Home / অর্থনীতি ও বানিজ্য / টানা অবরোধে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

টানা অবরোধে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

১৮ দলীয় জোটের ডাকা টানা অবরোধে সীমান্তবর্তী স্থলবন্দরগুলো দিয়ে ভারতের সাথে পণ্য বাণিজ্য অচল হয়ে পড়েছে। ফলে আমদানি-রপ্তানি কম যাওয়াতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

৩০ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা ৬ দিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার স্থলবন্দরগুলোতে আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়। আবারো ৭ ডিসেম্বর থেকে তিন দিনের অবরোধ শুরু হয়েছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে বন্দরের কার্যক্রম।

রোববার বেনাপোল ও বাংলাবান্ধা বন্দরে গিয়ে দেখা যায়, উভয় পাশে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে আছে। বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যবাহী অন্তত ২শ’ ট্রাক আটকে আছে। এসব পণ্যের অধিকাংশই শিল্পের কাঁচামাল। এর মধ্যে আছে তৈরি পোশাকশিল্পের কাপড়, রাসায়নিক, মূলধনি যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ। কয়েকটি ট্রাকে আছে পচনশীল পণ্যও। বন্দরের শেডেও পণ্য রাখার জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক মল্লিক আনোয়ার বলেন, “বন্দরে যে পরিমাণ জায়গা রয়েছে সেখানে আগামী তিন দিনের আমদানি হওয়া পণ্য রাখা যাবে। অর্থাৎ ৬শ’ ট্রাক পণ্য সেখানে রাখা যাবে। এরপর পচনশীল পণ্য ছাড়া আর কোনো পণ্যবাহী ট্রাক সেখানে রাখতে দেওয়া হবে না।”

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৩৫ হাজার টন পণ্য রয়েছে। যেখানে মোট ধারণক্ষমতা ৫০ হাজার টনের। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে রোববার পর্যন্ত ৬শ’ ট্রাক পণ্য, ৬০টি ট্রাকের চ্যাসিস ও ২০টির মতো ট্রাক্টর খালাস হয়েছে।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে নির্ধারিত সময়ে পণ্য খালাস করতে না পেরে লোকসান গুনছেন আমদানি-রপ্তানিকারকরা। আবার কাজ না থাকায় বন্দর শ্রমিকদের অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ম্যানেজার কাজী আল তারিক বলেন, “হরতাল-অবরোধের কারণে নভেম্বর মাসে এ বন্দরের কার্যক্রম চলেছে ৮ থেকে ১০ দিন। অবরোধে স্থলবন্দরের উভয় পাশে এখনো অর্ধশত ট্রাক আটকে আছে।”

জানা গেছে, ভারত ও নেপাল থেকে আসা ডাল, চাল এবং ভুষিবোঝাই প্রায় ২০টি ট্রাক স্থলবন্দরটিতে সাত দিন ধরে পড়ে আছে। ভারতীয় এসব ট্রাকের চালক-শ্রমিকের খরচসহ প্রতি ট্রাকে এক হাজার ভারতীয় রুপি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে আমদানি-রপ্তানিকারকদের। একই অবস্থা ওপারে ভারতের ফুলবাড়ী স্থলবন্দরেও। সেখানেও ২৫ থেকে ৩০টি পণ্যবোঝাই ট্রাক আটকে আছে। এতে ব্যবসায় আগ্রহ হারাচ্ছেন নেপাল ও ভারতের ব্যবসায়ীরা।

আমদানিকারক রাশেদুল বারি জানান, পরিবহন সমস্যার কারণে স্থলবন্দরের তার প্রায় দুই হাজার টন পাথর পড়ে আছে। ব্যাংক ঋণের টাকায় আমদানি করা এসব পাথর পরিবহন করতে না পারায় তিনি বসে বসে লোকসান গুনছেন।

বন্দরের কাস্টমসের সহকারী কমিশনার এস এম আরেফিন জাহেদী বলেন, “প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।”

এছাড়াও ট্রাক সংকটের কারণে ভাড়াও বেশি গুনতে হচ্ছে আমদানীকারকদের।

তারা অভিযোগ করেন, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ভয়ে মালিকরা রাস্তায় ট্রাক নামানোর সাহস দেখাচ্ছেন না। যারা ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক নামাচ্ছেন তারা ভাড়া চাইছেন তিন গুণ বেশি।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ