Home / লাইফস্টাইল / শত চেষ্টা করেও যে ৪টি কারণে কমছে না আপনার ওজন

শত চেষ্টা করেও যে ৪টি কারণে কমছে না আপনার ওজন

স্বাস্থ্য সচেতনতার দরুন অনেকেই ওজন কমানোর দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখা শুরু করেছেন। ডায়েট প্ল্যান ও ব্যায়ামের মাধ্যমে উচ্চতা অনুযায়ী ওজনটা ঠিক রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই। কিন্তু এত কিছুর পরও ওজন মাপার যন্ত্রটির উপর দাঁড়িয়ে হতাশ হচ্ছেন বেশিরভাগ মানুষ। ডায়েট আর ব্যায়াম করার পরও কমছে না ওজন। দোষ দিলেন ডায়েট প্ল্যান কিংবা ব্যায়ামের নিয়মের ওপর।

কিন্তু আসলেই কী কারনে এমনটি হচ্ছে তা কখনো ভেবে দেখেছেন কি?
ডায়েট ও ব্যায়ামের পাশাপাশি আনুষাঙ্গিক আরও বেশ কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো ওজন কমাতে সহায়ক। এই বিষয়গুলোতে অবহেলাই ওজন না কমার মূলে কাজ করছে। তবে জেনে নিন সেই বিষয়গুলোকে না আপনার ওজন কমার পথের বাঁধা।

রাতে না ঘুমানো কিংবা এলোমেলো ঘুমের অভ্যাস
অনেকেই মনে করেন রাত জাগলে ওজন কমে। তাই স্বাস্থ্যের পরয়া না করে একটু ওজন কমার আশায় রাত যেতে থাকা মানুষের সংখ্যাও কম নয়। অথচ রাত জাগা হচ্ছে ওজন বৃদ্ধির একটি প্রধান কারন। রাতে ঠিকমত না ঘুমালে আমাদের দেহে হজমের ক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হয়। শরীরের হরমোন সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। ডাক্তারদের মতে রাতে ঘুম না হলে দেহ খাবার ঠিক মত হজম করতে পারে না, যার কারনে ওজন বেড়ে যায়। এছাড়াও যাদের অনিদ্রা রোগ আছে তাদেরকে গভীর রাতে হালকা কিছু খাবার ও কফি খেতে দেখা যায়। এই বদ অভ্যাসটি ওজন বাড়াতে ভূমিকা রাখে। সুতরাং যদি আপনি ওজন কমাতে চান তবে রাতে না ঘুমানোর অভ্যাস পরিত্যাগ করুন। ঘুমের রুটিন তৈরি করুন। নিয়ম করে ঘুমাতে যান ও ঘুম থেকে উঠুন। বিকেল ৪টার পর পারতপক্ষে কফি খাবেন না। রাতে ঘুমাতে গেলে বিছানায় শুয়ে টিভি দেখবেন না কিংবা মোবাইল ফোন নিয়ে অযথা গুঁতোগুঁতি করবেন না। বরং বই পড়ার অভ্যাস করুন। ভালো খুব হবে।

বিষণ্ণ থাকা
ওজন কমাতে পারছেন না বলে বিষণ্ণ? দয়া করে বিষণ্ণ হবেন না। কারন বিষণ্ণতা ওজন বাড়ায়। সবার জন্য প্রযোজ্য না হলেও দুটি কারনে বিষণ্ণতা ওজন বাড়ানোতে সহায়ক। প্রথমত, বিষণ্ণতা মস্তিস্কের এক ধরনের কেমিক্যাল নিঃসরণ করে যা ক্ষুধার উদ্রেক করে। এজন্য বিষণ্ণ মানুষকে খেতে বেশি দেখা যায়। এবং দ্বিতীয়ত, বিষণ্ণতা রোগের জন্য যে ঔষধ দেয়া হয় সেগুলোও ক্ষুধার উদ্রেক করে। ফলশ্রুতিতে বেশি খাওয়া হয়। ও মুটিয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। হাসি খুশী থাকুন। আর নিতান্তই যদি বিষন্নতার কারনে খেতে হয় তাহলে স্বাস্থ্যকর কিছু খান। চকোলেট কিংবা অন্যান্য তৈলাক্ত স্নাকস বাদ দিয়ে ফল কিংবা বাদাম খান। ওজন কমবে।

না খেয়ে থাকা
অনেকেই ওজন কমানোর জন্য একবেলা খাবার না খেয়ে থাকেন। বিশেষ করে না খেয়ে থাকার জন্য তারা সকাল বেলাটাই বেছে নিয়ে থাকেন। কিন্তু এটি অত্যন্ত ভুল একটি পদক্ষেপ। এতে করে আপনার ওজন বাড়বে, কমবে না। একটানা অনেকটা সময় না খেয়ে থাকলে শরীর মনে করে খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে, তখন সে মেটাবোলিজম হার কমিয়ে দেয়।

ফলে দুপুরে বা এরপরে যাই খাওয়া হোক না কেন, সেটা সহজেই শরীরে জমে যায় কম বিপাক হারের কারণে। সকালবেলা না খেয়ে থাকবেন না কখনই। এক টুকরো পাউরুটি, কিংবা একটি আটার রুটি অথবা একটি ডিমই যথেষ্ট আপনার দুপুরের খাওয়াকে সীমিত করার জন্য। যদি এই খাবারগুলোর ওপরেও ভরসা রাখতে না পারেন তাহলে ফল খান। তবুও কোন ভাবেই একবেলা খাবার না খেয়ে থাকবেন না।

দুশ্চিন্তা করা
আপনি যখনই দুশ্চিন্তা করেন তখনই আপনার মস্তিস্ক থেকে ‘অ্যাড্রেনালাইন’ নামক একটি হরমোনের নিঃসরণ ঘটে। যা দেহে ‘করটিসোল’ নামক ক্ষুধা উদ্রেককারী হরমোন উৎপন্ন করে। ফলশ্রুতিতে তাৎক্ষণিক ভাবে তৈরি অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে নজর চলে যায়। ডায়েট প্ল্যানের কথা ভুলে অনেকেই খেয়ে থাকেন “স্ট্রেস ফ্রি ফুড” হিসাবে পরিচিত এই সব খাবার। আবা অনেকে দুশ্চিন্তায় থাকলে মদ পান করে থাকেন। এই সব কিছুই আপনার ওজন বাড়ায়। এছাড়াও পুরো সপ্তাহ কাজের চাপ ও চিন্তা নিয়ে ক্লান্ত অনেককেই ছুটির দিনে আলসেমি করে স্বাস্থ্যকর খাবার বাদ দিতে দেখা যায়। এটিও কিন্তু আপনার এতো ডায়েট ও ব্যায়ামের পরও ওজন না কমার অন্যতম কারন। অস্বাস্থ্যকর খাবার না খেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খান। আলসেমি বাদ দিন। ফল পাবেন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ