Home / জাতীয় / বিএনপির অংশগ্রহণ কঠিন হচ্ছে : সিইসি বিনা ভোটে জয়ী ১০০!

বিএনপির অংশগ্রহণ কঠিন হচ্ছে : সিইসি বিনা ভোটে জয়ী ১০০!

নির্বাচন কমিশন (ইসি) কীভাবে অগ্রসর হবে তা রাজনৈতিক নেতারাই ঠিক করবেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ। গতকাল সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সিইসি বলেন, আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ ডিফিকাল্ট (কঠিন) হয়ে যাচ্ছে। সুযোগ সব সময় থাকবে, যদি তারা বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তে আসেন। তখন রাজনীতিবিদরা বলে দেবেন কমিশন কীভাবে অগ্রসর হবে। ‘লাঙ্গল প্রতীক বরাদ্দ না দেওয়ার এরশাদের অনুরোধ’ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারাই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। এ প্রসঙ্গে ইসি সূত্র জানায়, যেহেতু মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য পার্টির পক্ষ থেকে প্রতীক বরাদ্দের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেহেতু মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে প্রার্থী ওই প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবেন। প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন গত ২৫ নভেম্বর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে। এদিকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পর গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত সারাদেশে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন রেকর্ড সংখ্যক ১০০ প্রার্থী। এ ছাড়াও নির্বাচনে মহাজোটের ১০ প্রার্থীকে নৌকা প্রতীক দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে নির্দিষ্ট সময়ে আবেদন না করায় নির্বাচনে জোটগতভাবে প্রতীক নেওয়ার বিষয়ে বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছে ইসি।
আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক এবিএম রিয়াজুল কবীর কাউসার গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর ওই চিঠি কমিশনে পৌঁছে দেন। চিঠিতে বলা হয়, ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে মহাজোটের প্রার্থী রাজশাহী-২ আসনে ফজলে হোসেন বাদশা, নড়াইল-২ আসনে শেখ হাফিজুর রহমান, সাতক্ষীরা-১ আসনে মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ এবং ঢাকা-৮ আসনে রাশেদ খান মেনন; জাসদ থেকে হাসানুল হক ইনু কুষ্টিয়া-২ আসনে, জায়েদুল কবির নরসিংদী-২ আসনে, শিরীন আখতার ফেনী-১ আসনে এবং মঈনুদ্দীন খান বাদল চট্টগ্রাম-৮ আসনে এবারের নির্বাচনে লড়বেন। এ ছাড়াও তরিকত ফেডারেশনের লায়ন এমএ আউয়াল লক্ষ্মীপুর-১ আসনে ও নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী চট্টগ্রাম-২ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবেন। নিয়মানুযায়ী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে আবেদন করতে হয়। এক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১০০ : বিএনপির ‘বর্জন’ এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) ‘প্রত্যাহার’র মধ্য দিয়ে আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ বিজয়ী প্রার্থীর রেকর্ড হতে চলেছে। গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত সারাদেশে মোট ১০০ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) এসএম আসাদুজ্জামান। এর মধ্যে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির চারজন, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জেপির দু’জন এবং ওয়ার্কার্স পার্টির একজন রয়েছেন। আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৯৩ জনের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভোটের আগেই তারা বিজয়ী হতে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত কত জন প্রার্থী ভোটে লড়বেন এবং কত জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন সেই তথ্য রাত ১০টা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি কমিশন।
তবে গত নয়টি সংসদ নির্বাচনের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাওয়া প্রার্থীর সংখ্যা। বহুল আলোচিত ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের আগেই সর্বোচ্চ ৪৯ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখনকার বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ওই নির্বাচন বর্জন করেছিল। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ে (১৯৭৩) নির্বাচনে ১১ জন, জিয়াউর রহমানের সময়ে (১৯৭৯) ১১ জন, এরশাদের সময়ে (১৯৮৮) ১৮ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৭ সালের বাতিল হয়ে যাওয়া নির্বাচনে ১৮ আসনে একক প্রার্থী ছিলেন।
প্রসঙ্গত, এবার মোট ১ হাজার ১০৭টি মনোনয়নপত্র ইসিতে জমা পড়ে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের পর বৈধ হয় ৮৮০টি। বাদ পড়া ২৬০ জনের মধ্যে ১৩৮ জন ইসিতে আপিল করেন। এরপর আপিল আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার ৪২ জনের আপিল মঞ্জুর করে ইসি।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন-আওয়ামী লীগ থেকে বন ও পরিবেশমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরোত্তম, মহাজোটের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দীন আহমেদ রাজু, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব নেওয়া প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, মহাজোট সরকারের শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, মহাজোটের সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন, আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আ হ ম মুস্তফা কামাল, নুর-ই-আলম চৌধুরী লিটন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, শামীম ওসমান, নজরুল ইসলাম বাবু, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক, দলের উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, শেখ হেলাল উদ্দীন, শেখ আফিল উদ্দীন, মোহাম্মদ নাসিম, এনামুল হক, এইচ এন আশিকুর রহমান, নসরুল হামিদ বিপু, ফজলে নূর তাপস, বেঙ্গল গ্রুপ ও আরটিভির চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম, শরীফ আহমেদ, আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন, আলহাজ মো. দবিরুল ইসলাম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, নুরুজ্জামান আহমেদ, আবুল কালাম মোহাম্মদ আহসানুল হক চৌধুরী, একেএম মাঈদুল ইসলাম, মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, সামছুল আলম দুদু, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আবদুল মান্নান, মো. হাবিবর রহমান, মো. গোলাম রব্বানী, মো. আবদুল ওদুদ, মো. ইসরাফিল আলম, ওমর ফারুক চৌধুরী, এনামুল হক, মো. আবুল কালাম, শফিকুল ইসলাম শিমুল, মো. আবদুল কুদ্দুস, হাবিবে মিল্লাত, ইসহাক হোসেন তালুকদার, তানভীর ইমাম, হাসিবুর রহমান স্বপন, কাজী নাবিল আহমেদ, মো. কবিরুল হক, মীর শওকত আলী বাদশা, তালুকদার আবদুল খালেক, আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, মো. শওকত হোসেন, আবদুল হাফিজ মল্লিক, একেএমএ আউয়াল, আমানুর রহমান খান রানা, মো. একাব্বর হোসেন, শওকত মোমেন শাহজাহান, মির্জা আজম, সোহরাব উদ্দিন, রেজোয়ান আহমেদ তৌফিক, মো. আফজাল হোসেন, নাজমুল হাসান, জাহিদ মালেক, ডা. মো. এনামুর রহমান, এমএ মালেক, আ ক ম মোজাম্মেল হক, মো. জাহিদ আহসান রাসেল, আলহাজ অ্যাডভোকেট মো. রহমত আলী, মেহের আফরোজ, নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, কাজী কেরামত আলী, মো. জিল্লুল হাকিম, মো. আবদুর রহমান, বি এম মোজাম্মেল হক, নাহিম রাজ্জাক, সৈয়দ মহসিন আলী, অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ, ড. মোহাম্মদ শামছুল হক, নিজাম উদ্দিন হাজারী, মোরশেদ আলম, একেএম শাহজাহান কামাল, আশেক উল্লাহ রফিক এবং সাইমুম সরওয়ার কমল।
জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং মো. নুরুল ইসলাম তালুকদার। জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, সালাহউদ্দিন আহমেদ মুক্তি, এইচ এন আশিকুর রহমান এবং মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে ফজলে হোসেন বাদশা।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ