Home / জাতীয় / ব্যর্থ রাষ্ট্রের সূচকে বাংলাদেশের কি হবে

ব্যর্থ রাষ্ট্রের সূচকে বাংলাদেশের কি হবে

ব্যর্থ রাষ্ট্রের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২৯। এর অর্থ বাংলাদেশকে তারা ব্যর্থ রাষ্ট্র বলেনি। ‘হুঁশিয়ার’ থাকার অবস্থানে আছে এখন বাংলাদেশ। বাংলাদেশ গত আড়াই দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচিত স্বৈরশাসন চর্চা করলেও অনির্বাচিত স্বৈরশাসনকে খুব বেশি লজ্জা দিতে পারেনি।
১৭৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের র‌্যাংকিং ২৯ হলেও, মিয়ানমার ২৬, ইরাক ১১, সিরিয়া ২১, উত্তর কোরিয়া ২৩ ও লিবিয়া ৫৪। এটা নিশ্চয় দুর্ভাগ্যজনক যে, মিয়ানমার, উত্তর কোরিয়া ও সিরিয়ার মতো স্বৈরশাসকদের আস্তানাগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ভাল থাকার গড় ব্যবধান কেবলই দুই থেকে পাঁচ পয়েন্ট বেশি পেয়ে এগিয়ে। অথচ রাজনীতি সমাজ ও অর্থনীতি কোনটার সঙ্গেই বাংলাদেশের কোন মিল নাই।
এখন বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০১৪ সালের সূচকে বাংলাদেশ কোথায় যাবে সেটা একটা জ্বলন্ত প্রশ্ন। ঢাকার একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বলেছেন, তিনটি বিষয়ের উপর ভর করে বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। তাঁর কথায় এই তিনটি হলো- নৈরাজ্য, রাজনৈতিক শূন্যতা এবং অব্যাহত বিশৃঙ্খলা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যে ধারা সৃষ্টি হয়েছে তা এই তিনটি ধারণা সূচককে নিশ্চিত করে।
৪৮ দিনের হরতালে যে ধরনের সহিংসতায় ২৯০ ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটেছিল তা থেকে গত দুই তিন সপ্তাহে পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটেছে। সাধারণ সহিংসতা পরিণত হয়েছে নৈরাজ্যে। ৩০০ আসনের সংসদে ১৩০টির বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীদের নির্বাচিত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে নির্বাচন কমিশন। গতকালের এই ঘোষণার ফলে বাংলাদেশ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক শূন্য গহ্বরে প্রবেশ করেছে। গত কয়েক দিনে নাশকতাকারীরা সরকারি স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করেছে। এটা রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার নামান্তর।
তবে ওয়াশিংটন ভিত্তিক ফান্ড ফর পিস নামের প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ রাষ্ট্রের সূচক নির্ধারণে তিনটি বিষয়ের উপরই মূল্যায়ন করে থাকে। এখন সময় এসেছে এটা মিলিয়ে দেখার। এই তিনটি হলো- ক. ভূখণ্ডের উপরে নিয়ন্ত্রণ হারানো। এর ফলে ওই ডূখণ্ডের উপরে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর শারীরিক বৈধ উপস্থিতি হ্রাস পাওয়া। খ. যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৈধ কর্তৃত্ব হ্রাস পাওয়া। গ. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একজন পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে কাজ করতে অসামর্থ্যরে পরিচয় দেয়া। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানকে হারিয়ে রাতারাতি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে বাংলাদেশের র‌্যাংকিং যেখানে ২৯ ছিল নেপাল সেখানে ৩০ হয়েছে। এই ক্যাটিগরির নাম দেয়া হয়েছে ‘এলার্ট’। অন্য দিকে পরবর্তী সাব ক্যাটাগরিতে রয়েছে ‘ওয়ার্নিং’। এটা পরিহাসমূলক যে, ভুটান ও মালদ্বীপের অবস্থা বাংলাদেশের চেয়ে ভাল। নেপাল গৃহযুদ্ধে এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে গেছে। তারা সংবিধানবিহীনভাবে দেশ চালাচ্ছে। তদুপরি ব্যর্থ রাষ্ট্রের সূচকে ভারতের অবস্থান যেখানে ৭৯, মালদ্বীপ সেখানে ৮৮ ও ভুটান ৬৩। বাংলাদেশের পরেই নেপাল।
বাছাই কমিটির মধ্য দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বৃহত্তম নির্বাচন কমিশন পেয়েছিল। তারা সবচেয়ে বড় প্রহসন উপহার দিলো। চারদিকে সন্ত্রাস। রাস্তাঘাটে লড়াই চলছে। আগুন জ্বলছে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়ে জনগণের চোখে দ্রুত শ্রদ্ধা ও সম্মান হারাচ্ছে। উভয় দল কেবল পরস্পরকে দোষারোপ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘ দূত তারানকোর নিষ্ফল মিশনের পরে তারা এক বেলা বৈঠকে বসলেও মানুষের মনে তা কোন আশাবাদ সৃষ্টি করতে পারেনি।
প্রধান বিরোধী দল বিএনপি আন্দোলনের নামে নাশকতায় অংশগ্রহণ করছে কিনা সেই প্রশ্ন থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখতে বা জনগণের কাছে কোন বিশ্বাসযোগ্যতা সৃষ্টি করতে ক্রমাগতভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে চলেছে। বিজয় মাসের দিনগুলোতে ঘরে ঘরে নিরানন্দ। চাপা উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা। অনেকেই বলছেন, এ রকমের নাশকতা ও সহিংসতাপূর্ণ পরিবেশে জাতি শেষ কবে বিজয় দিবস পালন করেছিল তা তাদের মনে নেই। জামায়াতে ইসলামী সম্ভবত এই প্রথম এমন একটি ভয়াল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে যা বিজয় দিবসের আগে কেউ কখনও দেখেনি।
বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আমির হোসেন আমু নির্বিকার চিত্তে বললেন, জাতীয় পার্টি তাদের সঙ্গে নেই সেকথা নাকি বলা ঠিক হবে না। তার দাবি, নির্বাচন পিছিয়ে দিতে সাংবিধানিক বাধা আছে। অথচ বিচারপতি এমএ আজিজ পদত্যাগ করার আগে চারবার নির্বাচনের তফসিলে পরিবর্তন এনেছিলেন এবং সেটা আওয়ামী লীগকে অন্তর্ভুক্ত করতেই। এবারের নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন একটা ভাঁড় হয়ে উঠেছে। তারা বলছে- সংবিধান অনুযায়ী তাদের হাত পা-বাঁধা। এবারের বিজয় দিবসে সকলেরই হাত-পা বাঁধা। কবির কথায়, ধরা যাবে না,/ছোঁয়া যাবে না/ বলা যাবে না কথা/ রক্ত দিয়ে পেলাম শালার এমন স্বাধীনতা!

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ