Home / অর্থনীতি ও বানিজ্য / টিকফা: কিছুই পাবে না বাংলাদেশ
টিকফা: কিছুই পাবে না বাংলাদেশ

টিকফা: কিছুই পাবে না বাংলাদেশ

সরকারের একদম শেষ মূহুর্তে এসে নির্বাচনের জন্য গঠিত সর্বদলীয় সরকার গত ২৫ নভেম্বর টিকফা (Trade and Investment Co-operation Framework Agreement-TICFA) বা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা কাঠামোগত চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ। এর আগের সরকারগুলোর ওপর মার্কিনীদের চাপ থাকা সত্ত্বেও এ চুক্তিটি সই করতে পারেনি। চুক্তি সই হওয়ার আগে ও পরে টিকফা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা হয়। ধারণা করা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এ চুক্তিটি করে সরকার শেষ সময় যুক্তরাষ্ট্রের আনুকল্য পাওয়ার চেষ্টা করছে।

১০ বছর ধরে ঝুলে আছে টিকফা : ২০০১ সালে বিএনপি জামাত জোট ক্ষমতা আসার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র টিফা চুক্তি করার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়। ২০০৩ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টিকফা চুক্তির ব্যাপারে আলোচনা হয়। এ সময় চুক্তিটির একটা খসড়াও হয়। তবে চক্তি সই হয়নি।
এরপর ফখরুদ্দিনের তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবারো চেষ্টা করে টিফা চুক্তি করার জন্য। যেহেতু নির্বাচনকালীন তৎকালিন তত্বাবধায়ক সরকার ছিলো রাষ্ট্রের নিয়মিত কাজ সম্পন্ন করার জন্য এ কারণে এরকম একটি বির্তকি ইস্যু তাদের আমলেও পাস হয়নি।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবারো শুরু হয় টিফা চুক্তি সই করার ব্যাপারে। এক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, টিফার নাম বদলিয়েও এ চুক্তি করা হয় তাহলেও তাদের আপত্তি নেই। টিফা বা Trade and Investment Framework Agreement অর্থাৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কিত কাঠামোগত চুক্তির নাম টিকফা (Trade and Investment Co-operation Framework Agreement-TICFA) বা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা কাঠামোগত চুক্তি হিসেবে সাক্ষর হলেও যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি নেই।

টিকফার সামরিক গুরুত্ব : বিশ্লেষকেরা মনে করেন টিফার পেছনে ভূ-কৌশলগত বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের মত গুরুত্বপূর্ণ ভূ-কৌশলগত অঞ্চলে মার্কিন সামরিক প্রভাব আরো বাড়ানোর জন্যই এ চুক্তিটি করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগর মার্কিনীদের কাছে গুরুত্ব পাওয়া শুরু করে পঞ্চাসের দশকে চীনে কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর থেকে। এ কারণে পাকিস্তান আমলে যুক্তরাষ্ট্র সিয়াটো-সেন্টো চুক্তির মাধ্যমে তাদের প্রাচ্যমুখী নীতি অব্যাহত রেখেছিল।

২০১৪ সালের পর থেকে আফগানস্তানে আর কোন মার্কিন সৈন্য থাকবে না। আফগানস্থান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে তারা ভারত মহাসাগর থেকে এসিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে সৈন্য বৃদ্ধি করতে চায়। টিকফা চুক্তি মার্কিন চাওয়াকে আরো বাস্তবে রুপ দেওয়ারই হয়তো বহিপ্রকাশ।

যেসব দেশের সাথে টিফা চুক্তি : দূর্বল দেশের সাথে টিফা চুক্তি করে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। এসব দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য পরিমান বাণিজ্য সম্পর্কও থাকে না। একটি শক্তিশালি রাষ্ট্রের সাথেও টিফা করার নজির নেই যুক্তরাষ্ট্রের।
টিফা আসলে সেই সব দেশের সঙ্গে করা হয়, যেসব দেশ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামের সঙ্গে, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে আলজেরিয়া, বাহরাইন, তিউনিসিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, জর্জিয়া, আইসল্যান্ড, ইরাক, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, ইয়েমেনের সঙ্গে, আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে ক্যারিবীয় দেশগুলো ও উরুগুয়ের সঙ্গে এবং আফ্রিকা অঞ্চলের মধ্যে মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া, রুয়ান্ডা, অ্যাঙ্গোলা, ঘানা, লাইবেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ইত্যাদি দেশের সঙ্গে এ চুক্তি করা হচ্ছে। দেশগুলোর নামের তালিকা দেখেই বোঝা যায়, টিফা কতটা বাণিজ্যিক আর কতটা সামরিক। আফ্রিকাজুড়ে চলছে মার্কিনদের তেল, সোনা ও হীরার খনি দখলের সামরিক অ্যাকশন।
অথচ এসব দেশের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক তার থেকে বেশি বাণিজ্যিক সম্পর্ক কানাডা, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারতের মতো দেশগুলো। কিন্তু এসব দেশের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র টিফা করেনি।

২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি উরুগুয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র টিফা চুক্তি স্বাক্ষর করে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস পত্রিকার তথ্যমতে, মাত্র ১৩ বিলিয়ন ডলারের জিডিপির দেশ উরুগুয়ের সঙ্গে আমেরিকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এতই সামান্য যে অর্থনৈতিক হিসাবে এই টিফার তেমন কোনো গুরুত্ব নেই। তাহলে যুক্তরাষ্ট্র উরুগুয়ের সঙ্গে টিফা স্বাক্ষর করতে এত ব্যস্ত হয়ে পড়ল কেন? কারণ টিফা চুক্তির পরবর্তী ধাপই হলো এফটিএ বা ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট। উরুগুয়ের সঙ্গে টিফা করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে লাতিন আমেরিকার আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তিকে (Mercusor-মারকাসর) দুর্বল করা।

ঔষধ শিল্প ধ্বংস হবে : বাংলাদেশের সব ঔষধ কম্পানি ঔষধ তৈরীর ক্ষেত্রে কোন পেটেন্ট সত্বের জন্য অর্থ দেয় না। অর্থ্যাৎ দেশে একটি প্যারাসিটামল তৈরী ক যখন কোন কম্পানি তখন প্যারাসিটামলের আবিস্কারককে টাকা দেয় না বাংলাদেশ। অথচ টিকফা চুক্তির পর এখন থেকে এ অর্থ দিতে হবে।

২০০৫-এ ডাব্লিউটিওর দেওয়া ঘোষণা অনুসারে বাংলাদেশসহ অন্য এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশগুলো ডাব্লিউটিওর আওতায় ২০১৩ সাল পর্যন্ত ট্রেডমার্ক, কপিরাইট, প্যাটেন্ট ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সম্পর্কিত আইনের আওতার বাইরে থাকার সুযোগ পেয়েছে। এই সুযোগ ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টর পেয়েছে ২০১৬ সাল পর্যন্ত। যদি এখন টিফা হয়, তবে ২০১৬ সালের আগেই প্যাটেন্ট রয়েছে এমন মাদার (যারা মেধাস্বত্বের অধিকারী) কম্পানিগুলোকে অর্থ দিতে বাধ্য হবে সব কম্পানি। অথচ বাংলাদেশ থেকে এখন পৃথিবীর অনেক দেশে ঔষধ রপ্তানী হয়। এর এ রপ্তানী কাজে দেশীয় কম্পানিগুলোই এগিয়ে রয়েছে।

এশিয়ার দুই দেশে টিফার প্রভাব: টিফা চুক্তির আরেকটি দিক হলো বেশি বেশি উদারীকরণ বা বেসরকারীকরণ করা। রাষ্ট্রায়ত্ত সেবা খাতকে এই উদারীকরণের প্রধান টার্গেট করা হয়।
থাইল্যান্ড টিফা চুক্তি করে ২০০২ সালের অক্টোবরে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই থাইল্যান্ডকে বাধ্য করা হতে থাকে আমেরিকার করপোরেট মনোপলির স্বার্থে এর বিভিন্ন সেবা খাত বেসরকারি করে দিতে।
সেবা খাত শুধু উদারীকরণই নয়, টিফা চুক্তির পর জিএমও বীজ আমদানির জন্য মার্কিন চাপ অব্যাহত থাকে। থাইল্যান্ডও এর ব্যতিক্রম নয়। ১৯৯৯ সাল থেকে জেনেটিক্যালি ইঞ্জিনিয়ারড বীজ আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে থাইল্যান্ড। টিফা চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র মুক্তবাণিজ্যের নামে মার্কিন বহুজাতিক কম্পানি মনসান্টোর বিটি কটন আর রাউন্ডআপ রেডি কর্ন থাইল্যান্ডের বাজারে ঢোকানোর জন্য ব্যাপক চাপ অব্যাহত রেখেছে।
শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ২০০২ সালে টিফা চুক্তির সময় আমেরিকা গার্মেন্ট পণ্যের কোটামুক্ত সুবিধার কথা বললেও বাস্তবে তা না দেওয়ার জন্য নানা শর্ত চাপিয়ে দেয় দেশটির ওপর। ২০০৩ সালে থাইল্যান্ডের পার্লামেন্টে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস সম্পর্কিত আইন পাস করতে গেলে তীব্র বাধার সম্মুখীন হয় এবং এক পর্যায়ে আদালতে মামলা পর্যন্ত হয়। শেষ পর্যন্ত আদালত মামলাকারীর পক্ষেই রায় দেন। সর্বশেষ ২০০৯ সালে সপ্তম টিফা বৈঠকে আমেরিকা আবার ট্রিপস বাস্তবায়নের ব্যাপারে শ্রীলঙ্কাকে চাপ দেয় এবং সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জেনেটিক্যালি মডিফাইড ফুড আমদানির ওপর শ্রীলঙ্কার যে নিষেধাজ্ঞা আছে, সেটাও তুলে নেওয়ার ব্যাপারে চাপ প্রয়োগ করে।

তথ্যপ্রযুক্তিতে বিরুপ প্রভাব পড়বে : বুদ্ধিবৃত্তিক বা আইপিপি জন্য এখন কোন অর্থ দেয়া লাগে। তবে টিকফা সই হওয়ার পর থেকে এখন এ অর্থ দিতে হবে। বিনা মূলে কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ব্যবহারের দিন ফুরিয়ে যাবে। একেকটি উইন্ডোজ ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশী মুদ্রায় কম করে হলেও ১৪ হাজার টাকা দিতে হবে মাইক্রোসফটকে।
Business Software Alliance (BSA)-এর ২০০৮ সালে করা এক সমীক্ষা অনুসারে সমগ্র এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ সফ্টওয়্যার পাইরেসির শীর্ষে অবস্থান করছে। এ দেশে কপি করা সফটওয়্যার ব্যবহারের সুযোগে তথ্যপ্রযুক্তি জনসাধারণের নাগালে রয়েছে। এখন এ খাতে খরচ বাড়বে।

জ্বালানি খাত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা : টিফার মধ্য দিয়ে মার্কিনরা আমাদের দেশের তেল-গ্যাসের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে নেবে। টিফার মাধ্যমে বাংলাদেশের সেবা খাত মার্কিন বেসরকারি পুঁজির বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাগরের দুটি ব্লক ইতিমধ্যে পেয়েছে মার্কিন বহুজাতিক কম্পানি কনকো-ফিলিপস। আরো একটি ব্লক ইজারা দেয়ার কাজ প্রায় শেষ। স্থলভাগের গ্যাস উত্তোলনের জন্য রয়েছে আরেক মার্কিন জায়ান্ট কম্পানি শেভরন। টিকফা হলে মার্কিন কম্পানি আরও একচেটিয়া আধিপাত্য বিস্তার করবে তেল-গ্যাসখাতে।

জিএমও ফুডে ভরে যাবে দেশ : খাদ্য নামে মরণাস্ত্র হলো জিএমও বা জেনেটিক্যাল মডিফায়েড অর্গানিজম। দামে কম হওয়ায় বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষ বাধ্য হয়েই কিনবে এ খাদ্য। ফলে মানুষের শরীরে ঘটে যেতে পারে মারাত্মক সব পরিবর্তন। সস্তায় গরিব মানুষ কিনে খাবে খাদ্য নামের বিকলাঙ্গের ভবিষ্যৎ মারণাস্ত্র।
থাইল্যান্ড টিফা চুক্তি করে ২০০২ সালের অক্টোবরে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই থাইল্যান্ডকে বাধ্য করা হতে থাকে, আমেরিকার করপোরেট মনোপলির স্বার্থে এর বিভিন্ন সেবা খাত বেসরকারি করে দিতে। সঙ্গে সঙ্গে জিএমওর ফুড ও বীজ কিনতে বাধ্য করানো হয়।

জিএসপি ধোয়াই : সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়বে। বাংলাদেশ ফিরে পাবে জিএসপি।
টিকফা স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা পাবে। বলা ভালো, যুক্তরাষ্ট্র কিছুদিন আগে কিছু পণ্যের যে শুল্কমুক্ত সুবিধা (জিএসপি) বাংলাদেশকে দিত, তা স্থগিত করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একাধিকভার জানিয়েছে, টিকফা চুক্তি সইয়ের সাথে জিএসপি পুনবহলের কোন সম্পর্ক নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী পণ্যের বাজার হচ্ছে ৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলারের। এর মাঝে মাত্র ০.৫ ভাগ পণ্য এই শুল্কমুক্ত সুবিধা পেত। এর পরিমাণ মাত্র ২৬ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার কর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এখনও তার পণ্য নিয়ে টিকে আছে। যুক্তরাষ্ট্র শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয় যেসব বাংলাদেশী পণ্যে, তার মধ্যে রয়েছে তামাক, সিরামিক, ফার্নিচার, প্লাস্টিক, খেলনা ইত্যাদি। এর খুব কম পণ্যই বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করে।

টিফার প্রভাব: থাইল্যান্ড টিফা চুক্তি করে ২০০২ সালের অক্টোবরে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই থাইল্যান্ডকে বাধ্য করা হতে থাকে আমেরিকার করপোরেট মনোপলির স্বার্থে এর বিভিন্ন সেবা খাত বেসরকারি করে দিতে।
সেবা খাত শুধু উদারীকরণই নয়, টিফা চুক্তির পর জিএমও বীজ আমদানির জন্য মার্কিন চাপ অব্যাহত থাকে। থাইল্যান্ডও এর ব্যতিক্রম নয়। ১৯৯৯ সাল থেকে জেনেটিক্যালি ইঞ্জিনিয়ারড বীজ আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে থাইল্যান্ড। টিফা চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র মুক্তবাণিজ্যের নামে মার্কিন বহুজাতিক কম্পানি মনসান্টোর বিটি কটন আর রাউন্ডআপ রেডি কর্ন থাইল্যান্ডের বাজারে ঢোকানোর জন্য ব্যাপক চাপ অব্যাহত রেখেছে।
শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ২০০২ সালে টিফা চুক্তির সময় আমেরিকা গার্মেন্ট পণ্যের কোটামুক্ত সুবিধার কথা বললেও বাস্তবে তা না দেওয়ার জন্য নানা শর্ত চাপিয়ে দেয় দেশটির ওপর। ২০০৩ সালে থাইল্যান্ডের পার্লামেন্টে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস সম্পর্কিত আইন পাস করতে গেলে তীব্র বাধার সম্মুখীন হয় এবং এক পর্যায়ে আদালতে মামলা পর্যন্ত হয়। শেষ পর্যন্ত আদালত মামলাকারীর পক্ষেই রায় দেন। সর্বশেষ ২০০৯ সালে সপ্তম টিফা বৈঠকে আমেরিকা আবার ট্রিপস বাস্তবায়নের ব্যাপারে শ্রীলঙ্কাকে চাপ দেয় এবং সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জেনেটিক্যালি মডিফাইড ফুড আমদানির ওপর শ্রীলঙ্কার যে নিষেধাজ্ঞা আছে, সেটাও তুলে নেওয়ার ব্যাপারে চাপ প্রয়োগ করে।

চুক্তি সই করতে পারে না নির্বাচনকালিন সরকার : কনোকো-ফিলিপসের সঙ্গে সাগরের দুটি ব্লক ইজারা দেওয়ার ব্যাপারে চলতি মাসের ২ তারিখে চুক্তি সই হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু এ সরকারের চুক্তি করার এখতিয়ার না থাকায় কনোকো-ফিলিপস চুক্তি সইয়ের আগে চুক্তি করতে তাদের অপরাগতা প্রকাশ করেন।
টিকফার মত বির্তকীত একটি ইস্যু আ.লীগ তার নির্বাচনী ৫ বছরের করেনি। ফলে একটি নির্বাচনকালীন সরকার এ ধরনের একটি বিতর্কীত চুক্তি করতে পারে না। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত বৈরি মার্কিন কূটনীতিকে আ.লীগের পক্ষে নেওয়ার জন্যই টিকফা চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। ওয়াশিংটনকে খুশি করার ঢাকার পক্ষ থেকে এটা হাসিনার একটা উপহার।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ