Home / আন্তর্জাতিক / বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের চাপ আমেরিকাকে

বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের চাপ আমেরিকাকে

অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সদর্থক ভূমিকা নিতে আমেরিকার ওপর চাপ তৈরি করল ভারত।
সূত্রের খবর, বাংলাদেশ নিয়ে হোয়াইট হাউসের অবস্থানে হতাশ সাউথ ব্লক। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে, কোনও আড়াল না রেখেই সেই হতাশার কথা আমেরিকাকে জানানো হয়েছে। বিদেশসচিব সুজাতা সিংহ তাঁর সদ্যসমাপ্ত মার্কিন সফরে সে দেশের বিদেশসচিব ওয়েন্ডি শেরম্যানের সঙ্গে ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সাউথ ব্লক মার্কিন নেতৃত্বকে স্পষ্ট জানিয়েছে, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার প্রশ্নে পশ্চিম বিশ্বের উচিত বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক এবং হিংসামুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করা।
কিন্তু এ ব্যাপারে এখনও সক্রিয় সহযোগিতার পদক্ষেপ আমেরিকা করেনি বলেই মনে করছে বিদেশ মন্ত্রক। সরকারি সূত্রের দাবি, আমেরিকা মনে করে জামাতে ইসলামি জঙ্গিবাদের সমর্থক নয়। তাই রাজনৈতিক পরিসরে তাদের জায়গা দিলে, মৌলবাদী তালিবানপন্থীদের সঙ্গে লড়াইয়ের লাভই হবে। হোয়াইট হাউস থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফোনও গিয়েছে। তাঁকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে, বিএনপি-র কথা মেনে পদত্যাগ করে, সরকার ভেঙে দিয়ে ভোটে যাওয়ার জন্য। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে বিতর্কের সময় থেকেই আমেরিকার বিরাগভাজন হাসিনার আওয়ামি লিগ। এ কথাও আমেরিকা মনে করে, বিএনপি তাদের নীতির প্রতি অনেকটাই বিশ্বস্ত। তারা ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের বাজারে ঢোকা মার্কিনিদের পক্ষে সহজ হবে। রণকৌশলগত প্রশ্নেও বিএনপি-জোট এই মুহূর্তে আমেরিকার পক্ষে কাম্য।
কিন্তু জামাতের হিংসাত্মক কাজের জন্য দেশের পরিস্থিতি যে ক্রমশই হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে, সে কথাই আলোচনার মাধ্যমে আমেরিকাকে বোঝানোর চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি। আজ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরুদ্দিন জানান, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে কথা হয়েছে। বিদেশসচিব মার্কিন নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিকে দেখা হয়েছে।
কাদের মোল্লার ফাঁসি নিয়ে উত্তাল বাংলাদেশ। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কায় ভারতও। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের কথায়, আমরা এ কথা বিশ্বাস করি যে একটি গণতান্ত্রিক দেশের মানুষ হিসাবে বাংলাদেশি রাজনীতিকরা তাঁদের মতপার্থক্য কথার মাধ্যমেই মেটাবেন। মুখে এ কথা বললেও বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কা নয়াদিল্লির রয়েছেই। তা ছাড়া যে সুবিপুল পুঁজি ইসলামিক ব্যাঙ্কের মাধ্যমে জামাত-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠনের হাতে গিয়েছে, তার কুপ্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। অন্যান্য সন্ত্রাসবাদী সংগঠনও এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে। তবে পাঁচ হাজার বাড়তি বিএসএফ জওয়ান মোতায়েন হয়েছে। সীমান্তের যেখানে কাঁটাতার নেই সেখানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অনিল গোস্বামী দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে পরিস্থিতি জানিয়েছেন। ব্যবস্থা নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশে রাজ্য পুলিশের ডিজি সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর ব্যবস্থা নিয়েছেন। সূত্র: আনন্দ বাজার

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ