Home / জাতীয় / কেন্দ্র ফাঁকা, তবু ৪৩ শতাংশ ভোট!

কেন্দ্র ফাঁকা, তবু ৪৩ শতাংশ ভোট!

ভোটের আগের রাতে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সাতটি ভোটকেন্দ্রে হামলা-অগ্নিসংযোগ করা হয়। আগুন দেওয়া হয় নির্বাচনের সরঞ্জামবাহী দুটি গাড়ি ও তিনটি বাড়ির খড়ের গাদায়। ফাটানো হয় প্রচুর ককটেল ও পটকা। এসব ঘটনার পর সকালে ভোটকেন্দ্রগুলো এক রকম ফাঁকাই ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌকার সমর্থকেরা তাঁদের কিছু কর্মী-সমর্থক ভোটকেন্দ্রে আনলেও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল শূন্যের কোঠায়।

তবে রাতে নির্বাচনী অফিস থেকে জানানো হয়, এই আসনে মোট দুই লাখ ৬৬ হাজার ৭১৯ ভোটের মধ্যে এক লাখ ১৪ হাজার ৪১৯ ভোট পড়েছে যা মোট ভোটের ৪২ দশমিক ৯০ শতাংশ। এর মধ্যে রামগতিতে এক লাখ ৪২ হাজার ৪৬২ ভোটের মধ্যে ৭৭ হাজার ৩৪৭ ভোট পড়েছে। আর কমলনগরে মোট এক লাখ ২৪ হাজার ২৫৭ ভোটের মধ্যে ৩৭ হাজার ৭২টি ভোট পড়েছে। নৌকার প্রার্থী এক লাখ ৫ হাজার ৫৮১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে কারচুপির অভিযোগ এনে তিন প্রার্থীর দুজনই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। ফলে শেষ পর্যন্ত ফাঁকা মাঠে ছিল কেবল নৌকা প্রতীকের প্রার্থী।

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে স্বাধীনতার পর কেবল ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিতেছিলেন। আর এবার ওই দলের প্রার্থী নিশ্চিত জয়ের পথে। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাসা গ্রুপের পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন রামগতি পৌরসভার সাবেক মেয়র আজাদ উদ্দীন চৌধুরী (হরিণ) এবং এ কে এম শরীফউদ্দীন (ফুটবল)। লাঙ্গল প্রতীকে বেলাল হোসেন নামের একজন প্রার্থী হলেও তাঁকে একবারও এলাকায় দেখা যায়নি। এই আসনের ১০৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৩টিই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

রামগতির চর সেকান্দর শফিক একাডেমি, সেবা গ্রাম ফজলুর রহমান উচ্চবিদ্যালয়, রামগতি সদরের আলেকজান্ডার পাইলট হাইস্কুল ঘুরে কেন্দ্র প্রায় ফাঁকা দেখা গেছে। কর্মকর্তাদের অনেকে বাইরে বসে রোদ পোহাচ্ছিলেন। একটু অন্য রকম চিত্র দেখা যায় রামদয়াল হাফিজিয়া নূরানিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে। ওই কেন্দ্রে কিছু যুবককে খুব তৎপর দেখা যায়। কেন্দ্রের কর্মকর্তারা অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মী ইচ্ছামতো লোক এনে ভোট দেওয়াচ্ছেন, নিজেরাও দিচ্ছেন। ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আজাদ উদ্দীনের সমর্থকেরা চাপ দিলে রামগতির চর হাসান-হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট নেওয়া বন্ধ করে দেন কর্মকর্তারা। দুপুরে ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কর্মকর্তারা কেন্দ্র ফেলে পাশের একটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আছেন। কেন্দ্রে কোনো মানুষ নেই। কেন্দ্রের দুই পাশে আজাদের প্রায় ২০০ সমর্থক দাঁড়ানো।

কর্মকর্তারা জানান, আজাদের সমর্থকেরা ভোট গ্রহণে বাধা দিচ্ছেন। ভোট নিলে কেন্দ্রে হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়ে গেছেন। এই ভয়ে সবাই কেন্দ্রের বাইরে বসে আছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। আতঙ্কে দিনভর কোনো ভোটার আসেননি। স্থানীয় লোকজন জানান, আজাদ জলদস্যুদের আশ্রয়দাতা হিসেবে পরিচিত। হলফনামায় তিনি ৪৪টি মামলার তথ্য দিয়েছেন। এলাকার লোকজন জানান, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে। আজাদের সমর্থকেরা দুপুরে রামগতির হাটে পিটিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদের মাথা ফাটিয়ে দেন।

রামগতির ইউএনও দেলোয়ার হোসেন বলেন, দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া আবেদনপত্রের একটি করে অনুলিপি তাঁকে দিয়েছেন। তবে এজেন্ট বের করে দেওয়া বা কারচুপির কোনো অভিযোগ তাঁর কাছে সরাসরি কেউ দেননি। তবে কমলনগরের ইউএনও আবদুল আউয়াল জানান, নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে দুই প্রার্থীর কেউই তাঁকে কিছু জানাননি। কারচুপিরও অভিযোগ করেননি।

কমলনগরের নয়টি ভোটকেন্দ্রে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়ে ব্যালট বাক্সসহ কেন্দ্রের সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়েছেন। কয়েকটি কেন্দ্রের কর্মকর্তারা ভোট গ্রহণের সময় শেষ হওয়ার আগেই বেলা দুইটার দিকে ব্যালট বাক্স গণনা না করেই সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের দিকে রওনা দেন। দুজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বলেন, তাঁদের উপজেলা প্রশাসন থেকে কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে না। আর কেন্দ্রে ভোটার নেই। ভোট বন্ধের হুমকিও আসছে। তাই তাঁরা আগেই ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ