Home / জাতীয় / কৃষিতে আয় কম কৃষিমন্ত্রীর, রাষ্ট্রদ্রোহিতায় সাজাপ্রাপ্ত মেনন
কৃষিতে আয় কম কৃষিমন্ত্রীর, রাষ্ট্রদ্রোহিতায় সাজাপ্রাপ্ত মেনন

কৃষিতে আয় কম কৃষিমন্ত্রীর, রাষ্ট্রদ্রোহিতায় সাজাপ্রাপ্ত মেনন

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামা থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বছরে মাত্র ৪০ হাজার টাকা কৃষিতে আয় করেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। এছাড়া বিয়ের সময় ১০০ তোলা স্বর্ণ উপহার হিসাবে পেয়েছিলেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী- তাও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ কৃষিতে বছরে ভালোই আয় করেন। এ খাতে তার বার্ষিক আয় প্রায় ২ লাখ ৭৫ টাকা। প্রায় ২৯ কোটি টাকা দেনা আছে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের। এছাড়া পুত্রের কাছে ৭৩ লাখ টাকা দেনা করেছেন আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। অন্যদিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে সাজা হয়েছিল ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের।

নগদ টাকা নেই নৌ-মন্ত্রীর
মাদারীপুর-২ আসনে বার বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। দশম জাতীয় সংসদেও তিনি প্রার্থী হয়েছেন। তার হলফনামায় লেখা হয়েছে, তার কোনো নগদ টাকা নেই।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে পদার্পণ তার। ১৯৭৫ সালে গোপালগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করা অস্ত্র আইন মামলায় তার ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়। এছাড়া ১৯৭০ সালে সরকারি নাজিম উদ্দিন কলেজে মারামারি সংক্রান্ত মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। মামলাটি ফরিদপুর সামরিক আদালত আমলে নেয় এবং ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন তাকে।

বিএ পাস করেছেন নৌ-মন্ত্রী।
শাজাহান খানের ব্যাংকে মাত্র ২২ হাজার ১২৯ টাকা জমা আছে। এছাড়া তিনি মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসাবে বার্ষিক পারিতোষিক ও ভাতাদি দেখিয়েছেন ১৭ লাখ ২২ হাজার ৩০০ টাকা। তার একটি জিপ আছে। এবং ২০ তোলা স্বর্ণ আছে, যার বাজার মূল্য ৮০ হাজার টাকা।

কৃষিমন্ত্রীর কৃষিখাতে আয় ৪০ হাজার
শেরপুর-২ আসনের প্রার্থী কৃষিমন্ত্রী বেমগ মতিয়া চৌধুরী বছরে ৪০ হাজার টাকা আয় করেন কৃষি খাত থেকে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ১৫ একর কৃষি জমির মধ্যে এক-চতুর্থাংশ মন্ত্রীর। তবে শেয়ার, সঞ্চয় ও ব্যাংক আমানত হিসাবে ২ কোটি ৭৯ লাখ ৪০০ টাকা আছে তার। অতীতে তার নামে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের
করা হয়নি। তিনি সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন বিএসসি অনার্স।

মহীউদ্দীন খান আলমগীর নগদ ৩ কোটি টাকার মালিক
চাঁদপুর-৩ আসনের প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। কৃষি খাত থেকে তিনি বছরে ৬০ হাজার টাকা আয় করেন। পেশা হিসাবে শিক্ষকতা, আইন ও পরামর্শকের কথা হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি। ব্যবসা থেকে বছরে ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় করেন। তার নামে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। তিনি অর্থনীতি বিভাগে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

সাবেক এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের নামে ৩ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা আছে এবং স্ত্রীর নামে আছে প্রায় ১০ লাখ টাকা।

কৃষিতে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আয় তোফায়েলের
বরেন্য রাজনীতিবিদ গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ কৃষিক্ষেত্রে স্বাবলম্বী। তিনি বছরে এই খাত থেকে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৩০০ টাকা আয় করেন। বর্তমানে তার হাতে মাত্র দেড় লাখ নগদ টাকা জমা আছে। তবে শেয়ার, সঞ্চয় ও ব্যাংকে আমানত হিসাবে তার নামে প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা আছে।

বাস, ট্রাক ও মটরগাড়ি থেকে বছরে ৬১ লাখ টাকা আয় করেন তোফায়েল। তার স্ত্রীর নামে ২৪ তোলা স্বর্ণ আছে।

রাজনীতি করার কারণে তার নামে অগনিত মামলা হয়েছে তবে ঢাকা সিএমএম কোর্ট ১১টি মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি প্রদান করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি অতীতে কোনো ফৌজদারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত নন।

প্রায় ২৯ কোটি টাকা দেনা রুহুল আমিনের
জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের দেনা ২৮ কোটি ৯৯ লাখ ৩২ হাজার ৭১৯ টাকা। এই দেনা নিকট আত্মীয়, ব্যক্তিগত বন্ধু বান্ধব ও ব্যাংক পাবে। রুহুল আমীন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পটুয়াখালী-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। তার ‍কৃষিখাতে কোনো আয় নেই। তবে বছরে ১ কোটি ৬২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে পান।

রুহুল আমিনের ব্যাংকে কোনো আমানত নেই। তবে নগদ টাকা আছে ৬ কোটি ৬৬ লাখ ২৬ হাজার ৫৭০ টাকা। এছাড়া তার নিজের নামে গুলশানে ১২ দশমিক ৭ কাঠা এবং স্ত্রীর নামে পূর্বাচলে ৭ দশমিক ৫০ কাঠা জমি আছে। এছাড়া ৬৭ লাখ ৯৪ হাজার ৫৩০ টাকা দামের একটি ল্যাণ্ড ক্রুজার আছে রুহুল আমিনের।

আমুর পরিবহন খাতে থেকে আয় ৫ লাখ টাকা
ঝালকাঠী-২ আসনের প্রার্থী আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বছরে পরিবহন খাত থেকে ৫ লাখ টাকা আয় করেন। এই টাকা বাস, ট্রাক,
মটরগাড়ি ও অন্যান্য খাত থেকে আসে। তিনি কৃষি খাতে বছরে ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আয় করেন। বাড়ি ও দোকান ভাড়া বাবদ আয় করেন ১০ লাখ ৮ হাজার টাকা।

এছাড়া আমুর নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত টাকার পরিমাণ ১ কোটি ৫৩ লাখ ৯ হাজার ২১৫ টাকা। এছাড়া ১ লাখ টাকার স্বর্ণালংকারও আছে তার।

রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে সাজা হয়েছিল মেননের
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী রাশেদ খান মেননের নামে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হয়েছিল। সংক্ষিপ্ত সামরিক আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তাকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও সম্পত্তির ৬০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করেছিলেন।

ইসিতে দেওয়া মেননের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তার নামে কোনো কৃষি জমি নেই। ব্যবসা থেকে তিনি বছরে ৬ লাখ টাকা আয় করেন। তবে ব্যবসার কথা উল্লেখ করা হয়নি। রাশেদ খান মেননের ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১০ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এছাড়া তার হাত ঋণ আছে ২০ লাখ টাকা।

সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসাবে অর্থনীতিতে এমএ পাস দেখিয়েছেন মেনন।

বিয়েতে ১০০ তোলা স্বর্ণ উপহার পেয়েছিলেন সাজেদা
সংসদ উপনেতা ফরিদপুর-২ আসনের প্রার্থী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বিয়েতে ১০০ তোলা স্বর্ণ উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন। ইসিতে দেওয়া তার হলফনামা থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

হলফনামায় বলা হয়েছে, সাজেদা চৌধুরীর কাছে নগদ টাকা আছে মাত্র ১ লাখ। তবে ব্যাংকে জমা আছে ২২ লাখ টাকা। এছাড়া তার ৬৫ লাখ ২৭ হাজার ৬৭৫ টাকা দামের একটি জিপ আছে। তবে তার কোনো কৃষি জমি ও ব্যবসা নেই। পেশা হিসাবে তিনি রাজনীতির কথা উল্লেখ করেছেন। দায় আছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৩৩১ টাকা, যেটা জিপ কেনার সময় দেনা করেছিলেন।

পুত্রের কাছে ৭৩ লাখ টাকা দেনা লতিফ সিদ্দিকীর
আওয়ামী লীগ নেতা টাঙ্গাইল-৪ আসনের প্রার্থী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী পুত্র অনিক সিদ্দিকীর কাছ থেকে ৭৩ লাখ টাকা দেনা করেছেন। ইসিতে দেওয়া তার হলফনামা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া তিনি বছরে মন্ত্রী হিসাবে ৬ লাখ ৩৭ হাজার ২০০ টাকা পারিতোষিক পেয়ে থাকেন।

লতিফ সিদ্দিকীর নগদ টাকার পরিমাণ ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫৬৮ টাকা। কৃষি ও ব্যবসা খাত থেকে কোনো আয় নেই তার। তিনি ৬৫ লাখ টাকা দামের টয়োটা ব্যবহার করেন। মাস্টার্স অব আর্টসের শিক্ষার্থী লতিফ সিদ্দিকী। তার কাছে ২০ ভরি স্বর্ণ আছে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ