Home / অর্থনীতি ও বানিজ্য / কমে গেছে জ্বালানি তেল ও সিএনজি বিক্রি

কমে গেছে জ্বালানি তেল ও সিএনজি বিক্রি

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা টানা অবরোধ কর্মসূচিতে রাজধানীসহ সারাদেশে সহিংসতা বাড়ছে। সেই সঙ্গে চলছে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ। বিভাগীয় ও জেলা শহরের মতো রাজধানীতেও অবরোধে যানবাহন চলাচল কমে গেছে। এর সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে হরতাল। ফলে জ্বালানি তেল ও সিএনজি বিক্রিও কমে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মালিক-শ্রমিক উভয়ই। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছাড়া প্রাইভেট গাড়ি ও বাস চলাচল প্রায় বন্ধই। রাজধানীতে ঝুঁকি নিয়ে যেসব গাড়ি চলছে তার বেশিরভাগই ডিজেল, পেট্রল বা অকটেন চালিত। এর মধ্যে ডিজেল চালিত গাড়ির সংখ্যাই বেশি। রাজধানীর মালিবাগ, খিলগাঁও, চৌধুরীপাড়া, বাড্ডা, মৎস্যভবন, রমনা, মগবাজার, কারওয়ান বাজার, সাতরাস্তা, তেজগাঁয়ে অবস্থিত বিভিন্ন রিফুয়েলিং পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, কিছু পাম্প বন্ধ আবার কিছু পাম্প খোলা থাকলেও তাতে যানবাহনের সংখ্যা খুব কম। হোটেল রূপসী বাংলার বিপরীতে অবস্থিত মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারের গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। এ ছাড়া অন্য গাড়ি নেই বললেই চলে। পাম্পের কর্মচারীরা জানান, অবরোধের কারণে রাস্তায় গাড়ি কম থাকায় তেল বিক্রিও কম হচ্ছে। গাড়ির তুলনায় এখানে মোটরসাইকেলে বেশি রিফুয়েলিং হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে দিনে সর্বোচ্চ ৭ থেকে ৯ হাজার লিটার ডিজেল ও অকটেন বিক্রি হয়। কিন্তু এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। দিনের বেশিরভাগ সময়ই তারা অলস সময় কাটাচ্ছেন।
মগবাজারের যমুনা অটোসেন্টার খোলা থাকলেও তাতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যানবাহন অনেক কম। সিএনজি অটোরিকশার লাইন ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন ছিল না। স্টেশন মালিকরা জানান, অবরোধে বিশেষ করে প্রাইভেটকার রাস্তায় কম চলাচল করায় অকটেনের চাহিদা কিছুটা কম। কিন্তু সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাকির হোসেন নয়ন বলেন, সিএনজিতে শুধু অটোরিকশা চলে না গাড়ি এবং বাসও চলে। রাজধানীর বেশিরভাগ প্রাইভেট গাড়িই এখন সিএনজিচালিত। শুধু অটোরিকশা চলার ফলে স্টেশনগুলোতে সিএনজি বিক্রি হলেও তার পরিমাণ খুব কম। তিনি জানান, প্রতিদিন দেশের সবগুলো স্টেশন মিলিয়ে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বিক্রি করে। যার দাম ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকার মতো। অবরোধের কারণে বিক্রি কমে তা অর্ধেকে নেমে গেছে। তিনি জানান, সিএনজি বিক্রি হলেও কনভার্সনের কাজ একদম বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ওয়ার্কশপগুলোর ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বেশি।
বর্তমানে দেশে ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৯টি গাড়ি সিএনজিচালিত। দেশে সিএনজি স্টেশন রয়েছে ৫৮৭টি ও কনভার্সন ওয়ার্কশপ ১৮০টি। এ খাতে প্রতিদিন সাড়ে ১১ কোটি ঘনফুট গ্যাস ব্যবহৃত হয়। যা মোট উৎপাদনের ২ শতাংশ।
বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের এক সদস্য জানান, অবরোধের আগেই অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অবরোধের বিরতির মধ্যে পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে পাম্পগুলোতে তেলের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু অবরোধের কারণে তেল কেনার মানুষই কমে গেছে। বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পেট্রল পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে অবরোধের কারণে প্রায় ৪ হাজার পাম্পই বন্ধ রয়েছে বলে তিনি জানান। রাজধানীর সবচেয়ে পুরনো পেট্রল পাম্প রমনার স্বত্বাধিকারী নাজমুল হক বলেন, প্রতিদিন এই পাম্পে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার জ্বালানি তেল বিক্রি হয়। কিন্তু এখন তা বন্ধ রয়েছে।
অবরোধের মধ্যে রাজধানীতে ঝুঁকি নিয়ে অটোরিকশা চালান মাহবুব। তিনি জানান, অবরোধের মধ্যে রাস্তায় বের হলেও যাত্রী কম। রাস্তা ফাঁকা থাকায় রিকশার চাহিদা বেশি। সিএনজি অটোরিকশার দু’পাশ বন্ধ থাকে বলেও অনেকে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে উঠতে চান না। আগুনে পোড়া, ভাঙচুরের ভয় পায়।
বাংলাদেশ ফোরস্ট্রোক সিএনজি অটোরিকশা অ্যান্ড থ্রি হুইলার মোটরবাইক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, সারাদেশে ৩০ হাজারেরও বেশি অটোরিকশা আছ্।ে একটি গাড়ি থেকে গড়ে দুই হাজার টাকা আয় হয়। এ হিসাবে এ খাত থেকে প্রতিদিন ৬০ কোটি টাকা আয় হওয়ার কথা থাকলেও আয় এখন অনেক কমে গেছে।
এদিকে তেল সরবরাহকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা, যমুনার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামগ্রিকভাবে তেল বিক্রি কমে গেছে। তবে কি পরিমাণ কমেছে তা এখনো তারা হিসাব করেননি। তেলের চাহিদা না থাকায় তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর ডিপো থেকে তেল উত্তোলনও বন্ধ রয়েছে। বিপিসি জানায়, প্রতিদিন প্রায় ১৫০টি ট্যাংক লরি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ডিপো থেকে তেল উত্তোলন করে। এসব ট্যাংক লরির ধারণ ক্ষমতা ৯ হাজার থেকে ১৪ হাজার লিটার। কিন্তু এখন প্রায় সব কাজই বন্ধ।
মহাখালীর বাস ডিপোতে গিয়ে দেখা যায়, চালকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। বাস মালিকরা জানান, কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি বের করলেও বেশিরভাগ ডিপোতে গাড়ি বসে আছে। সহিংসতার আতঙ্কে যাত্রীও কম। ফলে তেল বা সিএনজি কোনোটিই কিনতে হচ্ছে না।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ