Home / জাতীয় / বাশেঁর কেল্লার আজগুবি ইতিহাস: গোলাম আজম মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন!!
বাশেঁর কেল্লার ফ্যান পেইজ

বাশেঁর কেল্লার আজগুবি ইতিহাস: গোলাম আজম মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন!!

জামায়াত-শিবির পরিচালিত ফেসবুক ফ্যানপেজ বাশেঁর কেল্লা থেকে দাবি করা হয়েছে, গোলাম আজম মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বুদ্ধিজীবী হত্যা ভারতীয় সেনারা করেছে। ভারতের কাছ থেকে সহায়তা না নিয়ে দেশ স্বাধীনতার জন্য জনগণকে বললেও তখন গোলাম আজমের কথা মানুষ শোনেনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক
গতকাল ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস চলে গেলো। এবার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন ছিলো ৪৩ বছরের মধ্যে সব থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এবারই প্রথম বুদ্ধিজীবী হত্যার সাথে জড়িত কাদের মোল্লার মত একজনের বিচার কার্যকর করা হয়েছে। তবে এইদিনেও জামায়াত-শিবির যঘন্য মিথ্যাচার ছড়িয়ে দিচ্ছে ফেসবুকের মত জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তারই একটি বাশেঁর কেল্লা। ফেসবুক এ ফ্যান পেজটি জামায়াত-শিবির কর্তৃক পরিচালিত হয়ে আসছে।
নিচে পাঠকের জন্য পুরো স্টাটাসটি হুবহু তুলে দেয়া হলো :
আজ বুদ্ধিজীবি হত্যা দিবস ।

১৯৭১ সালের এই ১৪ ডিসেম্বর হত্যা করা হয়েছিলো এই দেশের বুদ্ধিজীবিদের ।

কে হত্যা করেছিল ?
কার স্বার্থে হত্যা করা হয়েছিলো ?
এখনও কে হত্যা অব্যাহত রেখেছে ?

আসুন জানি সঠিক ইতিহাস । ১৯৭১এর ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয়েছিলো এই দেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ । দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লক্ষ লক্ষ লোক প্রান দিয়েছিলো দেশের স্বাধীনতার জন্য ।

১৯৭১ সালের ১ ডিসেম্বর এইদেশের মুক্তিযোদ্ধারা বিদেশী হানাদারদের হটিয়ে দেশের ৩৮ টি জেলাকে স্বাধীন ঘোষণা করেছিলো । অর্থাৎ বিজয়ের ধারপ্রান্তে এসেছিলো আমাদের সংগ্রামী মুক্তিযোদ্ধারা । মাত্র ১৬ দিন পরেই পুরো দেশকে স্বাধীন ঘোষণা করেছিল মুক্তিযোদ্ধারা ।

যখন আমাদের স্বাধীনতা প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলো , যখন মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকার দিকে তীব্র গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তখন ২ ডিসেম্বর ভারতীয় সৈন্যরা সহযোগিতার নাম করে আমাদের বাংলাদেশে আসে । ৬৪ টি জেলার মধ্যে ৩৮ টির বেশী স্বাধীন হয়ে যাওয়ার পর …

কেন এসেছিলো ভারতীয় সৈনিকরা ?
কি কারনে এসেছিলো তারা ?
কোন মিশন নিয়ে এসেছিলো তারা ?
যেখানে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা ৯ মাস লড়ে যেতে পারলো সেখানে মাত্র ১৪ দিন আগে কেন এসেছিলো ভারতীয় সৈন্য ?

তারা চেয়েছিলো বাংলাদেশ যেন তাদের আন্ডারে থাকে , তাদের নেতৃত্ব স্বীকার করতে বাধ্য থাকে , সুজলা সুফলা এই বাংলা যেন কোনভাবেই উন্নত দেশে পরিণত না হয় , বাংলাদেশ যেন তাদের গোলামী করতে থাকে । বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যাতে কোন বাংলাদেশী নির্ধারণ করতে না পারে । বাংলাদেশের তকদীর যেন ভারতের হাতেই থাকে ।

আর এই সব কারনেই তারা সেইদিন পরিকল্পিত ভাবে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করে ।

আজ স্বাধীনতার ৪২ বছর পর দেখুন ভারত এখন বাংলাদেশের রাজনীতি , অর্থনীতি , কূটনীতি , প্রশাসনিক নীতি , সমরনীতি , এমনকি সামাজিক ব্যাবস্থাও নির্ধারণ করে দিতে চাইছে ।
এরপরও আমরা অনেকেই ভারতকে বন্ধু ভাবছি , আমি বলবো যারা এই রকম ভাবছে তারা বধির , মূর্খ ,বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ।

এই কথাগুলো একজন মুক্তিযোদ্ধার আত্মকথা । একটাও মিথ্যা বলছি না , ইচ্ছে করলে ভিনদেশী দালাল , মুক্তিযোদ্ধা ব্যাবসায়ী ছাড়া অন্য কোন ভাল মুক্তিযোদ্ধা থেকে জেনে নিতে পারেন ।

এই কথাগুলো আরও একবার ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতের সহযোগিতা নেওয়ার আগে বলেছিলেন এই দেশের একজন সন্মানিত ব্যাক্তি কিন্তু সেইদিন তার কথা কেউ শুনেনি । বরং ভারতীয় দালালরা তাকেই আক্রমন করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালিয়ে তাকে দেশ বিরোধী আখ্যা দিয়েছিলো ।
অথচ আজ তার সেই কথাগুলোই সত্যায়িত হতে যাচ্ছে ।

আর সেই ব্যাক্তিটি হচ্ছে এইদেশের ইসলামী আন্দোলনের প্রবর্তক , জ্ঞানগর্ব , বিশিষ্ট সমাজ সেবক, আন্তর্জাতিক ইসলামী ব্যাক্তিত্ব জনাব অধ্যাপক গোলাম আযম ।
ভুল তথ্যে সমালোচনার ঝড় : শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস নিয়ে এরকম একটি বক্তব্য দেওয়ার পর সোসাল নেটওয়াকিং তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠে। বাশেঁর কেল্লার দাবি মতে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে ৬৪টি জেলা ছিলো। তবে প্রকৃত তথ্য হচ্ছে-স্বাধীনতা যুদ্ধের ৭১ সালে দেশে জেলার সংখ্যা ছিলো ১৭। এরকম অসংখ্য ভুল দিয়ে দিয়ে ফেসবুক ইউজাররা বাশেঁর কেল্লার স্টাটাসটির নিচে কমেন্ট করতে থাকে। তবে সেসব কমেন্টের কোন উত্তর কেউ দেয়নি।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ