Home / জাতীয় / পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ, ফাঁসির বাধা কাটল

পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ, ফাঁসির বাধা কাটল

যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। দিনের কার্যতালিকায় ৩ নম্বরে কাদের মোল্লার রিভিউ
আর এর মধ্য দিয়ে একাত্তরের হত্যা, ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লাকে সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া প্রাণদ কার্যকরের আইনি বাধাও কাটল।
‘রিভিউ’ আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা ও মূল আবেদনের ওপর দুই দিন শুনানির পর প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারকের আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেয়।
আদেশের পর রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, “বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে রিভিউ খারিজ করে দেয়ায় রায় কার্যকরে এখন আর কোনো আইনগত বাধা নেই।”
আপিল বিভাগের আদেশের পরপরই সরকার সমর্থক আইনজীবীদের উচ্ছ্বাস এবং জামায়াত সমর্থক আইনজীবীদের ােভ প্রকাশ করে মিছিল করতে দেখা যায়।
এক প শ্লোগান দেয়- ‘ক তে কাদের মোল্লা, তুই রাজাকার, তুই রাজাকার’। অন্যদিকে জামায়াত সমর্থকদের মিছিল থেকে শ্লোগান দেয়া হয়- ‘কাদের মোল্লার ফাঁসি হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’। এক পর্যায়ে দুই পরে মধ্যে ধাক্কাধাক্কিও হয়।
আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করে ‘বিজয় মিছিল’ বের হয় শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ থেকেও, যাদের আন্দোলনে ট্রাইব্যুনালের যাবজ্জীবন সাজার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপরে আপিল করার আইনি সুযোগ তৈরি হয়েছিল, আপিল বিভাগে এসেছিল ফাঁসির রায়।
বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং ফুলবাড়িয়া এলাকায় আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগও আনন্দ মিছিল বের করে।
৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাদ দেয়ার পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ সাজা বাড়িয়ে ফাঁসির আদেশ দেয়।
এর আড়াই মাসের মাথায় পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে সরকারের প থেকে মঙ্গলবার মধ্যরাতে দ কার্যকরের উদ্যোগ নেয়া হয়। পারিবারের সদস্যরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে কাদের মোল্লার সঙ্গে দেখাও করে আসেন।
কিন্তু আসামিপরে আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ সৈয়দ মাহমুদ হোসেন রাতে এক আকস্মিক আদেশে ফাঁসি কার্যকর স্থগিত করে দেন। ওই রাতেই কাদের মোল্লার পে পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করেন তার আইনজীবীরা।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার কাদের মোল্লার রিভিউ আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের ওপর চেম্বার আদালতের দেয়া স্থগিতাদেশ বহাল থাকার কথাও জানায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে শুনানি আবার শুরু হলে কাদের মোল্লার আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক এই আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন।
পরে প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন তাকে মূল আবেদনের শুনানি (অন মেরিট) শুরু করতে বলেন।
এ সময় ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, রিভিউয়ের গ্রহণযোগ্যতার (মেনটেইনেবল কি-না) বিষয়ে আদালত এখনো কোনো আদেশ দেয়নি। তার আগেই মূল রিভিউয়ের শুনানি কীভাবে হবে?
এ পর্যায়ে বিচারক বলেন, “রিভিউ মেনটেইনেবল না- এটা আমরা বলছি না। আপনি যদি বলেন এটা ‘মেনটেইনেবল’, সে বিষয়েও কোনো তর্কে যাচ্ছি না। আপনাকে অন মেরিট শুনানির সুযোগ দিচ্ছি। আপনি গ্রাউন্ড বলেন।”
এরপর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) বিষয়ে যুক্তি দিতে শুরু করেন কাদের মোল্লার আইনজীবী। তারপর রাষ্ট্রপে রিভিউয়ের বিরোধিতায় যুক্তি দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
মাঝখানে বেলা ১১টা থেকে আধঘণ্টা বিরতি দিয়ে শুনানি চলে বেলা ১১টা ৫০ পর্যন্ত। শুনানি শেষে বিচারকরা এজলাস থেকে নেমে যান। এর মিনিট দশেক পরই ‘রিভিউ আবেদন’ খারিজের আদেশ আসে।
এদিকে এই শুনানি ঘিরে সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় নেয়া হয় কড়া নিরাপত্তা। আদালতে প্রবেশের প্রতিটি ফটকেই পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন। আদালত প্রাঙ্গণের ভেতরেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যকে দেখা যায়।
সকাল থেকে সবাইকে তল্লাশি করে আদালত প্রাঙ্গণে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে। শুনানির প্রথম দিন বুধবারও নিরাপত্তার এতোটা কড়াকড়ি দেখা যায়নি।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ