Home / জাতীয় / মা ও ভাইকে কুপিয়ে বাবাকে ছেলের ফোন!
মা ও ভাইকে কুপিয়ে বাবাকে ছেলের ফোন!

মা ও ভাইকে কুপিয়ে বাবাকে ছেলের ফোন!

মা ও ছোট ভাইকে কুপিয়ে জখম করে নিজেই বাবাকে ফোন করে ঘটনাটি জানায় বড় ছেলে আরিফুর রহমান মামুন। রাজধানীর দারুস সালাম টোলারবাগের ২/৮/ই/৬ নম্বর খুশবু ভিলার চারতলার একটি ফ্যাটে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মামুনের ছুরিকাঘাতে আহত হন মা হাসি কবির (৫০), ছোট ভাই ফয়সাল মাসুদ (২৪) ও বাড়ির কেয়ারটেকার শরিফুল ইসলাম (২৭)। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসি কবিরের ডান পাজরে, ফয়সাল মাসুদের বাম কাঁধ, হাত, পাজর ও পেটে, শরীফের পেটে ও হাতে ছুরিকাঘাতের গুরুতর জখম রয়েছে। পেটে ছুরিকাঘাত হওয়ায় শরীফের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আহত হাসি কবিরের স্বামীর নাম হুমায়ুন কবির। ঘটনার পর মামুনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মা ভাই ও বাড়ির কেয়ারটেকারকে ছুরিকাঘাত করে সে ঘটনা বাবাকে ফোন করে জানায় মামুন। তিনি বাবাকে বলেন, “বাবা আমি সবাইকে মেরে ফেলেছি তুমি তাড়াতাড়ি চলে আসো।” ছেলের কথায় বাসায় আসেন হুমায়ুন কবির। তিনি এসে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, তিন মাস আগে ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির সপরিবার নিয়ে টোলারবাগের ওই ভাড়া বাসায় উঠেন। ৪ মাস আগে তার বড় ছেলে আরিফুল ইসলাম মামুন প্রেম করে সোনিয়া আক্তার আউলিয়া নামে আইনজীবী মেয়েকে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন। সম্প্রতি স্ত্রীর কথায় মামুনের আলাদা বাসা ভাড়া করার চেষ্টা করছেন। এমনকি আলাদাভাবে ব্যবসা করবেন বলে বাবা মার কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করে আসছিলেন মামুন। কিন্তু বাবা এতো টাকা দিতে রাজি ছিলেন না। এক পর্যায়ে মামুন ১ লাখ টাকা দাবি করে। বাবা তাকে ২৪ ডিসেম্বর ৬০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন।

দুপুরে টাকা নিয়ে মায়ের সঙ্গে বিতণ্ড হয় মামুনের। এক পর্যায়ে ক্ষেপে গিয়ে মাকে আগে থেকে কিনে রাখা ছুরি দিয়ে আঘাত করে মামুন। মায়ের চিৎকারে ছোট ছেলে ফয়সাল ছুটে আসে। পরে ছোট ভাই ফয়সালকেও ছুরিকাঘাত করে মামুন। তাদের চিৎকার শুনে বাড়ির কেয়ারটেকার ছুটে আসলে তার পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেয় মামুন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকেই প্রথমে সোহরাওয়ার্দি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

দারুস সালাম থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “ছেলেটি মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত ও মামলার প্রস্তুতি চলছে।”

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ