Home / জাতীয় / সরকারি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

সরকারি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম নগরীর নয়টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (প্রাথমিক সংযুক্ত) ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে পঞ্চম শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষা শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিরোধী জোটের ডাকা অবরোধে রাস্তায় সীমিত যান চলাচল করায় পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের।
এদিন সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এসব স্কুলে একযোগে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় ভর্তিচ্ছুকরা অংশ নেয়। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এসব বিদ্যালয়ে পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম এবং অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের শিক্ষা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গৌতম বাড়ৈ বাংলানিউজকে বলেন,‘ন’টি সরকারি বিদ্যালয়ে সুষ্ঠুভাবে পঞ্চম শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ পরীক্ষার ফল আগামীকাল (রোববার) প্রকাশ করা হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরীর নয়টি সরকারি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে ১ হাজার ৯২০ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হবে। এর বিপরীতে এবছর ৮হাজার ৮শ’ ৯৪টি আবেদন ফরম জমা পড়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়া ষষ্ঠ শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষার ফল শুক্রবার প্রকাশ হয়েছে। সপ্তম এবং অষ্টম শ্রেণীর ফলাফল শনিবার প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এই শিক্ষাবর্ষে এসব বিদ্যালয়ে ষষ্ঠে ৬শ’ ৪৭, সপ্তমে ২৫ এবং অষ্টম শ্রেণীতে ১শ’২১জন শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে।
চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক মো. আজিজ উদ্দিন বলেন,‘পঞ্চম শ্রেণীতে এখানে ৩২০ টি আসন খালি আছে।’
একই কথা জানালেন ডা. খাস্তগীর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিসেস হাসমত জাহান।
এছাড়া পঞ্চম শ্রেণীতে সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, সিটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী মুহাম্মদ মহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৬০ জন করে, চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৪০, চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০০ করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
এর আগে ২৫ নভেম্বর থেকে সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন ফরম বিতরণ শুরু হয়ে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে। ফরম পূরণ করে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত জমা নেয়া হয়। এবছর মোট ১৭ হাজার ৫৩১ টি আবেদন ফরম জমা পড়েছে।
‌এদিকে পরীক্ষার দিন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮দলের টানা ৮৩ অবরোধের কারণে গণপরিবহন কম থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পরীক্ষা হলে পৌঁছতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। অনেকেই রাস্তায় কোন গণপরিবহন না পেয়ে হেঁটে অথবা বেশি ভাড়ায় রিকশায় চড়ে গন্তব্যে দেতে দেখা গেছে। এরপরও সময়মত পৌঁছাতে পারেননি কেউ কেউ।
নবীন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করতে ব্যস্ত ছিল বিদ্যালয়ের ছাত্রীরাও। কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া, নির্দিষ্ট আসনে বসিয়ে দেয়া থেকে সব ধরনের সহায়তা করছে তারা।
ডা. খাস্তগীর স্কুলে মহুয়া ফারহানা শৈলী নামের এক ভর্তিচ্ছুক বলে,‘সময়মত পৌঁছাতে পারিনি। স্কুলের পৌঁছার পর এক বড় আপু আমাকে পরীক্ষার হলে চিনিয়ে দিয়েছেন।’
আর ছেলে-মেয়েদের পরীক্ষা হলে পাঠিয়ে দিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষা করছেন তাদের জন্য।
হতাশার সুরে গোলাম মোহাম্মদ নামে এক অভিভাবক বলেন,‘রিকশায় ভাড়া বেশি চায়, এরপরও মেয়ের পরীক্ষার সময় চলে যাবে সেজন্য বেশি ভাড়ায় রিকশা করে রওনা দিয়েছিলাম টেক্সটাইল মোড় থেকে। এরপরও পরীক্ষার কিছুক্ষণ আগে দৌঁড়াদৌঁড়ি করে মেয়েকে কেন্দ্রে দিয়ে এলাম।’

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ