Home / অর্থনীতি ও বানিজ্য / তাজরীন মালিক দেলোয়ারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
তাজরীন মালিক দেলোয়ারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

তাজরীন মালিক দেলোয়ারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রীসহ ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে সিআইডি পুলিশ।

রোববার সকালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মহসীন উজ্জামান খান।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াসিম শেখ চার্জশিটে স্বাক্ষর করেছেন এবং আগামি ৩১ ডিসেম্বর মামলাটির চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা শুনানি হবে মর্মে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট জিআর শাখার পুলিশ ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামান। চার্জশিটে ১০৪ জনকে সাক্ষি করা হয়েছে।

গত বছরের ২৪ নভেম্বর ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনার এক বছর ১ মাস পর এ চার্জশিট দাখিল করা হলো। এ ঘটনায় ১শ’ ১১ জন জীবন্ত অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন ১০৪ জন শ্রমিক। গার্মেন্টসটিতে এক হাজার ১শ’ ৬৩ জন শ্রমিক কাজ করতেন কিন্তু দুর্ঘটনার সময় ৯৮৪ জন শ্রমিক সেখানে কর্মরত ছিলেন।
নিহত ১শ’ ১১ জনের মধ্যে তৃতীয় তলায় ৬৯ জন, চতুর্থ তলায় ২১ জন, পঞ্চম তলায় ১০ জন, পরবর্তীতে বিভিন্ন হাসপাতালে মারা যান ১১ জন।

লাশ সনাক্ত হওয়ায় ৫৮ জনকে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাকী ৫৩ জনের লাখ সনাক্ত না হওয়ায় তাদের অসনাক্ত অবস্থায় জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।
চার্জশিটভূক্ত অপর ১২ আসামি হলেন, দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার, প্রকৌশলী এম মাহবুবুল মোর্শেদ, ফ্যাক্টরি ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক, কোয়ালিটি ম্যানেজার শহিদুজ্জামান দুলাল, প্রডাকশন ম্যানেজার মোবারক হোসেন মঞ্জু, প্রশাসনিক কর্মকর্তা দুলাল, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম লাভলু, সিকিউরিটি সুপারভাইজার আল আমিন, ইনচার্জ আনিসুর রহমান, সিকিউরিটি গার্ড রানা ওরফে আনারুল, স্টোর ইনচার্জ আল আমিন ও লোডার শামীম মিয়া।

আসামিদের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন, তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার, প্রকৌশলী এম মাহবুবুল মোর্শেদ, ফ্যাক্টরি ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক, কোয়ালিটি ম্যানেজার শহিদুজ্জামান দুলাল, প্রডাকশন ম্যানেজার মোবারক হোসেন মঞ্জু পলাতক আছেন।

আসামিদের মধ্যে ৬ জন পলাতক, ৬ জন জামিনে ও সিকিউটির ইনচার্জ আনিসুর রহমান কারাগারে আটক আছেন।

আসামিদের সবার বিরুদ্ধে অপরাধজনক নরহত্যা (ধারা- ৩০৪ দণ্ডবিধি) ও অবহেলার কারণে মৃত্যুর (ধারা- ৩০৪ক দণ্ডবিধি) অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমানিত না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস, কাটিং লোডার সুজন হাওলাদার ও সোহেল রানাকে মামলা থেকে অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে।

গত বছরের ২৪ নভেম্বরে ভয়াবহ এ অগ্নি দুর্ঘটনার পর দিন আশুলিয়া থানার এসআই খায়রুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেছিলেন। এছাড়াও চলতি বছরের ২৯ মে অগ্নিকাণ্ডে নিহত রেহানার ভাই জনৈক আব্দুল মতিন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাজরীন ফ্যাশনসের মালিক দেলোয়ার হোসেনসহ অজ্ঞাত ৩০ জনের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা দায়ের করেন।
দুটি মামলায় একসাথে তদন্ত করে এ চার্জশিট দেয়া হয়।

ভবনটির নকশায় ত্রুটি ও জরুরি নির্গমনের পথ না থাকায় এবং আগুন লাগার পর শ্রমিকরা বাইরে বের হতে চাইলে নিরাপত্তা কর্মীরা আগুনটিকে অগ্নি নির্বাপন মহড়া বলে শ্রমিকদের কাজে ফেরত পাঠিয়ে কলাপসিবল গেট লাগিয়ে দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ