Home / জাতীয় / কৃষক পর্যায়ে বীজ উত্পাদনে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত

কৃষক পর্যায়ে বীজ উত্পাদনে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত

Rice_Fieldবাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমবারের মতো কৃষিঋণের আওতা বাড়িয়ে বীজ উত্পাদনে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে ফসলভিত্তিক ৩১ প্রকারের বীজ উত্পাদনে ঋণ দেওয়া হবে। ঋণ প্রদানের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক পৃথক ঋণ নিয়মাচার ও ঋণ পরিশোধসূচি প্রণয়ন করেছে। এ ঋণের বিশেষত্ব হল-কৃষক ব্যাংকগুলো কৃষক পর্যায়ে ঋণ প্রদান করতে পারবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৃষিঋণ ও আর্থিক সেবাভুক্তি বিভাগ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বীজ উত্পাদনের জন্য পৃথক ঋণ নিয়মাচার প্রণয়ন করা হয়েছে। কৃষিঋণের সুফল কৃষক পর্যায়ে পৌঁছতে পারছে না-এমন ধারণা থেকে বীজ উত্পাদনে এ বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এতে বীজ উত্পাদনের সঙ্গে জড়িত বৃহত্ প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি কৃষক পর্যায়েও ঋণ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। সে আলোকে আজ কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করে তফসিলি ব্যাংক ও বিআরডিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। ঋণ নিয়মাচারে বলা হয়েছে, ৩১ জাতীয় বীজ উত্পাদনে কৃষিঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব ঋণকৃষি ঋণের নিয়মানুযায়ী সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ সুদ আদায় করবে ব্যাংকগুলো। ঋণের খাতগুলো হল-দানা শস্যের মধ্যে রোপা আমন, বোরো, গম (সেচসহ), অর্থকরী ফসল পাট, মসলা জাতীয় ফসলের মধ্যে মরিচ, পিঁয়াজ (বাল্ব), রসুন, পিঁয়াজ (প্রকৃত বীজ), শাকসবজির মধ্যে শিম, লাল শাক, পালং শাক, কলমি শাক, লাউ, মুলা, বরবটি, বেগুন, উচ্ছে, ঢেঁড়স, ডাঁটা, কন্দাল ফসলের মধ্যে আলু, তেল জাতীয় ফসলের মধ্যে সরিষা, সয়াবিন, চিনাবাদাম, সূর্যমুখী এবং ডাল জাতীয় পণ্যের মধ্যে মুগডাল (খরিপ-১), মুগডাল (রবি), মাষকলাই, ছোলা, মসুর ও খেসারি।
এখানে উল্লেখ্য, ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে পাট, মরিচ, পিঁয়াজ (প্রকৃত বীজ), শাকসবজি ও সূর্যমুখী ফসলের জন্য সর্বোচ্চ এক একর এবং আলু ফসলের জন্য সর্বোচ্চ আড়াই একর জমিতে ঋণ প্রদান করা যাবে। এ ছাড়া অন্যান্য ফসলের বীজ উত্পাদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ একর পর্যন্ত ঋণ প্রদান করা যেতে পারে। বীজ ভেদে একর প্রতি ৩ হাজার ৯৯৫ টাকা থেকে ৪ লাখ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া যাবে।
কৃষকরা এসব ঋণ পরিশোধে ফসল সংগ্রহের পর আরও ছয় মাস পর্যন্ত সময় পাবে। নিয়মাচারে ব্যাংকগুলোকে বীজ উত্পাদনের খরচ নির্ধারণে সুষম সার, বীজ, সেচ, মাচা, কীটনাশক, জমি তৈরির যন্ত্র, শ্রম, মৌসুমওয়ারি ফসল উত্পাদনে জমির ভাড়া, পাতলাকরণ, পরিবহন খরচ, বীজ শোধন ও বীজ সংরক্ষণের ব্যয়কে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ