Home / জাতীয় / খেলতে গিয়ে ককটেলে হাত উড়ে গেল শিশুর
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে শিশু মাহিদুল ইসলাম। প্রতিবেশীরা জানায়, নগরের উপশহর এলাকায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের বারান্দায় কুড়িয়ে পাওয়া ককটেলে আহত হয় সে

খেলতে গিয়ে ককটেলে হাত উড়ে গেল শিশুর

কচি দুটি হাত। দুটিই সাদা ব্যান্ডেজে জড়ানো। একটিতে আঙুল আছে। আরেকটিতে নেই। কবজির ওপরে থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। সারা মুখ রক্তাক্ত। স্প্লিন্টারে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। ডান চোখের ওপর থেকে রক্ত ঝরছে। চোখ দুটিও খুলছে না। চিকিত্সকেরা এ নিয়েও চিন্তিত।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক নম্বর ওয়ার্ডের একটি বিছানায় জোর করে শিশুটিকে শুইয়ে রাখা হচ্ছে। চিত্কার করে কাঁদছে। বারবার উঠে আসার চেষ্টা করছে। কান্নার মধ্যে কী যেন বলছে। বোঝা যাচ্ছে না। প্রতিবেশী ও স্বজনেরা বলছেন, আওয়ামী লীগের উত্তরাঞ্চলীয় শাখা কার্যালয়ের বারান্দায় খেলার সময় পড়ে থাকা ককটেলের বিস্ফোরণে ওর এ অবস্থা হয়েছে।
শিশুটির নাম নাহিদুল ইসলাম (৫)। সে তার মায়ের সঙ্গে নগরের উপশহর নিউমার্কেট এলাকায় নানার বাড়িতে থাকে। বছর খানেক ধরে বাবা রাজীব হোসেন তাদের খোঁজখবর রাখে না। শিশুটির মা মর্জিনা খাতুন অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে দুটি সন্তান নিয়ে থাকেন। নাহিদের নানা মজিবুর রহমান বলেন, নাহিদ বাসা থেকে নাশতা খেয়ে খেলতে বের হয়ে গেল। ওর সঙ্গে আরও কয়েকজন শিশু ছিল। হঠাত্ বিকট একটা শব্দ হলো। শব্দ শুনে তিনি দৌড়ে বাইরে গেছেন। দেখেন একজন দোকানদার ওকে বুকে তুলে নিয়ে আসছেন। ওর দিকে তাকানোর উপায় নেই। তিনি বলেন, ওখানকার লোকজন বলছে, উপশহর নিউমার্কেট এলাকায় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের উত্তরাঞ্চলীয় শাখার কার্যালয়ের বারান্দায় ওরা খেলতে গিয়েছিল। সেখানে একটা লাল কৌটা ধরতে গেলে কোটাটা ওর হাতেই বিস্ফোরিত হয়। ঘটনার পর আওয়ামী লীগের ওই কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় বারান্দায় যেখানে রক্তের দাগ ছিল তা ধুয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় লোকজন বলেন, বারান্দায় সিঁড়িঘরের নিচেই শিশুটি খেলছিল।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের চিকিত্সক ও বিভাগীয় প্রধান বি কে দাম বলেন, শিশুটির বাঁ হাতের কবজির ওপর থেকে উড়ে গেছে। ডান হাতের আঙুলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ওর চোখ দুটি নিয়েও তাঁরা চিন্তিত। ও চোখ খুলতে পারছে না। একজন চক্ষুবিশেষজ্ঞকে দিয়ে দেখানোর ব্যবস্থা করছেন।

এ ব্যাপারে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম খায়রুজ্জামান বলেন, একটি শিশুর হাতে ক্ষতির কথা শুনেছেন। কিন্তু কোথায়, কীভাবে হয়েছে সেটা পুলিশ ভালো বলতে পারবে।

নগরের বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের ওই কার্যালয়ে আজ (শনিবার) ওরা কেউ যায়নি। হয়তো কেউ শত্রুতামূলকভাবে বারান্দার ওই কোনায় ককটেল রেখে গেছে

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ