Home / জাতীয় / মুখর এইচ টি ইমাম -ওসমান ফারুক এড়িয়ে গেলেন এক প্রশ্ন
মুখর এইচ টি ইমাম -ওসমান ফারুক এড়িয়ে গেলেন এক প্রশ্ন

মুখর এইচ টি ইমাম -ওসমান ফারুক এড়িয়ে গেলেন এক প্রশ্ন

সমকালীন রাজনীতি নিয়ে একটি সংলাপ অনুষ্ঠানে দর্শক-শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নে বদানুবাদে জড়ালেও পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেননি দুই প্রধান দলের দুই উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও ওসমান ফারুক।

শনিবার বিবিসির সংলাপ অনুষ্ঠানে মুখোমুখি হন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইমাম এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফারুক।

অনুষ্ঠানে দর্শকদের মধ্য থেকে আলোচকদের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়, যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের পর উদ্ভুত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার যে দাবি উঠেছে, তা কি যৌক্তিক?

সাবেক মন্ত্রী ওসমান ফারুক তখন বলেন, “যে দিন পাকিস্তান পার্লামেন্টে দাবিটি উত্থাপিত হয়েছিল, সেদিনই এর প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। কিন্তু সরকার অযথা বিলম্ব করেছে।”

এ সময় অনুষ্ঠানের সঞ্চালক বিএনপি নেতাকে প্রশ্ন করেন- তাহলে কি কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত?

জবাবে ওসমান বলেন, “এ সিদ্ধান্ত নেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।”

সঞ্চালক তার নিজের অভিমত জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি জানি না। এ বিষয়ে বা পাকিস্তান প্রসঙ্গে আমি কিছুই জানি না।”

এরপর প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামকেও একই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এটি আসলে চট করে বলা ঠিক হবে না।”

“ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, পাকিস্তান কখনোই বাংলাদেশকে মনে-প্রাণে গ্রহণ করতে পারেনি। এ কারণেই তাদের যারা দোসর ছিল, তারা একটি বিশেষ দলের সমর্থন পেয়ে এসেছে। আর এ জন্য দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে,” বিরোধী দলকে আক্রমণ করেন তিনি।

গত ১২ ডিসেম্বর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর চার দিন পর পাকিস্তান পার্লামেন্ট একটি নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করে।

যুদ্ধাপরাধীর জন্য ওই প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে দেশজুড়ে প্রতিবাদের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানায়। তবে গণজাগরণ মঞ্চ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের দাবি তুলেছে।

বিবিসির সংলাপে দেশে চলমান অচলাবস্থার জন্য ইমাম ও ফারুক পরস্পরের দলকে দায়ী করে বদানুবাদে জড়ান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে দশম সংসদ নির্বাচন নিয়ে দুই দলের সমঝোতা প্রসঙ্গে দর্শকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইমাম বলেন, “সংবিধান অনুসারে ২৪ জানুয়ারির আগে নির্বাচন হতেই হবে। সুতরাং দশম সংসদ নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।”

তখন ফারুক বলেন, “সংবিধানে এমন কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা এই সঙ্কটের মূল। মৃত ঘোড়াকে নিয়ে সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই।”

দশম সংসদ নির্বাচনের পথে আওয়ামী লীগ এগিয়ে গেলেও নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপি এই নির্বাচনে নেই।

এর মধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিবের দূত অস্কার ফার্নান্দেজ-তারানকোর মধ্যস্থতায় দুই প্রধান দল সংলাপে বসলেও আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন নিয়ে সমঝোতার সময় শেষ, এখন একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলতে পারে। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, তাদের ভাবনায় দশম সংসদ নির্বাচনই।

বিরোধী দলবিহীন নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে ইমাম বলেন, “এখনো সুযোগ রয়েছে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করার। ইইউ প্রতিনিধি পাঠাবে না বলছে তো কী হয়েছে, আরো তো অনেক দেশ আছে। তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে।”

সংঘাতের জন্য সরকারকে দায়ী করে ফারুক বলেন, “আমাদের কর্মী-সমর্থকদের সরকার মাঠে নামতে দিচ্ছে না। কোনো কর্মসূচি দিলে তার আগের রাত থেকে কেউ ঘরে থাকতে পারে না। সরকার যা করছে, এরপর আপনারা আর কী আশা করতে পারেন।”

এ সময় ইমাম প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “বিরোধী দল জামায়াতের ভাষায় কথা বলছে। এখন তো পরিষ্কার হয়েছে, জামায়াত যে রাষ্ট্রবিরোধী একটি সংগঠন।”

বিয়াম মিলনায়নের বিবিসি সংলাপের ৫২তম এই আয়োজনে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির এবং আইনজীবী তানিয়া আমীরও অংশ নেন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ