Home / জাতীয় / ভয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন আ.লীগের নেতা-কর্মীরা
টনক নড়েছে আওয়ামী লীগের

ভয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন আ.লীগের নেতা-কর্মীরা

আক্রমনের কৌশল পাল্টাতে শুরু করেছে জামায়াত-শিবির। যৌথবাহিনীর অভিযানের পর থেকে তারা প্রকাশ্যে না এলেও অতর্কিতে তারা হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকতে তারা আক্রমন চালাচ্ছে বেছে বেছে। কোন কোন নেতা-কর্মীকে হত্যারও হুমকি দিচ্ছে। ফলে অনেক নেতা-কর্মীই এখন এলাকাছাড়া।বিশেষ করে রাজশাহী, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রামসহ কোন কোন এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতারা সবাই ভয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের দেওদীঘি এলাকার আওয়ামী লীগের সমর্থক আবদুল মালেকের বাড়িতে ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে তিনটায় ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। লুটপাটের ঘটনায় তিনি শুক্রবার সাতকানিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে হাজির হন। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ফোন করে তাঁকে ১ নম্বর আসামি রুবেল ও ৮ নম্বর আসামি আজিজের নাম বাদ দেওয়ার জন্য হুমকি দেন। শুধু এওচিয়া ইউনিয়ন নয়, সাতকানিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বেশির ভাগ এখন এলাকাছাড়া। কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের আগে ও পরে সাতকানিয়ার বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবে তাঁরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এ সময় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা কেওচিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওসমান গনি সিকদারের চালের দোকানে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেন।
একই ইউনিয়নের মাদারবাড়ী এলাকার যুবলীগের কর্মী আবদুল জব্বারের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর এবং তাঁকে বেদম মারধরের অভিযোগ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জব্বার চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে মারা যান।
জব্বারের প্রতিবেশী উত্তর সাতকানিয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর জব্বারের বাড়িতে হামলা হয়। আমি এর আগে থেকেই বাড়িতে থাকি না। যেভাবে তাণ্ডব চালাচ্ছে, এতে করে নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছি।’ গত বৃহস্পতিবার রাতে জব্বারের জানাজায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে দেখা যায়নি। হামলার ঘটনার ১০ দিন পর এখনো কোনো মামলা হয়নি। জব্বারের ভাই মো. মান্নান বলেন, ‘আমরা সবাইকে চিনি। কিন্তু মামলা করতে সাহস পাচ্ছি না।’
বিষয়টি তদন্ত করছেন সাতকানিয়া থানার এএসআই ইয়ামিন সুমন। তিনি বলেন, ‘তারা মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না।’
১০ ডিসেম্বর সাতকানিয়া রাস্তার মাথা এলাকায় উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিনের দোকান ভাঙচুর করা হয়। এর পর থেকে জসিম উদ্দিন এলাকা ছেড়েছেন। তবে কেওচিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি ওসমান গনি তাঁর দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতাদের অনেকেই এলাকায় নেই। কিছুটা আতঙ্কিত তাঁরা।’
উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোকলেস উদ্দিন নিজেও চট্টগ্রামে। তিনি টেলিফোনে বলেন, ‘এলাকায় এখনো আতঙ্ক আছে। তবে আমাদের ওখানে শিবিরের কর্মীরা এখন এলাকা ছেড়ে চূড়ামনি পাহাড়ের দিকে চলে গেছে। এলাকায় আওয়ামী লীগ এখন সংগঠিত হয়েছে।’
কাঞ্চনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী আসাদুজ্জামানও চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় ঘোষণার পর আসাদের বাড়িতে হামলা হয়েছিল।
সাতকানিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ নিয়ামত উল্লাহ বলেন, ‘এলাকাবাসীর সহযোগিতা পেলে ভালো হতো। আমাদের কোনো দল থেকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে না কেউ। আমাদের এখানে এখনো যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়নি।’
আওয়ামী লীগ ১৬ ডিসেম্বর তাদের দলীয় প্রার্থী আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভীর নেতৃত্বে পৌর সদরে মহড়া দিয়েছে। এতে কয়েকটি এলাকায় দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মনোবল বেড়েছে বলে মনে করছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের নেতা আ ম ম মিনহাজুর রহমান।
অবস্থার উন্নতি দাবি করা হলেও বৃহস্পতিবার ভোররাতে উপজেলার মির্জারখিল ও ঢেমশা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা গাছ কেটে সড়কে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ