Home / জাতীয় / বিষাক্ত ইনজেকশনে পুলিশ কর্মকর্তা খুন, স্ত্রীর স্বীকারোক্তি!
হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী রহিমা সুলতানা রুমি

বিষাক্ত ইনজেকশনে পুলিশ কর্মকর্তা খুন, স্ত্রীর স্বীকারোক্তি!

রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসা থেকে শাহ আলী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হুমায়ুন কবিরের (৩১) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পূর্ব মনিপুরের ১০৫০/৩ নম্বর কাঁঠালতলার বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার স্ত্রী রহিমা সুলতানা রুমিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি মিরপুর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সেবিকা।
মিরপুর থানার ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, শনিবার গভীর রাতে হুমায়ুনের লাশ কাঁঠালতলায় তাদের ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। হুমায়ুন কবির শাহআলী থানায় কর্মরত ছিলেন। ১০৫০/৩ কাঁঠালতলা পূর্ব মনিপুরের বাড়ির দ্বিতীয় তলার ভাড়া ফ্ল্যাটে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। গত শুক্রবার রাতে ডিউটি শেষে বাসায় ফিরেন পুলিশের এ কর্মকর্তা। শনিবার রাতে তার পুনরায় ডিউটিতে যাওয়ার কথা ছিল। যথাসময়ে তিনি ডিউটিতে না যাওয়ায় এবং মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় শাহআলী থানার ওসি হুমায়ূন কবিরের বাসায় পুলিশ পাঠানো হয়। এরপর পুলিশ তার বাসায় গিয়ে বেডরুমের খাটের উপর মৃতদেহ দেখতে পেয়ে মিরপুর থানায় খবর দেয়। বাসা থেকে লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ নিহতের স্ত্রী ও মীরপুর হার্ট ফাউন্ডেশনের সিনিয়র নার্স রুমিকে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে আটক করে। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী রুমি এ হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে। পারিবারিক কলহের জের ধরে হুমায়ুন কবিরকে ইনজেকশনের মাধ্যমে অচেতন করে পরে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয় বলে স্ত্রী রুমি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ জানায়, হুমায়ুন ও রুমি দম্পতির মধ্যে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি ছিল। শনিবার রাতেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এজন্য বাসার টেলিভিশন ও আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে হুমায়ুন। তাদের এই সমস্যার বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আগেই অবহিত করেছিলেন হুমায়ুন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্ত শেষে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে নিহতের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দাফনের জন্য লাশ হুমায়ুনের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়ার ভবানীপুর পাঠানো হয়।
নিহতের ভাই বজলুর রশিদ জানান, হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী রহিমা মিরপুর হার্ড ফাউন্ডেশনের সিনিয়র নার্স। তারা প্রেম করে বিয়ে করেন। ইসমাম (০২) নামের এক সন্তান রয়েছে তাদের। পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। এ কারণেই তার স্ত্রী পরিকল্পিতভাবে হুমায়ুন কবিরকে খুন করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করছেন। এ ব্যাপারে বজলুর রশিদ বাদী হয়ে মিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ বলছে, হত্যাকান্ডের পেছনে অন্য কোন কারণ রয়েছে কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, হত্যার কারণ হিসেবে রহিমা জানিয়েছে, বিভিন্ন বিষয়ে হুমায়ুনের সঙ্গে তার ঝগড়া হতো। কারণে অকারণে হুমায়ুন তাকে মারধর করত। এরই জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ