Home / জাতীয় / ২৯ জানুয়ারি দশম সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশন
২৯ জানুয়ারি দশম সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশন

২৯ জানুয়ারি দশম সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশন

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এবার নতুন এক নজির স্থাপন হয়েছে জাতীয় নির্বাচনের। সরকার গঠন করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনেই একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বিরোধী দলবিহীন এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো মাঠে নেই কোন বড় দল। আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের শরিক ছাড়া আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জেপি-ও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন মহাজোটের প্রার্থীরা। ফলে নির্বাচন অনেকটা একক প্রতীকের নির্বাচন হচ্ছে। এছাড়া কিছু আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করার পরও তাদের একক প্রার্থী হিসেবে দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশের নিবন্ধিত প্রায় ৪২টি দলের মধ্যে মহাজোটের অন্তর্ভুক্ত মাত্র ৫টি দলের অংশগ্রহণে এ নির্বাচন আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিতর্কিত ’৯৬-এর নির্বাচনকে হার মানাচ্ছে দশম জাতীয় নির্বাচন। ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ ৪১টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। ১৯৮৭টি আবেদন জমা পড়লেও শেষ পর্যন্ত ১৪৫০ জন প্রার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ৯৯৩ প্রার্থী রাজনৈতিক দলের ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ৪৫৭ জন ছিলেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৪৮ জন সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। অথচ দশম জাতীয় নির্বাচনে ’৯৬-এর নির্বাচনের চেয়ে অর্ধেক প্রার্থী অংশগ্রহণ করলেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী সংখ্যা প্রায় তিন গুণ।
আগামী ৫ই জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হলে সরকার গঠন প্রক্রিয়া আরও বিলম্ব হবে। এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। ২৪ জানুয়ারির বর্তমান সংসদ ভেঙে দেয়ার পর নির্বাচিত এমপিরা শপথ গ্রহণ করবেন। এরপরই মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। যদিও সরকারি দলের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে জানুয়ারিতেই দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর। আইন বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, নির্বাচিত হলেও বর্তমান সংসদের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত এমপিরা শপথ নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে নতুন সরকারও গঠন করা যাবে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. শাহদীন মালিক বলেন, নির্বাচন হলেও এমপিরা ২৪ জানুয়ারির আগে শপথ নিতে পারবেন না। ২৪ জানুয়ারির পর সংসদ ভেঙে দেয়ার পর এমপিরা শপথ নেবেন। এরপরই মন্ত্রিসভায় গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। বর্তমান সংবিধানে এমনটিই বলা আছে। এদিকে সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী ২৯ জানুয়ারি বুধবার থেকে দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। ১৫৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর সরকার থেকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, এরই মধ্যে তারা প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ নিয়ে ফাইল তৈরি করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে তা স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরীর টেবিলে পৌঁছে দেয়া হবে। সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের শেষ দিন। এর আগে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়ানো হবে ২৫ জানুয়ারি। একদিন বিরতির পর ২৭ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। এরপরই ২৯ জানুয়ারি দশম সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশন বসবে। তবে কত দিনের জন্য এ অধিবেশন বসবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোন ধারণা দিতে পারেনি সংসদ সচিবালয়। তারা জানিয়েছেন, কেবল দিন নির্ধারণ করে আমাদের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি মেনে আমরা এখন সে প্রস্তুতিই নিচ্ছি। এ প্রসঙ্গে সরকার দলীয় চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন শেষে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ নিয়ম অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন। বর্তমান সংসদের মেয়াদ ২৪ জানুয়ারি শেষ হলে যে কোন দিন তিনি অধিবেশন ডাকবেন। কবে অধিবেশন ডাকা হচ্ছে এ বিষয়ে আমার কাছে কোন তথ্য নেই।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ