Home / জাতীয় / একটি সুসংবাদের জন্য রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা!

একটি সুসংবাদের জন্য রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা!

টানা চার দিন দফায় দফায় বৈঠক শেষে সোমবার অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো আশাবাদ ব্যক্ত করলেন, সমাধান এখনো সম্ভব যদি রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা থাকে। নির্বাচনকালীন সঙ্কট সমাধানের লক্ষ্যে ঢাকায় সফররত জাতিসংঘ মহাসচিবের এ বিশেষ দূত তার পাঁচ দিন সফরকালের চতুর্থ দিনে এসে মুখ খুললেন।

সোমবার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তারানকো সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমান অচলাবস্থার অবসান হওয়া সম্ভব। তবে তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সদিচ্ছা ও সমঝোতার মনোভাব নিয়ে শান্তিপূর্ণ সংলাপের ওপর। রাজনৈতিক দলগুলোর এবং নেতাদের মধ্যে ছাড় দেয়ার মনোভাব প্রয়োজন।’

শান্তির প্রচেষ্টায় আরো কিছু বৈঠক করবেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী। এখনও শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়ার সুযোগ আছে।’

গত শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছানোর পর থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও সিইসির সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারানকো। কিন্তু সোমবার দুপুরের আগে পর্যন্ত তিনি কোথাও কোনো কথা বলেননি। এমনকি বিএনপি, আওয়ামী লীগ নেতারাও বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাচ্ছেন না।

তাই রাজনীতি বিশ্লেষকসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে জিজ্ঞাসা: শেষ পর্যন্ত কি হবে তারানকো মিশনের। গণমাধ্যমের ও নানা বিশ্লেষণে মিশনের পরিণতি নিয়ে নানা কথা বলা হচ্ছে। তার সোমবারের মন্তব্যকে খুবই ইঙ্গিতবহ মনে করা হচ্ছে। তাহলে সঙ্কটের কাঙ্ক্ষিত সমাধান কি বেরিয়ে আসছে? এটা জানার জন্য সমগ্র জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। যাই হোক মঙ্গলবার তারানকোর সফরের শেষ দিন একটি সুসংবাদ শুনতে চায় জাতি। জ্বালাও পোড়াও, আতঙ্ক নিয়ে মানুষের শ্বাসরুদ্ধ অবস্থা। চরম নিরাপত্তাহীনতায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থবির হয়ে পড়ছে ব্যবসা বাণিজ্য। এ অবস্থা চলতে পারে না।

সঙ্কট সমাধানে তারানকোর প্রচেষ্টা নিয়ে নানা মহলে নানা বিশ্লেষণ চলছে। তবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের পর এই রহস্যনাটকের অবসান হবে বলে ধারণা করছেন অনেকে।

রাজনীতি ও কূটনীতিক মহল মনে করছে, প্রথমে তারানকো সব দলের সঙ্গে কথা বলে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। সিইসির সঙ্গে প্রথম বৈঠক শেষে, ‘রাজনৈতিক সমঝোতা হলে তফসিল পেছানো সম্ভব’ এবং ‘তত্ত্বাবধায়কের’ অনড় অবস্থান থেকে সরে এসে বিএনপির নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা না থাকার তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান- এটি তারানকোর সমাধান সূত্রের আশাবাদিতার জায়গা বলে ধারণা করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে রাজনীতি বিশ্লেষক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারেক শামসুর রহমান বলেন, ‘তারানকোর তৎপরতার মাধ্যামে এটা প্রমাণিত যে, জাতিসংঘ এ বিষয়ে আন্তরিক। ফলে একটা সমঝোতা হতেই পারে।’

নির্বাচনকালীন সরকার প্রধানের ক্ষমতা কমিয়ে শেখ হাসিনার অধীনে বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না আসবে। তবে প্রধান পদে শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে রেখে কোনো সমঝোতা হলেও হতে পারে।’

তারানকোর সমাধান তৎপরতা প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান বলেন, ‘সমস্যা আমাদের প্রধান দু’দলের। এরা না পারলে জাতিসংঘও পারবে না। জাতিসংঘের এমন চেষ্টা অতীতেও বিফল হয়েছে।’

এমন পরিস্থিতিতে তারানকোর সর্বোচ্চ তৎপরতার ফলাফলের জন্য জাতিকে অপেক্ষা করতে হবে আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত। গত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত উভয়পক্ষে দুই দফা করে বৈঠক করেছেন তারানকো। সবশেষে সোমবার বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠক সারলেন। এ বৈঠকে তিনি আওয়ামী লীগের সর্বশেষ বার্তা বিএনপিকে জানিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর মঙ্গলবার তিনি বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। এর মাধ্যমেই তার বৈঠকপর্ব শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপর একটি সুসংবাদের জন্য রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা!

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ