Home / জাতীয় / জামায়াতকে ওন করি না
জামায়াতকে ওন করি না

জামায়াতকে ওন করি না

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যারা বিশ্বাসী নয় তারা বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখে না। জামায়াতে ইসলামী বা যেই হোক সকলের ক্ষেত্রেই আমার এক কথা। কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।

এরপরেও কেন জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে রাজনীতি করছেন? এমন প্রশ্নে আন্দালিব পার্থ বলেন, ‘আমি জামায়াতের সঙ্গে পলিটিক্স করি কিন্তু তাদের কোনোভাবেই ওন করি না।’

নিজেকে ও নিজের দলকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হিসেবে উল্লেখ করে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় বেনিফিসিয়ারিই হচ্ছে দেশের নতুন প্রজন্ম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করা এই প্রজন্মের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ হয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে বলেই আজ আমি ব্যারিস্টার হয়ে, এমপি হয়ে বসতে পেরেছি। তা না হলে দেশ পাকিস্তানের অধীন থাকলে আমাকেই হয়তো মুচি হয়ে থাকতে হতো।

পার্থ বলেন, পেশাকে ছোট করার জন্য নয়, স্রেফ বাংলাদেশের মানুষের অবস্থাটি কোথায় থাকতো সেটাই বোঝাতে চাই।

এরপরেও কেন স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে জোটে থেকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলেন এবং এখন আন্দোলন করছেন? এমন প্রশ্নে পার্থ বলেন, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কৌশলের অংশ।
জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগও রাজনীতি করেছে। বিএনপিও করছে। বিজেপি তার একটি সামান্য অংশমাত্র, বলেন তিনি।

পার্থ বলেন, রাজনীতির স্বার্থেই আমাদের কিছু কম্প্রোমাইজ করতে হয়। বিজেপি যদি কখনো নিজস্ব শক্তি সঞ্চয় করতে পারে তাহলে আর কম্প্রোমাইজ করবে না।

রাজধানীর গুলশানে ব্রিটিশ স্কুল অব ল’র প্রিন্সিপালের নিজস্ব কক্ষে দীর্ঘ আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তার বক্তব্যে উঠে আসে দেশের রাজনীতির ভবিষ্যতভাবনা, বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় ইত্যাদি বিষয়। নতুন প্রজন্মকে আরও কত বেশি রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট করা যায় এবং সম্পৃক্ত করে তোলা যায় সে নিয়ে স্বপ্নের ও প্রত্যাশার কথাও শোনান আন্দালিব পার্থ।

কাদের মোল্লার ফাঁসির পর বিএনপি বা তার দলের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেওয়াকেও এক ধরনের বার্তা বলে দাবি করেন পার্থ। তিনি বলেন, আমরা যখন কিছুই বলছি না, তখন ধরেই নিতে হবে এই দলটির যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি আমরা কোনোভাবেই ধারণ করছি না। যুদ্ধপরাধ প্রসঙ্গে তারা সম্পূর্ণ আলাদা একটি দল। এটি তাদের সমস্যা তাদেরই মোকাবেলা করতে হবে।

বিএনপিকে এবং নিজের দলকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবাহী দল হিসেবে উল্লেখ করে পার্থ বলেন, একজন সেক্টর কমান্ডারের হাতে, স্বাধীনতার ঘোষকের হাতে বিএনপি গঠিত। আমার বাবাও একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

পার্থ বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে এদেশে রাজনৈতিক দলগুলো রাজনীতিই করছে। একমাত্র যারা তাদের বিরোধীতা করেছে তারা হচ্ছে দেশের জনগণ। আজ যদি জামায়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হয় তাও দেশের সাধারণ মানুষই নেবে।

যুদ্ধপরাধীদের মামলার রায় নিয়ে কোনো কথা নেই। তবে যুদ্ধাপরাধের মামলার প্রক্রিয়াটি নিয়ে আমার কিছু কথা আছে, বলেন পার্থ।

তিনি বলেন, কাজটি সরকার আরেকটু ভালোভাবে করতে পারতো। দুই বছর আগেই এই বিচারের রায় হয়ে যেতে পারতো। কিন্তু তা হয়নি। বিচার নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা চলেছে।

কেনো এই বিচারে দেশের প্রধান প্রধান আইনজীবীরা নেই, সেটি একটি প্রশ্ন, বলেন পার্থ।

ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলাম, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসরা কোথায়? তারা কেনো এই বিচারের আইনজীবী নন? প্রশ্ন আন্দালিব পার্থের।

তিনি বলেন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক যদি দুই নেত্রীর মামলা একহাতে করতে পারেন তাহলে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই মামলায় কেনো তিনি নেই?

আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, আপনি যদি কারো বিরোধীতা করতে চান তা প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকেও করতে পারেন। চার দলীয় জোটে যোগ দিয়েও আমার বাবা রাজাকারদের যেকোনো বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার থাকতেন। আমিও সেই এই চেতনায় বিশ্বাসী, একই চেতনার ধারক।

পার্থ বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কোনো কথা জামায়াত বললে, আমিই প্রথম ব্যক্তি হবো যে তার প্রতিবাদ করবে।

যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে রাজনীতিতে থাকার পুরো প্রক্রিয়াটিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে উল্লেখ করে পার্থ বলেন, রাজনীতিতে কোনো প্রেম নেই সবটাই কৌশল।

নিজেকে জাতীয়তাবাদী চেতনার রাজনীতিক হিসেবে উল্লেখ করে পার্থ বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তি আমাকে ও আমার দলকে গ্রহণ করেছে। এই ধারার রাজনীতির সঙ্গেই থাকতে চাই।

রাজনীতির ধারা ও গতি প্রকৃতি নিয়ে আন্দালিব রহমান পার্থের আরও বক্তব্য আসছে পরবর্তী পর্বে… ‘রাজনীতি একটি লোকাল বাস’ এই শিরোনামে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ