Home / জাতীয় / বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণে নজিরবিহীন সাফল্য

বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণে নজিরবিহীন সাফল্য

1388684030.বিশ্ব রেকর্ড গড়ার মধ্য দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে উৎসব মুখরভাবে পালিত হয়েছে পাঠ্যপুস্তক উৎসব। খালি হাতে স্কুলে এসেছে শিক্ষার্থীরা, উৎসবের আমেজে সেখানে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে নতুন ক্লাসের বই। বিনামূল্যে বিতরণকৃত বই নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। এত বিপুল পরিমাণ বই বিনামূল্যে এত বেশি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের কোন নজির বিশ্বে নেই। সকালে রাজধানীর গভ. ল্যবরেটরি স্কুলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ স্কুলটির প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আসফিয়া আক্তার সামিয়ার হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পাঠ্যপুস্তক উৎসব’ এ বই বিতরণের উদ্বোধন করেন।
এর আগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যখন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচি হাতে নেই, তখন আমার সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবসহ সবাই বলেছিলেন, আমি পাগল হয়ে গেছি। কারণ বিশ্বের কোন ধনী দেশও এতে সংখ্যক বই বিনামূল্যে দিতে পারে না। আজ আমি মনে করি, সেদিন আমিই সঠিক পথেই ছিলাম। রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে বিপুল সংখ্যক বই সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেয়াটা বিরাট চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে ক্লাস-পরীক্ষা নেয়াটা ছিল চ্যালেঞ্জ। আগামী দ্ইু বছরের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক এবং পাঁচ বছরের মধ্যে উচ্চ শিক্ষায় ছেলে ও মেয়েদের সমতা নিশ্চিত করা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। পাঠ্যপুস্তক উৎসব সফল করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
উৎসবটি হতো গত বুধবারই। অর্থাৎ নতুন বছরের প্রথম দিন। কিন্তু আখেরি চাহার সোম্বা উপলক্ষে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকায় বুধবার আর সেটি হতে পারেনি। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই দিনই গণভবনে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রসঙ্গত, ২০১১ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বই পৌঁছানোর বিষয়টি উৎসবের আমেজে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ থেকেই শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিবসটিকে পাঠ্যপুস্তক উৎসব দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৪ শিক্ষাবর্ষে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, এবতেদায়ী, দাখিল ও কারিগরি স্তরে মোট চার কোটি ৩৩ লাখ ৫৩ হাজার ২০১ জন শিক্ষার্থীর হাতে মোট ৩১ কোটি ৭৭ লাখ ২৫ হাজার ৫২৬টি বই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে তিন কোটি ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬৭২ শিক্ষার্থীর হাতে ২৯ কোটি ৯৬ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৮টি বিনামূল্যের পাঠ্যবই এবং প্রাক-প্রাথমিক স্তরের ৬০ লাখ ১৬ হাজার ৫১৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের এক কোটি ৮০ লাখ ৪৯ হাজার ৫৮৮টি শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক সজল কান্তি মন্ডল জানান, সারাদেশে ৯০ ভাগের বেশি বই পৌঁছে গেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কিছু ট্রাক কোথাও কোথাও আটকে আছে। অস্থিরতা কেটে গেলেই বাকি বই পৌঁছে যাবে বলে তিনি জানান।
এদিকে গতকাল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার স্কুলগুলোতে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয়। ঢাকার দনিয়া বর্ণমালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে সারাদেশের মতো বই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সকালে স্কুলের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ভূঁইয়া আবদুর রহমান। উৎসবে আগত অভিভাবকরা স্কুলের ক্রমাগত উন্নতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত উইল্স লিট্ল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয় পাঠ্যবই বিতরণ উৎসব। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ কর্ণেল বাবর মোহাম্মদ সেলিম, পিএসসি প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের এই যুগান্তকারী কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানান।
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় অবস্থিত চর আলিমাবাদ এস বালিকা বিদ্যালয়ে বই উৎসব উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহ আলম মৃধা।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ