হলফনামা প্রকাশ হওয়ায় নেতাদের সম্পর্কে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে।’ প্রতিনিধি দলের একাধিক সদস্য বিষয়টি স্বীকার করলেও সেদিন এড়িয়ে যান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। তবে সোমবার তিনি জানান, হলফনামা প্রকাশের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ ইসিতে প্রতিনিধি পাঠিয়ে যে আপত্তি জানিয়েছে, তার আইনি ভিত্তি আছে কি না খতিয়ে দেখা হবে। সিইসি বলেন, ‘হলফনামা প্রকাশের বিষয়ে আইন কী বলে, তা আমরা দেখব।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘দলটির এ ধরনের আবদার রক্ষার কোনো সুযোগ নেই। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেই সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর হলফনামা প্রকাশ ইসির দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।’ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১২ (৩ বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব প্রার্থীকে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামার মাধ্যমে আটটি তথ্য ও কোনো কোনো তথ্যের পক্ষে কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যাবলি ভোটারদের মধ্যে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভোটাররা এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। হলফনামার তথ্য ইসি সচিবালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রচার করতে হবে। কমিশন সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে হলফনামা প্রচারের জন্য পরিপত্রও জারি করেছে ইসি। হলফনামা প্রকাশের বিষয়ে আদালত একটি নির্দেশনা দেন ২০০৬ সালে। তাই আইন পরিবর্তন করতে হলেও আদালতের নির্দেশনার প্রয়োজন রয়েছে। এদিকে ইসির জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হলফনামা প্রচারের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের সময়ও হলফনামা প্রচার করা হয়েছিল। এ তথ্যাদি স্থানীয়ভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রচার করেন। ইসির ওয়েবসাইট থেকে যে কেউ তা দেখতে পারেন। ইসি এসব হলফনামা প্রচার হতে পিছিয়ে যায়নি এবং প্রচার বন্ধের কোনো আইনি দিকও খুঁজছে না।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ