Home / জাতীয় / ভোটার বেশি দেখাতে আ.লীগ নেতা-কর্মীদের লাইন
১৮ এমপি প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন

ভোটার বেশি দেখাতে আ.লীগ নেতা-কর্মীদের লাইন

দশম জাতীয় সংসদের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। রোববার সকাল ৮ থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। এখন ভোট গণনা চলছে।

১৪৭টি সংসদীয় আসনে নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট নির্বাচন বর্জন করায় ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল না। রাজধানীর ঢাকা ৫ আসনেও ভোটারদের উপস্থিত ছিল অনেক কম।

ভোটারদের উপস্থিতি বেশি দেখানোর জন্য সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভোটার না হলেও লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

ঢাকা-৫ আসনের দনিয়ার একে উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫১, ৫২ নং কেন্দ্র। এ কেন্দ্রে দেখা গেছে, যে কজন ভোটার রয়েছেন তাদের সারি করে দাঁড় করাচ্ছেন এজেন্টরা। ভোটারের উপস্থিতি বেশি দেখাতে ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীদের
কর্মী-সমর্থকেরাও দাঁড়িয়ে গেছেন। এরপর একটি টেলিভিশন চ্যানেলের চিত্রগ্রাহক এর চিত্র ধারণ করছেন।

এসময় ভোটগ্রহণ কিছুক্ষণ স্থগিত রাখা হয়। চিত্রধারণ শেষে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লাইন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর পুনরায় ভোটগ্রহণ চলে।

এদিকে ঢাকা-৪ ও ৫ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে মহাজোট প্রার্থীর এজেন্ট, কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

তবে ঢাকা-৪ আসনের কদমতলী থানার মোহাম্মদবাগ আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৭০, ৭১নং কেন্দ্রে জাল ভোট পড়ার অভিযোগ উঠলে সরেজমিনে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে ৭০নং কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার এসএম তারিকুজ্জামান জাল ভোটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এখানে যতটুকু ভোট হচ্ছে তা খুবই শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে। ভোটার আইডি কার্ড রয়েছে ফলে জাল ভোট পড়ার প্রশ্নই আসে না।

৭১ নং কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. হাফিজুল হায়দার চৌধুরীও একই মন্তব্য করেন। এ নির্বাচনী কর্মকর্তা জানান, এ দুটি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ৬ হাজার ৭৬৩। এরমধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৪৯ এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ৩ হাজার ৩১৪।

তিনি জানান, জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে আসেনি।

এ দুটি কেন্দ্রে কদমতলী থানার এএসআই এমদাদুল হক বলেন, জাল ভোটের প্রশ্নই আসে না। ভোটাররা স্বাভাবিক নিয়মে তাদের ভোট প্রয়োগ করছেন।

তবে এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. আওলাদ হোসেনের নির্বাচনী এজেন্ট মাসুদুর রহমান বাবু অভিযোগ করেন তাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার অ্যাজেন্টরা আমাদের বলেছে ১০ মিনিটের মধ্যে এলাকা ছাড়তে। তারা (বাবলার এজেন্ট) ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে পারলেও আমাদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে আমাদের হুমকি দেয়া হচ্ছে।

তবে মহাজোট থেকে মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার এজেন্টরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, জামায়াত-বিএনপির লোকেরা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এরকম অপপ্রচার চালাচ্ছে।

ঢাকা-৪ আসনে প্রার্থীরা হলেন, মহাজোটের মনোনীত জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। তিনি লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, ড. আওলাদ হোসেন। তার প্রতীক হচ্ছে হাতি। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়।

ঢাকা-৫ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হয়েছেন, হাবিবুর রহমান মোল্লা, তরিকত ফেডারেশনের আরজু শাহ সায়দাবাদী, তার প্রতীক ‘মালা’।

এছাড়াও এ আসনে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি থেকে প্রার্থী হয়েছেন আব্দুর রশিদ সরকার। তিনি কুড়েঘর প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

এ আসনে জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থীতা করছেন, মনির হোসেন কমল। তার প্রতীক ‘বাইসাইকেল’।

ঢাকা-৪ আসনের মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ২৮ হাজার ৫১০। মোট ভোটকেন্দ্র ৭৩টি। এ আসনটি ৪৭, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪ ওয়ার্ড এবং শ্যামপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত।

ঢাকা-৫ আসনের মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ১০ হাজার ২৮৫। এ আসনের মোট ভোটকেন্দ্র ১৪৫টি। ওয়ার্ড ৪৮, ৪৯, ৫০ এবং শ্যামপুর, যাত্রবাড়ী থানার ডেমরা, দনিয়া, মাতুয়াইল এবং সারুলীয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ নির্বাচনী আসনটি।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ