Home / অর্থনীতি ও বানিজ্য / চট্টগ্রাম বন্দরে দাঁড়িয়ে ৩৮ জাহাজ আটকা ২৯ হাজার কনটেইনার

চট্টগ্রাম বন্দরে দাঁড়িয়ে ৩৮ জাহাজ আটকা ২৯ হাজার কনটেইনার

Chittagong Portরাজনৈতিক অস্থিরতা হরতাল অবরোধ ও সহিংসতার কারণে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর ‘চট্টগ্রাম’ বন্দরে আটকা আছে ২৯ হাজার কন্টেইনার। ৩৮টি জাহাজ দাঁড়িয়ে আছে। রপ্তানি আদেশ বাতিল এবং নতুন অর্ডার না পাওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিপর্যয়ের ফলে ‘এয়ার ফ্রেইড’-এর বাড়তি ব্যয়ে দেশের এক চতুর্থাংশ গার্মেন্ট রুগ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চ নাগাদ বেকার হয়ে পড়বে লাখ লাখ শ্রমিক। বেঁচে থাকাটাই যেন কঠিন যুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যবসায়ীদের।
চেম্বার, বিজিএমইএ, শিপিং এজেন্ট ও বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থবিরতা বিরাজ করছে। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ী সমাজ আজ দুরবস্থার শিকার। ব্যাহত হচ্ছে শিল্পোৎপাদন। সময়মতো পণ্য শিপমেন্ট করতে না পারায় কোটি কোটি ডলার মূল্যের রপ্তানি আদেশ বাতিল হচ্ছে। পণ্য সামগ্রী ও কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। ব্যাংক ঋণের সুদ, ইউটিলিটি বিল, কর্মচারীদের বেতনসহ আনুষঙ্গিক ব্যয়ভার ঠিকই বহন করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে সরকার শত শত কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
আমদানি-রপ্তানি খাতের নাজুক চিত্রের কারণে বন্দর পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ জানান, প্রায় ২৯ হাজার কন্টেইনার জমা থাকলেও বন্দরের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে সহসা কন্টেইনার জট হচ্ছে না। অন্তত ৩৫-৪০ হাজার কন্টেইনার ধারণ ক্ষমতা রয়েছে বন্দরের। রবিবার পর্যন্ত বন্দর সচিবের তথ্য অনুযায়ী হরতাল সত্ত্বেও পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ হাজার ১৮৩ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়। রবিবার অপেক্ষমাণ ৩৮টি জাহাজের মধ্যে ৩৩টিতে মালামাল উঠানামার কাজ হয়। তার মধ্যে সাতটি কন্টেইনার জাহাজ ও অন্যগুলোতে রয়েছে সার, সিমেন্ট ক্লিংকারসহ জেনারেল কার্গো। বন্দরের সক্ষমতা যতই বাড়ুক না কেন আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা হরতাল অবরোধের কারণে চরমভাবে ভেঙে পড়েছে জানিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, সহিংস পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস, দেশের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র চাক্তাই খাতুনগঞ্জ, অফিস পাড়া আগ্রাবাদসহ সমগ্র চট্টগ্রামে অন্তত ২৭ দিনের টানা অবরোধ-হরতালে দৈনিক ৭০০ কোটি টাকা করে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। পণ্যের বাড়তি অবস্থানে বন্দরে জাহাজের ডেমারেজ তো রয়েছেই, ঢাকা-চট্টগ্রাম কাভার্ড ভ্যান ভাড়া বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ টাকায় উঠেছে। এমন অবস্থাকে ‘শূন্যের কোটায় ব্যবসা’ বলে মন্তব্য চেম্বার সভাপতির। সময়মতো শিপমেন্ট করতে না পারার কারণে কোটি কোটি ডলার মূল্যের রপ্তানি আদেশ বাতিল হচ্ছে জানিয়ে বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পোশাক শিল্প খাতে সবচেয়ে উদ্বেগ হলো নতুন করে বুকিং হচ্ছে না। শ্রমের মজুরি ভারত, ভিয়েতনাম ও চায়নায় বাংলাদেশের কাছাকাছি হওয়ায় অর্ডার চলে যাচ্ছে সে সব দেশে। এদিকে, ক্রেতার কাছে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বর্তমান পরিস্থিতিতে এয়ার ফ্রেইড ছাড়া উপায় নেই জানিয়ে এক্ষেত্রে বাড়তি ব্যয়, ব্যাংক ঋণের সুদ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়তি বেতনের ধকল সইতে না পেরে এক চতুর্থাংশ অর্থাৎ প্রায় এক হাজার গার্মেন্ট রুগ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব পড়বে অন্য সব খাতে। ফলে লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চিটাগাং উইমেন চেম্বারের সহ-সভাপতি আইভি হাসান জানান, বছরে প্রায় ৩০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে মুখ্য ভূমিকা পালনকারী প্রাইভেট সেক্টরকে রক্ষায় হরতাল, জ্বালাও পোড়াও, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা বন্ধ করতে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ