Home / জাতীয় / কোম্পানীগঞ্জে সংঘর্ষে ৭ জন নিহতের দাবি শিবিরের

কোম্পানীগঞ্জে সংঘর্ষে ৭ জন নিহতের দাবি শিবিরের

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট বাজারে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের ব্যাপক সংঘর্ষ ও  ঘটনা গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে জামায়াত-শিবিরের ৭ নেতাকর্মী নিহত হয়েছে বলে শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ ৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংঘর্ষে ৫ পুলিশ ও জামায়াত-শিবিরে ২৫ জন গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক আহত হয়েছে। এসময় সরকারি অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা।
জামায়াত-শিবিরকর্মীরা শনিবার বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতাল রোড়ে জঙ্গিমিছিল বের করলে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলে
সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

নিহত জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা হল, সাইফুল ইসলাম, মতিউর রহমান, রাসেল, চরহাজারীর সজীব, বসুরহাট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রায়হান, শহীদুল ও মিতুল। তবে নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার বিকেল ৪টার দিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির প্রতিবাদে বসুরহাট মডেল স্কুল এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।

পরে মিছিলটি বসুরহাট থানা সংলগ্ন হাসপাতাল রোডের উপজেলা মসজিদের সামনে গেলে পুলিশ তাদের মিছিলে বাধা দেয়। এতে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপর হামালা ও ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারে। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়াপাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করেতে প্রথমে  লাঠিচার্জ ও পরে আত্মরক্ষার্থে রাবার বুলেট ছোঁড়ে। শিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হলে দু’পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় শুরু হয়। এতে ঘটনাস্থলে ২ শিবির কর্মী নিহত এবং ৩ পুলিশ কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, পিস্তল ও চাইনিজ রাইফেলের গুলি ছুঁড়ে। এতে ৩০ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে দাবি জামায়াত-শিবিরের।

Companiganj Pic-2_33572সংঘর্ষে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি/তদন্ত) শফিকুল ইসলামসহ কনস্টেবল রাশেদ, বশির ও রাজু গুলিবিদ্ধ হন। শিবিরকর্মী সোহাগ (২০), ওসমান গণি (১৬), আবদুল্লাহ আল মামুনসহ (২০) ২৫ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

পরে ক্ষিপ্ত হয়ে শিবিরকর্মীরা বসুরহাট কেন্দ্রীয় পোস্ট অফিস, উপজেলা সেটেলম্যান্ট অফিস, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস, উপজেলা আনসার-ভিডিপি অফিস, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে।

পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনে।

এদিকে, কোম্পানীগঞ্জের প্রধান সড়কসহ সবকটি সড়কে গাছ কেটে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে রাখে জামায়াত-শিবির কর্মীরা।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান সাজিদ জানান, পুলিশ উপজেলা জামে মসজিদ এলাকা থেকে ৩ জনের লাশ উদ্ধার করেছে।

জেলা শহর শাখা শিবিরের সভাপতি নেয়ামত উল্ল্যাহ শাকের  জানান, পুলিশের গুলিতে জামায়াত-শিবিরের ৭ জন নেতাকর্মী নিহত এবং ২৫ গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক আহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধসহ আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলেও তিনি জানান।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, সংঘর্ষে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সফিকুল ইসলামসহ ৫ পুলিশ আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ